ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ০৮ ডিসেম্বর ২০২২ ||  অগ্রহায়ণ ২৩ ১৪২৯

‘৪০ জনের জন্য ৪০ হাজার মেয়ের বদনাম কেন হবে?’

রায়হান হোসেন || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৮:১৭, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২   আপডেট: ১৮:১৭, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২
‘৪০ জনের জন্য ৪০ হাজার মেয়ের বদনাম কেন হবে?’

রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইডেন মহিলা কলেজে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে ক্ষুব্ধ সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তারা বলছেন, ক্যাম্পাসের গুটিকয়েক শিক্ষার্থীদের জন্য এত বছরের ঐতিহ্য বিলীন হয়ে যাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে বিভিন্ন জায়গায় তারা মুখ দেখাতে পারছেন না। এমনকি তাদের অভিভাবকরাও অস্বস্তিতে পড়ছেন।

মঙ্গলবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ৩টায় ইডেন কলেজর মূল ফটকে মানববন্ধনে এসব কথা বলেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

মানববন্ধনে স্নাতক তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী তাবাসসুম মীম রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘আমাদের ইডেন কলেজে ৪০ হাজার শিক্ষার্থী আছে। ৪০টা খারাপ মেয়ের জন্য ৪০ হাজার শিক্ষার্থীদের বদনাম হচ্ছে। আমরা কোথাও মুখ দেখাতে পারছি না। এখন আমাদের পরিবার চিন্তায় আছে, আমাদের বিয়ে দিতে পারবে কি না। কারণ, ইডেন কলেজ সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণার জন্ম নিয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।’

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া আরেক শিক্ষার্থী ফারজানা কবির চৌধুরী বলেন, ‘এখন আমাদেরকে মানুষ গালি দেয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মন্তব্যের ঘরে আমাদেরকে মেনশন দেয়। মাত্র গুটিকয়েক শিক্ষার্থীদের জন্য আমাদের আজ এই অবস্থা। যারা আমাদের কলেজের এই বদনাম করেছে, তাদের উপযুক্ত শাস্তি দাবি করি।’

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী রোকেয়া আক্তার বলেন, ‘কিছু রাজনৈতিক আপুর জন্য আমাদের আজ দুর্নাম হচ্ছে। কোথাও মুখ দেখাতে পারছি না। কলেজ প্রশাসনের কাছে দাবি জানাচ্ছি, যারা আমাদের কলেজের সম্মান নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।’

সম্প্রতি ইডেন কলেজে ছাত্রলীগের সংঘর্ষ নিয়ে চার সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করেছে কলেজ প্রশাসন। মঙ্গলবার গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কলেজের অধ্যক্ষ সুপ্রিয়া ভট্টাচার্য।

অধ্যক্ষ জানিয়েছেন, কমিটির চারজনই শিক্ষক। ঘটনা তদন্ত করে তাদের দ্রুত রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। কলেজ ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত। শিক্ষার্থীরা নির্বিঘ্নে চলাচল করছে। এই পরিবেশ বজায় রাখতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন অধ্যক্ষ।

উল্লেখ্য, ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি তামান্না জেসমিন রীভা ও সাধারণ সম্পাদক রাজিয়া সুলতানার কিছু অনুসারী সংগঠনটির সহ-সভাপতি জান্নাতুল ফেরদৌসকে হেনস্তা করে। সংগঠনের দুই গ্রুপের মুখোমুখি অবস্থানের কারণে শনিবার মধ্যরাত থেকে রোববার সারা দিন উত্তপ্ত ছিল কলেজ ক্যাম্পাস। বিরোধী পক্ষ রোববার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে ক্যাম্পাসে অবাঞ্চিত ঘোষণা করে এবং বহিষ্কার দাবি করে। একই দিন সন্ধ্যার আগে কলেজ মিলনায়তনের সামনে সংবাদ সম্মেলন করতে গেলে প্রতিপক্ষের সঙ্গে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পক্ষের সংঘর্ষ বাঁধে।

রায়হান/রফিক

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়