স্প্রেড হার কমিয়েছে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো
ইভা || রাইজিংবিডি.কম
ব্যাংক (ফাইল ফটো)
তানজিনা ইভা
ঢাকা, ১ জানুয়ারি : ব্যবসা ধরে রাখতে, ব্যাংক ঋণ ও আমানতের মধ্যকার সুদহারের ব্যবধান (স্প্রেড) হার কমিয়েছে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন উদ্যোক্তার অভাব, রাজনৈতিক অস্থিরতার বিনিয়োগ নেই। আর ব্যাংকে অলস টাকা থাকা সত্বেও ব্যাংকগুলো তাদের ব্যবসা ধরে রাখতে স্প্রেড হার কমিয়েছে।
এ বিষয়ে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ-সিপিডির ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য রাইজিংবিডিকে বলেন, ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগের জায়গার অভাব। তাদের ব্যবসা ধরে রাখতে হলে অবশ্যই স্প্রেড হার কমাতে হবে। অন্যথায় ব্যাংকগুলোর ব্যবসা ধরে রাখা কষ্টসাধ্য হবে।
তিনি আরো বলেন,এখন রাষ্ট্রীয় খাতের বিনিয়োগের দূর্বল অবস্থা। গত অর্থবছরের প্রথম চার মাসে, যেখানে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বাস্তবায়ন হয়েছিল ২০ শতাংশের মতো, সেখানে এবার বাস্তবায়ন হয়েছে ১৫ শতাংশ। রাজনৈতিক অস্থিরতায় অর্থনীতির যে ক্ষতি হচ্ছে তা পূরণ করা কষ্টসাধ্য হবে বলে মন্তব্য করেন এ অর্থনীতিবিদ।
এদিকে নভেম্বর শেষে সব ব্যাংকের স্প্রেড হার কমে দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৯৭ শতাংশ। তবে এ স্পেড হার মানছে দেশি বিদেশি ২৩ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
২৩ টি ব্যাংকের স্প্রেড পাঁচ শতাংশের উপরে রয়েছে। সবচেয়ে বেশি সুদ আদায় করছে স্টান্ডার্ড চাটার্ড ব্যাংক। ব্যাংকটির স্প্রেড হার ১০ দশমিক ২১ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক। ব্যাংকটির স্প্রেড হার দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৩৩ শতাংশ।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সূত্রমতে দেশে কর্মরত ব্যাংকগুলোর মধ্যে বিদেশি মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর স্প্রেড হার সবচেয়ে বেশি। বিদেশি ব্যাংকের গড় স্প্রেড ৮ দশমিক ৪৪ শতাংশ। অক্টোবর শেষে স্প্রেড হার ছিল ৮ দশমিক ৪৮ শতাংশ। নভেম্বর শেষে সবচেয়ে বেশি সুদ আদায় করেছে স্টান্ডার্ড চাটার্ড ব্যাংক।
৯ দশমিক ৬২ শতাংশ স্প্রেড নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে উরি ব্যাংক। এ ছাড়া সিটি ব্যাংক এনএ ৯ দশমিক ৪৫ শতাংশ, এইচএসবিসি ৭ দশমিক ৪৯ শতাংশ, কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলন ৬ দশমিক ৫৯ শতাংশ, হাবিব ব্যাংক ৫ দশমিক ৪৬ শতাংশ।
অন্যদিকে বেসরকারি মালিকানায় পরিচালিত এ ৩০টি ব্যাংকের স্প্রেড গড় হার ৫ দশমিক ২৩ শতাংশ। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি স্প্রেড ব্র্যাক ব্যাংকের। আলোচ্য সময়ে ব্যাংকটির স্প্রেড হার দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৩৩ শতাংশে।
এরপরই রয়েছে ডাচ বাংলা ব্যাংকের ৮ দশমিক ২২ শতাংশ, প্রাইম ব্যাংকের ৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ, যমুনা ব্যাংকের ৬ দশমিক ২৯ শতাংশ, প্রিমিয়ার ব্যাংকের ৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ, ব্যাংক এশিয়ার ৫ দশমিক ৬২ শতাংশ, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের ৫ দশমিক ৭৪ শতাংশ, ওয়ান ব্যাংক ৬ দশমিক ৪০ শতাংশ , সাউথইস্ট ব্যাংক ৪ দশমিক ৯৭ শতাংশ, আইএফআইসি ব্যাংক ৫ দশমিক শূন্য ৫৪ শতাংশ, এবি ব্যাংক ৫ দশমিক ৩৫ শতাংশ, উত্তরা ব্যাংক ৫ দশমিক ৯৫ শতাংশ স্প্রেড আদায় করছে। এর মধ্যে ঢাকা ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক আইএফআইসি ব্যাংকসহ বেশ কয়েকটি ব্যাংক গত মাসের তুলনায় কিছুটা স্প্রেড হার কমিয়েছে।
এদিকে রাষ্ট্রীয় মালিকানার চারটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের গড় স্প্রেড হার দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ২২ শতাংশ। যা আগের মাসে ছিল ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ।
নভেম্বর শেষে সোনালী ব্যাংকের স্প্রেড হার ১ দশমিক ৮৩ শতাংশ। জনতা ব্যাংকের ৩ দশমিক ৩৬ শতাংশ, অগ্রণী ব্যাংকের ৪ দশমিক ১৮ ও রূপালী ব্যাংকের স্প্রেড হার সবচেয়ে বেশি ৫ দশমিক ৩১ শতাংশ। বিশেষায়িত চারটি ব্যাংকে গড় ব্যবধান ২ দশমিক ৭৯ শতাংশ। যা আগের মাসে ছিল ২ দশমিক ৮৮ শতাংশ। বেসিক ব্যাংকের স্প্রেড হার ছিল ৫ দশমিক ২৭ শতাংশ। যা কমে দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৯৫ শতাংশ।
সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র ম. মাহফুজুর রহমান বলেন, ব্যাংকগুলোর লেনদেনে ভারসাম্য রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বলা হয়েছে স্প্রেড হার ৫ শতাংশের মধ্যে রাখতে।
আর এ নির্দেশ অনুযায়ি ব্যাংকগুলো তাদের স্প্রেড হার কমিয়েছে। আর এক্ষেত্রে কোনো কোনো ব্যাংক তা মানছে না। সেইসব ব্যাংকে স্প্রেড কমানো নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
রাইজিংবিডি / ইভা / এএম
রাইজিংবিডি.কম
লাইফ সাপোর্টে অভিনেতা আতাউর রহমান