বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৫ বিলিয়ন ছাড়িয়েছে
ফাইল ফটো
দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয় বা রিজার্ভ ৩৫ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দিন শেষে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৫ দশমিক শূন্য ৫ বিলিয়ন ডলার। আইএমএফের হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩০ দশমিক ২৯ বিলিয়ন ডলার। তিন বছরের বেশি সময় পর ফের ৩৫ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করল রিজার্ভ। এর আগে ২০২২ সালের নভেম্বরের শুরুতে রিজার্ভ ৩৫ বিলিয়ন ডলার থেকে ধীরে ধীরে কমতে থাকে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, মাসের শুরুতে ২ ফেব্রুয়ারি বিপিএম৬ অনুযায়ী রিজার্ভ ছিল ২৮ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ডলার। ওইদিন গ্রোস রিজার্ভ ছিল ৩৩ দশমিক ২৪ বিলিয়ন ডলার।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বাজারের চাহিদার সাথে সামঞ্জস্য রাখায় বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার স্থিতিশীল। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব ছাড়ার দিনও স্থিতিশীল ছিল। বর্তমান সরকারের সময়ও বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার স্থিতিশীল রয়েছে। বিশেষ করে ডলারের দাম ১২২-১২৩ টাকায় স্থিতিশীল আছে। এছাড়া, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে। অন্যদিকে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়তে থাকে। ফলে মাঝে মধ্যে বাজার থেকে ডলার ক্রয় করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। যার ফলে রিজার্ভ বাড়ছে।
এদিকে, ফেব্রুয়ারি মাসের এই পর্যন্ত ১৫৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকগুলো থেকে মাল্টিপল অকশন পদ্ধতিতে এসব ডলার কিনেছে। নিলামের বিনিময় হার ছিল ১২২ টাকা ৩০ পয়সা পর্যন্ত। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুরু থেকে ফেব্রুয়ারি মাসের এ পর্যন্ত ৫৪৬ কোটি ৮৫ লাখ মার্কিন ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংক নিলামে ডলার কেনার ফলে বাজারে তারল্য বাড়ছে, আর রিজার্ভে যোগ হচ্ছে নিলামে কেনা ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ ২০২১ সালের আগস্টে সর্বোচ্চ উঠেছিল ৪৮ বিলিয়ন ডলারে। করোনা পরবর্তী সময়ে সংকট মেটাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করে। তাছাড়া, অর্থ পাচার বেড়ে যাওয়াসহ নানা কারণে ধীরে ধীরে কমতে থাকে রিজার্ভ। যা অন্তবর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ঘুরে দাঁড়িয়েছে।
ঢাকা/নাজমুল/ইভা