ঢাকা     বুধবার   ২২ এপ্রিল ২০২৬ ||  বৈশাখ ৯ ১৪৩৩ || ৪ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

মায়ের মতো পৃথিবীকে বাঁচানোর আহ্বান মাহবুবুল খালিদের

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৩:০৭, ২২ এপ্রিল ২০২৬   আপডেট: ১৩:২৯, ২২ এপ্রিল ২০২৬

মহাবিশ্বে শুধু পৃথিবীতেই প্রাণ আছে বলে এখন পর্যন্ত প্রমাণ পাওয়া গেছে। বিচিত্র এই পৃথিবীতে ১০ লাখ ২০ হাজার প্রজাতির প্রাণীর তথ্য নথিভূক্ত করেছেন বিজ্ঞানীরা। এটাই মানুষের শিকড়, বেঁচে থাকার মূল অবলম্বন। অথচ মানুষই নানাভাবে পৃথিবীকে বাস অযোগ্য করে তুলছেন। সেই উপলব্ধি থেকেই কবি, গীতিকার ও সুরকার মাহবুবুল খালিদ রচনা করেছেন ‘ধরিত্রী মা’ শিরোনামে একটি গান।

“ওগো আমার ধরিত্রী মা/ তুমি ঠাঁই দিয়েছো আঁচল তলে/ (মা) তোমার চোখে জল জমেছে/ আজি মুছে দিবো সবাই মিলে॥/ তোমার পুণ্য আঁচল ছিন্ন হলে/ ভিজবে গো মা তোমার ছেলে/ ঐ রবিকরের নীল আলোতে/ মরবে সবাই জ্বলে জ্বলে।/ সত্যি যদি তাই ঘটে গো মা—/ মা, কে তোমারে ডাকবে মা মা বলে॥/ বর দিয়ে যাও বিশ্ব মা গো/ সন্তান যেন সুখে থাকে গো আমার/ স্বর্গ থেকে সেই বারতা/ আমি পাই যেন বার বার।/ নইলে মা গো বৃথাই আমার স্বর্গ পাওয়া,/ আমি পুড়বো জ্বলে মা—/ স্বর্গেও মা গো পুড়বো আমি নরকানলে, জ্বলে জ্বলে॥”—এমন আবেগঘন কথামালায় গানটি সাজিয়েছেন গীতিকবি মাহবুবুল খালিদ।

আরো পড়ুন:

গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন অবন্তী সিঁথি, সংগীতায়োজন করেছেন রোমান রহমান। ‘বিশ্ব ধরিত্রী দিবস’ উপলক্ষে বুধবার (২২ এপ্রিল) মুক্তি পেয়েছে গীতিকবির নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম ও ‘খালিদ সংগীত’-এর ইউটিউব ও ফেসবুক পেজে।   

গানটির মূল সুরে রয়েছে গভীর এক প্রতীকী—ধরিত্রীকে মায়ের রূপে দেখা। একজন মা যেমন সন্তানের জন্য আঁচল বিছিয়ে দেন, পৃথিবীও তেমনই তার বুকে আশ্রয় দিয়েছে মানুষসহ অগণিত প্রাণকে। কিন্তু মানুষের অবহেলা, পরিবেশ দূষণ ও নির্বিচার কর্মকাণ্ডে সেই ‘আঁচল’ আজ ক্ষতবিক্ষত। ফলে প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট হয়ে মানবজাতিই হুমকির মুখে পড়ছে। 

এ গানের কথায় উঠে এসেছে সেই সতর্কবার্তা—যদি এই ধ্বংসযজ্ঞ থামানো না যায়, তবে তার ভয়াবহ পরিণতি থেকে রক্ষা পাবে না কেউই। তাই কোরাসে গীতিকার আহ্বান জানিয়েছেন, সবাই মিলে ধরিত্রী মায়ের চোখের জল মুছে দেওয়ার, অর্থাৎ পৃথিবীকে রক্ষায় সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়ার। 

মহাবিশ্বে এখন পর্যন্ত প্রাণের অস্তিত্ব পাওয়া একমাত্র গ্রহ পৃথিবী। এই গ্রহই মানুষের বেঁচে থাকার একমাত্র ভরসা। অথচ শিল্প বিপ্লবের পর থেকে মানুষের নানা কর্মকাণ্ডে পরিবেশের যে ক্ষতি হয়েছে, তা আজ বৈশ্বিক উষ্ণায়নের মতো সংকটকে সামনে এনে দাঁড় করিয়েছে। ‘ধরিত্রী মা’ গানটিতে সেই বাস্তবতাই স্মরণ করিয়ে দিয়ে জনসচেতনতা তৈরির প্রয়াস নিয়েছেন মাহবুবুল খালিদ। 

দেশের সংগীত ও সাহিত্যাঙ্গনের স্বতন্ত্র সৃষ্টিশীল নাম মাহবুবুল খালিদ। সমাজ, মানুষের জীবনসংগ্রাম, বেদনা ও সম্ভাবনার ভেতর থেকেই তিনি তার সৃষ্টির উপাদান খুঁজে নেন। তার লেখায় বারবার ফিরে আসে মানবিক দায়বদ্ধতা ও পরিবর্তনের আহ্বান। দেশপ্রেম, প্রকৃতি, ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষঙ্গ থেকে শুরু করে প্রেম-বিরহ কিংবা আধ্যাত্মিক ভাবনা—সব ক্ষেত্রেই তার সৃষ্টিশীলতা সমানভাবে বিস্তৃত। 

‘আদুরি’, ‘ফেলানীরে করল গুলি’, ‘মাগুরার ফুল’, ‘আর নয় অগ্নিশিখা ধ্বংসলীলা’সহ অসংখ্য গান রচনা করেছেন মাহবুবুল খালিদ। সম্প্রতি তার লেখা ও সুরে প্রকাশিত প্রায় দুই ঘণ্টা দৈর্ঘ্যের ‘ঘুম থেরাপি এনথেম’ গানটিও আলোচনায় এসেছে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ হিসেবে। বাংলা ছাড়াও ইংরেজি ভাষায় তার গান শ্রোতাদের প্রশংসা কুড়াচ্ছে। 

‘ধরিত্রী মা’ শুধু একটি গান নয়—এটি এক ধরনের দায়বোধের ডাক, যা মনে করিয়ে দেয়, পৃথিবীকে বাঁচানো মানেই নিজেদের ভবিষ্যৎকে বাঁচানো।

ঢাকা/রাহাত/শান্ত

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়