ঢাকা     সোমবার   ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ||  মাঘ ২৬ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

আমি মরার পর ফুল চাপা দিয়ে যেন বিদায় করে: স্বস্তিকা

বিনোদন ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১২:২৭, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   আপডেট: ১২:২৯, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
আমি মরার পর ফুল চাপা দিয়ে যেন বিদায় করে: স্বস্তিকা

ফুল আর স্মৃতিতে মুগ্ধ স্বস্তিকা মুখার্জি

পরনে নীল রঙের রেশমের শাড়ি। কপালে লাল রঙের বড় টিপ। কানে দুল, গলায় নেকলেস। চুলের খোপা থেকে উঁকি দিচ্ছে রঙিন ফুল। আর চোখে-মুখে বয়ে যাচ্ছে হাসির ঢেউ। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা কয়েকটি স্থিরচিত্রে এমন লুকে ধরা দিয়েছেন স্বস্তিকা মুখার্জি। তার এই সাজপোশাক নিয়ে অন্তর্জালে বিস্তর আলোচনা চলছে। 

সাজগোজের প্রথাগত সংজ্ঞা বদলে দিতে বরাবরই সিদ্ধহস্ত স্বস্তিকা। এবার বোলপুরের এক বন্ধুর বিয়েতে যাওয়ার জন্য এমন সাজে সেজেছিলেন তিনি। তবে এই সাজের নেপথ্যে বিলাসিতা নয়, মিশে আছে—একরাশ নস্টালজিয়া আর মায়ের প্রতি গভীর অনুরাগ ও আত্ম উপলদ্ধি। 

আরো পড়ুন:

স্বস্তিকা মুখার্জি বলেন, “বন্ধুর বিয়ে, ভরপুর সাজুগুজু চাই-ই চাই। আমলি থেকে টোটো নিয়ে গেলাম বিয়েবাড়ি, পছন্দ মতন ফুল তো পাওয়া যাচ্ছে না। টোটোদাদাকে জিজ্ঞেস করলাম, মাথায় লাগানোর ফুল কোথায় পাই? বললেন, বাজারে যেতে হবে দিদি, সে অনেকটা পথ আর উল্টো দিকে। আমার বন্ধু যার সঙ্গে বিয়েবাড়ি গেলাম তাকে বললাম, তুই ডান দিকে খোঁজ, আমি বাঁ দিকটায় দেখি, ফুল গাছ দেখতে পেলেই লাফ মারব।” 

পরের ঘটনা বর্ণনা করে স্বস্তিকা মুখার্জি বলেন, “আমার বন্ধুর বাড়ি বোলপুরে। সে বলল, এখানে আদিবাসী মেয়েরা মাথায় দেয় একরকম ফুল, পলাশের মতন রং, কিন্তু পলাশ নয়, ওটা বেশ হবে। বলতে না বলতেই দেখি একটা দেওয়াল বেয়ে সূর্যের আলোর রঙের ফুল থোকা থোকা হয়ে ঝুলছে। ঝপ করে টোটো থামিয়ে ফুল পেড়ে, ব্যাগে রাখা কাঁটা বের করে সঙ্গে সঙ্গে মাথায় পুট; মানির অয়েল পুটের মতন। গন্তব্য স্থলে পৌঁছে, টোটোর আয়নায় দেখে নিই ফুলগুলো ঝড়ে পড়ছে কিনা, তারপরই হাঁটা দিলাম। কী আদুরে নরম অপূর্ব ফুলগুলো। হাত লাগলেই ঝরে পড়ছে। হোটেলে ফিরে যত্ন করে মাথা থেকে খুলে বিছানার পাশে রাখলাম।”

মাকে নিয়ে স্মৃতিকাতর স্বস্তিকা বলেন, “মায়ের মতন দেখতে লাগতে হবে—সিল্কের শাড়ি পরে গায়ে আঁচল দিলে আরো মনে হয়, মা কী সুন্দর মাথায় ফুল দিয়ে, ওপরে বা ঘাড়ের কাছে আলতো খোঁপা করে, কপালে উঁচু করে বড় টিপ পড়ত। মাকেই কপি করে চলেছি, আর চলব-ও। বোন সার্টিফিকেট দিয়ে দিলেই ব্যাস, আমার ইচ্ছেপূরণ।”  

স্বস্তিকা তার অন্তিম বিদায়ে ফুল চান। এই ইচ্ছার কথা পরিবারের সদস্যদের জানিয়েও রেখেছেন। এ অভিনেত্রীর ভাষায়—“বাড়ির সবাইকে বলে রেখেছি, আমি মরে গেলে আর কিছু হোক না হোক, ফুল দিয়ে যেন চাপা দিয়ে আমায় বিদায় করে। ওরা আমার নিত্য দিনের সঙ্গী, আমার সঙ্গে ওদের নিবিড় সম্পর্ক।”

যত্ন পেলে সবই থাকে বলে বিশ্বাস করেন স্বস্তিকা মুখার্জি। তার মতে—“শাড়িটার বয়স আমার মেয়ের চেয়েও বেশি, ২৭ বছর হবে। পার্ক স্ট্রিটের এক দোকান থেকে মা কিনে দিয়েছিল। যত্ন করে রাখতে পারলে, আর যত্ন করে রাখতে দিলে, সব থাকে। শাড়ি হোক বা জীবন।”

ঢাকা/শান্ত

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়