জমে উঠেছে আতর-টুপির বাজার
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম
অনেকে ঈদের নামাজের জন্য জায়নামাজ কিনতে এসেছেন।
রাজধানীতে ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে কেনাকাটার শেষ মুহূর্তে ব্যস্ত সময় পার করছেন নগরবাসী। পোশাক কেনা শেষ করে এখন অনেকে ছুটছেন টুপি, আতর ও জায়নামাজ কিনতে। ফলে বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় এ সব পণ্যের দোকানে ভিড় দেখা গেছে।
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামীকাল শুক্রবার (২০ মার্চ) বা শনিবার (২১ মার্চ) পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন হবে।
রাজধানীর বাইতুল মোকাররম মসজিদের উত্তর ও দক্ষিণ গেট, গুলিস্তান, পীরইয়ামিন মার্কেটের ঘিরে দুপুর থেকে ক্রেতাদের উপস্থিতি চোখে পড়ছে। দোকানে সাজানো রয়েছে রঙ-বেরঙের টুপি, বিভিন্ন সুগন্ধির আতর, তসবিহ, সুরমা ও জায়নামাজ। ক্রেতারা পণ্য হাতে নিয়ে যাচাই-বাছাই করছেন। কেউ আতরের ঘ্রাণ পরীক্ষা করছেন। আবার কেউ টুপি পরে মাপ মিলিয়ে দেখছেন। পাশাপাশি চলছে দরদামও।
বিক্রেতারা জানান, ঈদের এক সপ্তাহ আগে থেকে বিক্রি বাড়তে শুরু করেছে। তবে শেষ কয়েক দিনে তা আরো বেড়েছে। অনেকে একসঙ্গে পরিবারের জন্য একাধিক টুপি বা আতর কিনছেন।
আলিফ টুপি হাউজের বিক্রেতা রফিকুন নবী বলেন, সারা বছরই কিছু বিক্রি থাকে কিন্তু ঈদের আগে এমন ভিড় হয়। শেষ তিন-চার দিনে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়।
বাবা-মায়ের দোয়া টুপি হাউজের বিক্রেতা মো. সানাউল্লাহ বলেন, গত সপ্তাহ থেকে বিক্রি বেড়েছে। চাঁদ রাত পর্যন্ত এই চাপ থাকবে বলে তিনি আশা করেন।
ক্রেতা আরিফুল হক জানান, ঈদের নামাজ ও উৎসবকে ঘিরে টুপি, আতর ও জায়নামাজের আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। তাই নতুন পোশাকের সঙ্গে এ সব জিনিস কেনা প্রায় অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।
বায়তুল মোকাররম এলাকায় প্রায় ২০০টির মতো দোকান রয়েছে। ব্যবসায়ীরা জানান, গত বছরের তুলনায় এবার বিক্রি প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।
দাম অনুযায়ী বাজারে টুপির বৈচিত্র্যও বেশ। সাধারণ মানের টুপি ৪০-৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ভালো মানের টুপি ১০০ থেকে ১ হাজার টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। চায়না টুপি ২০০-৪৫০ টাকা এবং ভারতীয় টুপির দাম কিছুটা বেশি। এছাড়া মালয়েশিয়া, তুরস্ক ও মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানিকৃত টুপির দাম হাজার টাকার ওপরে। কিছু টুপির দাম ৫-৭ হাজার টাকাও ছাড়িয়েছে।
জায়নামাজের ক্ষেত্রেও একই চিত্র। সুতির জায়নামাজ ২০০ টাকা থেকে শুরু, আর মখমলের ৪০০-৫০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। প্রিমিয়াম বা আমদানিকৃত জায়নামাজের বিক্রি তুলনামূলক কম।
আতরের বাজারেও রয়েছে নানা ধরনের সুগন্ধি। জেসমিন, বেলি, রজনীগন্ধ্যা, হাসনাহেনা, মাস্ক সুলতানসহ বিভিন্ন নামের আতর পাওয়া যাচ্ছে। ব্যবসায়ীরা জানান, ১০০ থেকে ৫০০ টাকার ছোট বোতলের আতরের চাহিদা বেশি।
ক্রেতা আবদুন নূর বলেন, ঈদের দিন নতুন টুপি, আতর আর সুরমা ব্যবহার করে ঈদগাহে যাওয়ার আনন্দ আলাদা। তাই পরিবারের জন্য কিনতে এসেছেন।
বিক্রেতা রাসেল হোসেন বলেন, কম দামের জায়নামাজের বিক্রি বেশি। দামি পণ্যের চাহিদা তুলনামূলক কম।
সাব্বির আতর হাউজের ব্যবসায়ী আবদুল গফুর জানান, এবার বিক্রি ভালো হয়েছে। চাঁদ রাতে আরো বাড়বে। পুরান ঢাকার অনেকে তখন কেনাকাটা করতে আসেন।
ঢাকা/এএএম/বকুল