ঢাকা     রোববার   ০৩ মার্চ ২০২৪ ||  ফাল্গুন ১৯ ১৪৩০

ফজরের আজান চলাকালে সাহরি খাওয়া যাবে কি?

মাওলানা মুনীরুল ইসলাম || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৯:৪৮, ১০ এপ্রিল ২০২২  
ফজরের আজান চলাকালে সাহরি খাওয়া যাবে কি?

চলছে মাহে রমজানের রোজা। মানুষ সাধারণত ঘুম থেকে জেগেই সাহরি খান। সাহরি খেতে হয় সুবহে সাদিকের আগে, অর্থাৎ ফজরের ওয়াক্ত হওয়ার আগে। এই সময়ে ঘুম থেকে জেগে ওঠা অবশ্যই কষ্টসাধ্য কাজ। অনেক সময় দেখা যায়, ঘুম থেকে দেরিতে ওঠার কারণে সাহরি খাওয়া অবস্থায় ফজরের আজান হয়ে যায়। সাহরির সময় শেষ হয়ে সুবহে সাদিক শুরু হয়ে যায়। এই অবস্থায় তার রোজা হবে না। কারণ এখানে সময় দুটি। একটি সাহরি খাওয়ার সময়, আরেকটি ফজরের নামাজের সময়। সাহরির সময়ের মধ্যেই সাহরি খাওয়া হয় আর ফজরের ওয়াক্ত হলেই ফজরের আজান দেওয়া হয়। ফজরের ওয়াক্তে সাহরি খেলে রোজা হবে না- এটাই বিধান।

আর যদি কেউ সাহরির সময় বাকি থাকতেই ফজরের ওয়াক্ত হয়েছে মনে করে আজান দিয়ে ফেলে, তাহলে ওই আজান সিদ্ধ হবে না। এমন আজান চলাকালে এবং সাহরির সময় থাকলে আজানের পরেও সাহরি খেলে রোজার কোনো ক্ষতি হবে না। এখানে মূলকথা আজান নয়, মূলকথা হলো সময়। প্রতিটা বিধানের নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সেটা পালন করতে হবে। এর ব্যতিক্রম করলে আদায় হবে না। মনে রাখতে হবে, আজান হলো ফজরের নামাজের জন্য, সাহরি খাওয়া বন্ধ করার জন্য নয়। তাই সাহরি তার আগেই বন্ধ করতে হবে। আজান কখনও সাহরির সময়ের মধ্যে দেওয়া হয় না; আজান ফজরের ওয়াক্ত হওয়ারও একটু পরে দেওয়া হয়। আর হাদিস শরিফে যে আজানের পরও সাহরি খাওয়ার কথা আছে, সেটা তাহাজ্জুদের আজান, ফজরের আজান নয়- যা এখনও মক্কা ও মদিনায় প্রচলিত আছে।

সাহরি খাওয়া অবস্থায় ফজরের আজান হয়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গে খাওয়া বন্ধ করতে হবে এবং যথারীতি রোজা পালন করতে হবে। তবে সময়ের পর ভুলক্রমে বা অনিচ্ছাকৃত পানাহার করায় রোজা ভঙ্গ হয়েছে বিধায় এই রোজাটি রমজানের পর আবার কাজা আদায় করতে হবে। কিন্তু আজান শোনার পরও যদি পানাহার বন্ধ না করেন, তাহলে কাজার সঙ্গে কাফফারাও আদায় করতে হবে। যেহেতু প্রথমে ভুলবশত খাওয়া হলেও পরে ইচ্ছাকৃত খাওয়ার দ্বারা রোজা ভঙ্গ করা হয়েছে।  (ফাতাওয়ায়ে আলমগিরি)

সুবহে সাদিক হওয়া এবং সাহরির সময় বাকি থাকার ব্যাপারে সংশয়যুক্ত সময়ে পানাহার করা মাকরুহ। আমাদের দেশের ক্যালেন্ডারগুলোতে আজান ও সাহরির মাঝে কয়েক মিনিট বিরতি দেওয়া হয়। সংশয়যুক্ত সময় বলতে ওই সময়টাকে ধরা যায়। তবে এ সময়ে খাওয়ার মাধ্যমে রোজা শুদ্ধ হয়ে যাবে। (আহসানুল ফাতওয়া, খণ্ড- ৪, পৃষ্ঠা ৪৩২; আল ফিকহুল হানাফি ফি সাওবিহিল জাদিদ, খণ্ড- ১, পৃষ্ঠা ৪৩৩)। আর কেউ যদি সাহরি খাওয়ার সময় আছে মনে করে সাহরি খায়। এরপর জানা যায় যে, তখন সাহরির সময় শেষ হয়ে গিয়েছিল। তাহলে পরবর্তী সময়ে সে রোজার কাজা আদায় করতে হবে। কাফফারা আদায় করতে হবে না। (রদ্দুল মুহতার, খণ্ড- ৩, পৃষ্ঠা ৪৩৬)

তেমনি কেউ যদি সূর্যাস্ত হয়ে গেছে মনে করে ইফতার করে ফেলে, পরে দেখা গেল এখনো সূর্যাস্ত হয়নি, এ ক্ষেত্রে রোজা ভেঙে যাবে। এ ধরনের ক্ষেত্রে হুকুম হলো, ভুলটি জানার পর সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ইত্যাদি থেকে বিরত থাকবে এবং পরবর্তী সময়ে একটি রোজা কাজা করে নেবে। তবে কাফফারা আদায় করতে হবে না। (আদ্দুররুল মুখতার ২/৪০৫; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৫৬; আলমুহিতুল বুরহানি ৩/৩৩৬)

লেখক : সভাপতি, বাংলাদেশ ইসলামী লেখক ফোরাম

/এসবি/

সম্পর্কিত বিষয়:

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়