ঢাকা, রবিবার, ২২ চৈত্র ১৪২৬, ০৫ এপ্রিল ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

নিভেছে চোখের আলো, স্বপ্ন নয়

খালেদ সাইফুল্লাহ : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০২-২৭ ৯:১৫:৫৪ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০২-২৭ ৯:১৫:৫৪ পিএম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় একাত্তর হলের ৭০৯ নম্বর কক্ষ। প্রবেশ করতেই দেখা গেল ঘরের মেঝেতে বসে হারমোনিয়াম নিয়ে অনুশীলনে ব্যস্ত সুরমান আলী। কণ্ঠ, সুর, তাল, লয়- সবকিছু ঠিক করে নিচ্ছেন তিনি। কথা বলতেই জানা গেল বেশ কিছুদিন নানা কারণে গানে একটু অনিয়মিত, তাই যখন সময় পান তখনই অনুশীলনে বসেন। আর দশজনের মতো স্বাভাবিক জীবন সুরমান আলীর নয়। চোখের আলো নিভেছে চিরদিনের জন্য। তবুও থেমে যাননি তিনি। পড়ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে। নিজেকে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার গণ্ডিতে আবদ্ধ করে রাখেননি। কণ্ঠে তুলে নিয়েছেন গানের সুর। পারিবারিকভাবেই তাঁর গান শেখায় হাতেখড়ি।

সুরমান আলীর মতো পৃথিবীর আলো বঞ্চিত মীর আজিজুল হক ও শিবনাথ কুমার। আজিজুল হাতে তুলে নিয়েছেন ভায়োলিন। শিবনাথ বাবা-মায়ের কাছ থেকেই শিখেছেন তবলা। এই প্রতিভাগুলো তাঁরা বিচ্ছিন্ন রাখেননি। নানান প্রতিভার অধিকারী এইসব মানুষ একত্র হয়ে গড়েছেন নিজেদের জন্য স্বতন্ত্র প্লাটফর্ম। আর এর কারিগর নিখিলচন্দ্র নাথ। তারই উদ্যোগে এইসব অদম্য মানুষদের নিয়ে গড়ে উঠেছে ব্যান্ডদল ‘ক্ষ্যাপা’।

২০১৭ সালে নিখিলচন্দ্র এমন একটি ব্যান্ডদল গড়ে তোলার চিন্তা করেন। এ বিষয়ে অন্যদের সাথে কথা বলেন। নিজে সুস্থ স্বাভাবিক হলেও তার চিন্তা ছিলো জীবনে নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে গান শেখা এইসব মানুষগুলোকে সুযোগ করে দেবেন। এরপর সবাই মিলে আলোচনা করে গড়ে তুললেন ‘ক্ষ্যাপা’। দলের সদস্য সংখ্যা সাতজন। এদের মধ্যে নিখিলচন্দ্র ও সুরমান আলী ভোকাল দেন, আজিজুল হক বাজান ভায়োলিন, মেহেদী হাসান বেজ গিটারিস্ট, শিবনাথ কুমার বাজান তবলা, ডাকসু-সদস্য চিবল সাংমা ইউকেলেলে এবং শিয়ান বাজান গিটার। এই দলের চারজন সদস্য শারীরিকভাবে অন্যদের মতো স্বাভাবিক নন।

‘ক্ষ্যাপা’ ইতোমধ্যেই স্টেজ পারফর্ম করেছে বিভিন্ন জায়গায়। এছাড়াও রেডিওতে গান করাসহ নানাভাবে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এই সংগ্রামী মানুষগুলোর মূল উদ্দেশ্য প্রতিবাদ করা। তাঁরা কণ্ঠে, গানের সুরে প্রতিবাদ করতে চান, সমাজের নানা অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে প্রশ্ন ছুড়ে দিতে চান। কথা বলতে চান অধিকারের পক্ষে। ক্ষ্যাপা ব্যান্ডের পরিচালক নিখিলচন্দ্র নাথ বলেন, ‘আমরা একটি স্বপ্ন থেকে কাজটি শুরু করেছিলাম। আমরা আমাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। আমরা গানের মধ্য দিয়ে সমাজের অন্যায়-অসঙ্গতিগুলোর প্রতিবাদ চালিয়ে যেতে চাই।’


ঢাকা/তারা