অভিনেতা সায়কের বিরুদ্ধে স্যান্ডির যৌন হেনস্তার অভিযোগ
সায়ক চক্রবর্তী, স্যান্ডি সাহা
কয়েক দিন আগে ভারতীয় বাংলা সিনেমা ও টিভি সিরিয়ালের অভিনেতা সায়ক চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে এক শিশুশিল্পীকে যৌন হেনস্তার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর ক্ষমাও চান এই অভিনেতা। এবার সায়কের বিরুদ্ধে একই অভিযোগ তুললেন টলিউড অভিনেতা-ইউটিউবার স্যান্ডি সাহা।
ভারতীয় গণমাধ্যমে স্যান্ডি সাহা বলেন, “ও যেটা করেছে আমি তা সমর্থন করিনি। এতদিন ও আমার ভালো বন্ধু ছিল। বন্ধু বলব না, আমাদের মধ্যে অনেক ঝগড়া-ঝাটিও হয়েছে। যাইহোক, আমি একটা রোস্টিং ভিডিও করেছিলাম। কারণ ঘটনাটি আমি সমর্থন করিনি। আর এ কারণে ও আমাকে ব্লক করে দিয়েছে। এর আগেও একবার ব্লক করা হয়েছিল; সেবার আমি ওকে ব্লক করেছিলাম। এটা দ্বিতীয়বার।”
যৌন হেনস্তার অভিযোগ তুলে স্যান্ডি বলেন, “প্রথমবার ব্লক করার কারণ খুব ব্যক্তিগত ছিল। তা নিয়ে আমি কখনো কোথাও কথা বলিনি। আজ সত্যিটা বলে দিতে চাইছি, যেহেতু তোমরা (মিডিয়া) আছো। একটি ভিডিওর শুটিং করতে আজ থেকে ৩-৪ বছর আগে ওর বাড়িতে গিয়েছিলাম। শুটিংয়ের পর ও আমাকে সেক্সুয়ালি হ্যারাজ করেছিল, আমাকে যৌন হেনস্তা করেছিল। এ ঘটনার পর আমি ওকে ব্লক করেছিলাম।”
এত বছরের পুরোনো ঘটনা এখন কেন সামনে আনলেন? এ প্রশ্নের ব্যাখ্যা দিয়ে স্যান্ডি সাহা বলেন, “এই ঘটনাটা কখনো বলিনি। আমি তখন হয়তো লাইভেও আসতে পারতাম। কিন্তু সেই মুহূর্তে স্বীকার করিনি। কারণ ভেবেছিলাম ও হয়তো নেশা করে ভুল করে ফেলেছে। কিন্তু এখন সব সত্যিগুলো সামনে আসছে, আমার মনে হলো, ঘটনাটি বলে দেওয়া উচিত। সেই ট্রমাটিক দিনটার কথা কখনো ভুলতে পারিনি, আমাকে তাড়া করে বেড়ায়। এরপর আমার কাছে ও অনেকবার ক্ষমাও চেয়েছিল।”
বিষয়টি আরো ব্যাখ্যা করে স্যান্ডি সাহা বলেন, “তখন কোনোরকম স্টেপ নিতে পারিনি। কারণ আমিও খুব নেশাতে ছিলাম। ফলে ও রীতিমতো ফায়দা উঠিয়েছে। ওর যেহেতু অনেক চেনাজানা আছে, তাই আমি একটু ভয়ও পেয়েছিলাম। সেই সময়ে মানুষ হয়তো আমার কথা বিশ্বাসও করত না। কারণ টিভির কারণে ওর একটা সো কলড ‘গুড ইমেজ’ ছিল। আর আমাকে তো কেউ সিরিয়াসলি নেয় না, আমি মজার মজার ভিডিও করি। তাই আমি যদি তখন বলতাম, মানুষ আমাকে মিথ্যেবাদী বলত। আর এখন তো শোনা যাচ্ছে, ও নাকি কোন শিশুশিল্পীকে যৌন হেনস্তা করেছিল।”
আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা উল্লেখ করে স্যান্ডি সাহা বলেন, “পুরো আধঘণ্টা ধরে ও আমাকে রীতিমতো অত্যাচার করেছিল। এই ঘটনা আমি আজকে বললাম। এরপর আমি এটা নিয়ে আইনি পদক্ষেপ নিতেও বাধ্য হবো। কারণ নেশার ঘোরে করেছে, আমি স্ট্রং, ওই ট্রমাটা হয়তো কাটিয়ে উঠতে পারব। কিন্তু আমাকে ওটা এখনো তাড়া করে বেড়ায়। এ ঘটনার পর কয়েকদিন কথাও বলতে পারিনি।”
ঢাকা/শান্ত