ঢাকা     রোববার   ১৪ জুন ২০২৬ ||  জ্যৈষ্ঠ ৩১ ১৪৩৩ || ২৮ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

বাজেট বাস্তবায়নে ‘গুরুত্ব’ চায় ইউরোচ্যাম  

নিজস্ব প্রতিবেদক  || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৬:৪৩, ১৪ জুন ২০২৬  
বাজেট বাস্তবায়নে ‘গুরুত্ব’ চায় ইউরোচ্যাম  

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটকে স্বাগত জানিয়েছে ইউরোপিয়ান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (ইউরোচ্যাম বাংলাদেশ)। তবে এই বাজেট বাস্তবায়নে সরকারকে গুরুত্ব দেওয়ার তাগিদ দিয়েছে সংগঠনটি। 

সংগঠনটি বলছে, এই বাজেটে বিনিয়োগ, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং কর প্রশাসনের আধুনিকায়নে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। দেশের অর্থনৈতিক রূপান্তরে এসব পদক্ষেপ ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিদেশি বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নয়নে সহায়ক হবে।

রবিবার (১৪ জুন) বাজেটের প্রাথমিক পর্যালোচনায় ইউরোচ্যাম জানিয়েছে, বহুবর্ষী করনীতি রোডম্যাপ প্রণয়ন, কর রিটার্ন ও কর ফেরত ব্যবস্থার ডিজিটালাইজেশন, রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য বন্ডেড ও শুল্কমুক্ত সুবিধা সম্প্রসারণ এবং প্রস্তাবিত ফ্রি ট্রেড জোন কাঠামো ব্যবসায়ীদের জন্য ইতিবাচক উদ্যোগ। 

এসব উদ্যোগ নীতিগত পূর্বানুমানযোগ্যতা বৃদ্ধি, ব্যবসা পরিচালনার সহজীকরণ এবং বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে ভূমিকা রাখবে।

বাজটে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার সেটিকেও ইতিবাচকভাবে দেখছে ইউরোচ্যাম। 

পাশাপাশি সরকারি বিনিয়োগ ও উন্নয়ন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর পরিকল্পনা প্রসঙ্গে ইউরোচ্যাম বলছে, এসব লক্ষ্য অর্থনীতির পুনরুদ্ধার নিয়ে সরকারের আস্থার প্রতিফলন হলেও তা অর্জনের জন্য বাস্তবায়ন সক্ষমতা বৃদ্ধি, অর্থায়নে সহজ প্রবেশাধিকার, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ এবং বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিমুখী সংস্কার জরুরি।

ইউরোচ্যাম বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক আরিক শামা বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে কর প্রশাসন, বাণিজ্য সুবিধাকরণ এবং রপ্তানি প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের জন্য বেশ কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ রয়েছে। তবে এসব উদ্যোগের সফলতা মূলত কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর নির্ভর করবে।  

সংগঠনটি জানিয়েছে, তাদের দেওয়া বেশ কয়েকটি সুপারিশ বাজেটে প্রতিফলিত হয়েছে। বিশেষ করে কর প্রশাসন সংস্কার, কর দাখিলের ডিজিটালাইজেশন, স্বয়ংক্রিয় কর ফেরত ব্যবস্থা, ঝুঁকিভিত্তিক অডিট নির্বাচন, ট্যাক্স রেসিডেন্সি সার্টিফিকেশন এবং রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য সম্প্রসারিত সুবিধাগুলো অন্যতম। 

এছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বৈদ্যুতিক যানবাহন (ইভি), তথ্যপ্রযুক্তি, সেমিকন্ডাক্টর এবং সংশ্লিষ্ট উৎপাদন খাতের জন্য প্রস্তাবিত প্রণোদনাকেও স্বাগত জানিয়েছে সংগঠনটি। 

তবে বিনিয়োগ পরিবেশ আরও উন্নত করার লক্ষ্যে ইউরোচ্যামের কিছু প্রস্তাব বাজেটে অন্তর্ভুক্ত হয়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে করপোরেট কর কাঠামোর যৌক্তিকীকরণ, বিনিয়োগে কর রেয়াত বৃদ্ধি, করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) ব্যয়ের বৃহত্তর কর-সুবিধা এবং কিছু খাতভিত্তিক কর সমন্বয়। 

এসব বিষয়ে সরকার ও বেসরকারি খাতের মধ্যে ধারাবাহিক সংলাপ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছে ইউরোচ্যাম।

ইউরোপীয় বিনিয়োগ ও বাণিজ্য অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে কাজ করে যেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানিয়েছেন ইউরোচ্যাম বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক আরিক শামা।  

ইউরোচ্যাম বলেছে, উচ্চমানের বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণে নীতিগত স্থিতিশীলতা, বাণিজ্য সুবিধাকরণ, শুল্ক ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং ট্যারিফ যৌক্তিকীকরণে গুরুত্ব অব্যাহত রাখতে হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে আরও গভীর সংযুক্তি ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য মধ্যমেয়াদি একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ প্রয়োজন।  

ঢাকা/তুহিন//

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়