ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ||  মাঘ ২২ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

চবিতে পাচার হওয়া ২ লক্ষাধিক টাকার কাঠ জব্দ

চবি প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৫:১৭, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬  
চবিতে পাচার হওয়া ২ লক্ষাধিক টাকার কাঠ জব্দ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) পাহাড়ি ঝিরিপথ দিয়ে অভিনব কৌশলে বিপুল পরিমাণ কাঠ পাচার করেছে একটি পাচারচক্র। তবে পরবর্তীতে অভিযান চালিয়ে পাচার হওয়া কাঠগুলো জব্দ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা দপ্তরের সদস্যরা।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বোটানিক্যাল গার্ডেন সংলগ্ন পাহাড়ি ঝিরি দিয়ে ভেসে আসে ৭৬ টি গাছের গুঁড়ি। পরে সেগুলো বুধবার রাত সাড়ে ৯টায় জব্দ করা হয়। সেগুন, গামারি গাছসহ, যেগুলোর বাজারমূল্য আনুমানিক ২ লক্ষ টাকার উপরে।

আরো পড়ুন:

শীতের শেষের দিকে নালায় স্রোতের পানি না থাকায় বাধ দিয়ে পানি জড়ো করে একসাথে ছেড়ে 'হড়কা বান' সৃষ্টি করে এসব গাছ পাচারের চেষ্টা করেছে একটি চক্র।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় গাছ ভেসে আসতে দেখে কয়েকজন শিক্ষার্থী। দেখতে পেয়ে ভিডিও করে 'চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার' নামক গ্রুপে পোস্ট করেন মো. মিঠু ইসলাম নামের একজন শিক্ষার্থী। খবর পেয়ে রাত ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা বাহিনী সেখানে গেলে ঝিরিতে পানি একেবারে কম দেখা যায়। পরবর্তীতে ঝিরিপথ ধরে কিছুক্ষণ সামনে গেলে 'ইনস্টিটিউট অব ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস' সংলগ্ন এলাকায় বাঁশ বাগানের পেছনের ঝিরি থেকে কাঠগুলো জব্দ করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, পাচারকারীরা ছড়ার উজানে কৃত্রিম বাঁধ দিয়ে পানি জমিয়ে রেখেছিল। পরে সেই বাঁধ ছেড়ে দিয়ে পানির তীব্র স্রোত তৈরি করে কাঠের টুকরোগুলো ভাটির দিকে ভাসিয়ে দেয়। মূলত পরিবহন জটিলতা এড়াতে এবং লোকচক্ষুর আড়ালে কাঠ সরাতে এই কৌশল অবলম্বন করা হয়।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত নিরাপত্তা দপ্তরের সুপারভাইজার শাহেদুল ইসলাম বলেন, “ফেসবুকে ভিডিওটি দেখে আমরা তাৎক্ষণিক অভিযানে নামি। প্রায় ২ কিলোমিটার সামনে অগ্রসর হয়ে আমরা ৭৬টি কাঠের টুকরো উদ্ধার করি। যেগুলোর বাজারমূল্য আনুমানিক ২ লক্ষ টাকার উপরে। প্রশাসনের নির্দেশে রাতে পাহারা জোরদার করা হয়েছে। পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অধ্যাপক ড. হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী বলেন, “গাছের গুঁড়ির প্রকৃত মালিক এখন পাওয়া যায়নি। গাছের গুড়িগুলো জব্দ করা হয়েছে এবং ঘটনাস্থলে নিরাপত্তাকর্মী নিয়োজিত আছে।”

তিনি আরো বলেন, “গাছগুলো মূলত আসে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে থেকে এবং এগুলো কাটার জন্য বনবিভাগের অনুমতি প্রয়োজন। সুনির্দিষ্ট মালিক এবং ক্লিয়ারেন্সের প্রমাণ না পাওয়া গেলে জব্দ করা গাছের গুড়িগুলো নিলাম কমিটির সঙ্গে বৈঠক করে নিলামে তোলা হবে।”

ঢাকা/মিজানুর/জান্নাত

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়