‘বিয়ে-বিচ্ছেদ একান্তই ব্যক্তিগত বিষয়’
সাদিয়া জাহান প্রভা
একসময় টেলিভিশন পর্দায় তার উপস্থিতি মানেই ছিল আলাদা এক আকর্ষণ। নীরব চোখ, সংযত অভিব্যক্তি আর সাবলীল অভিনয়ে দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছিলেন সাদিয়া জাহান প্রভা। আলোচনায় যেমন ছিলেন কাজের জন্য, তেমনই ব্যক্তিজীবন নিয়েও বারবার উঠে এসেছে তার নাম। তবে সব আলোচনার মাঝেও নিজের একটা স্পষ্ট সীমারেখা তিনি বরাবরই টেনে রেখেছেন।
২০০৫ সালে মেরিল সোপের একটি বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে অভিনয়জগতে পথচলা শুরু প্রভার। বিজ্ঞাপনে পরিচিতি পাওয়ার পর নিয়মিত নাটকে অভিনয় করে অল্প সময়েই জনপ্রিয়তা অর্জন করেন তিনি। মাঝে মধ্যে চলচ্চিত্রে কাজের গুঞ্জন শোনা গেলেও টেলিভিশন নাটকই ছিল তার মূল পরিসর। বর্তমানে নিয়মিত না হলেও মাঝেমধ্যে পর্দায় হাজির হন এই অভিনেত্রী।
সম্প্রতি ফেসবুক লাইভে ভক্তদের সঙ্গে সরাসরি আড্ডায় অংশ নেন প্রভা। শুরুতেই তিনি সবাইকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানান। তবে অকপটে বলেন, “সামাজিক রীতির কারণেই এমন শুভেচ্ছা জানানো হয়, ব্যক্তিগতভাবে বিষয়টি খুব একটা পছন্দ নয়।
শুভকামনা যেকোনো সময়ই জানানো যায়, তবে সৌজন্যের খাতিরেও অনেক কিছু করতে হয়—সেটা তিনি বুঝতে পারেন বলেও জানান প্রভা।
লাইভ চলাকালে কাজ ও ব্যস্ততা নিয়ে প্রশ্নে স্বাচ্ছন্দবোধ করলেও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে প্রশ্ন আসতেই কিছুটা অস্বস্তি প্রকাশ করেন তিনি। বিশেষ করে বিয়ে প্রসঙ্গে প্রশ্ন শুরু হলে বিষয়টি এড়িয়ে যেতে চান। একপর্যায়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে বলেন, “বিয়ে, সন্তান, বিচ্ছেদ—এসব একান্তই ব্যক্তিগত বিষয়। এ ধরনের প্রশ্ন করা শালীনতার মধ্যে পড়ে না। প্রত্যেক মানুষের জীবন আলাদা। আল্লাহ যেদিন যা লিখে রেখেছেন, সেদিন সেটাই হবে। আল্লাহ চাইলে অবশ্যই বিয়ে হবে।”
প্রসঙ্গত, ২০১০ সালের ১৯ আগস্ট নাট্যপরিচালক চয়নিকা চৌধুরীর ‘পালিয়ে বিয়ে’ নাটকের শুটিং করতে গিয়ে অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্বর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান প্রভা। পরে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তবে সেই সংসার বেশিদিন স্থায়ী হয়নি, শেষ পর্যন্ত বিচ্ছেদ ঘটে দুজনের। বিচ্ছেদের পর দীর্ঘ সময় আড়ালে থাকলেও, সময়ের ব্যবধানে আবারও অভিনয়ে ফিরেছেন তিনি, যদিও বেছে বেছে কাজ করছেন।
ঢাকা/রাহাত/শান্ত