নাহিদকে টিভিতে দেখেই মনে ধরেছিল পাকিস্তানের কোচের
সরল স্বভাবের নাহিদ রানা ঘণ্টা দুয়েক আগে গতির ঝড় তুলে যে কারিশমা দেখিয়েছেন তাতে মুগ্ধ হয়েছেন পাকিস্তানের কোচ মাইক হেসন। ৫ ওভারের স্পেলে পাকিস্তানের টপ ও মিডল অর্ডার এলোমেলো করেছেন ৫ উইকেট নিয়ে। তার ওই ধাক্কায় পাকিস্তানের প্রথম ওয়ানডেতে একশর নিচে অলআউট হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। লেজের ব্যাটসম্যানদের লড়াইয়ে তারা শেষ পর্যন্ত করতে পারে কেবল ১১৪ রান। বাংলাদেশ ১৫.১ ওভারে ওই রান তাড়া করে ম্যাচ জিতে নেয় ৮ উইকেট হাতে রেখে৷
জয়ের নায়ক নাহিদ রানাকে প্রশংসায় ভাসিয়ে মাইক হেসন ম্যাচ শেষে বলেছেন, ‘‘উইকেট ভালোই ছিল। তবে নাহিদ রানা ছিল অসাধারণ। সে ম্যাচে আসার আগ পর্যন্ত আমরা মোটামুটি ভালোভাবেই এগোচ্ছিলাম। কিন্তু সে খেলাটার মোড় ঘুরিয়ে দেয়। সে উইকেটে বল করেছে, গতি ব্যবহার করে ভ্যারিয়েশন ও বাউন্স তৈরি করেছে- যা তার গতির কারণে সম্ভব। আর আমরা সেটার জবাব ঠিকভাবে দিতে পারিনি, যেভাবে দেওয়া দরকার ছিল। তাই পুরো কৃতিত্বই তাকে দিতে হবে।’’
আরেক প্রশ্নের উত্তরে হেসন যোগ করেন, ‘‘দেখুন, এমন গতি তো ব্যাটসম্যানদের প্রায়ই মোকাবিলা করতে হয়। কিন্তু আমার মনে হয়েছে, সে খুব ভালো জায়গায় বল করেছে। সে ছিল আক্রমণাত্মক এবং দারুণ কিছু বাউন্সারও করেছে। সত্যি বলতে, সে যেটা অর্জন করেছে, সেটার পুরোই প্রাপ্য। আমার কাছে মনে হয়েছে, সে খুব ভালো বোলিং করেছে।’’
বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতিশীল এই পেসারকে বিপিএলেই দেখেছিলেন হেসন। টিভিতে নিয়মিত বিপিএলে চোখ ছিল তার। এবার ডানহাতি পেসারকে টানা ৭ ওভারের স্পেল করতে দেখেছেন। উইকেট পেতে দেখেছেন ৫টি। গতি, বাউন্সার ও শর্ট বলে পরীক্ষা নিতে দেখেছেন ব্যাটসম্যানদের।
টিভির থেকেও নাহিদকে সামনাসামনি দেখে বেশি মনে ধরেছে পাকিস্তানের কোচের, ‘‘আসলে তাকে আমি এই প্রথমবার সরাসরি বোলিং করতে দেখলাম। টিভিতে অবশ্য অনেকবার দেখেছি। আমার মনে হয়েছে সে খুব সুন্দরভাবে বোলিং করেছে, এমনকি ওয়ার্ম-আপেও তার রিদম ভালো লাগছিল। সে উইকেটে জোরে বল করে, ভালোভাবে সিম প্রেজেন্ট করে এবং মাঝে মাঝে ক্রস-সিমও ব্যবহার করে। আমার কাছে সে খুবই সম্ভাবনাময় একজন বোলার মনে হয়েছে। আর আজ তো সে ওয়ানডেতে ৫ উইকেট নিয়েছে- যা সত্যিই বিশেষ একটা পারফরম্যান্স। তাই সে যে স্বীকৃতি পাচ্ছে, তার পুরোই সে প্রাপ্য।’’
ঢাকা/আমিনুল