ঢাকা     বুধবার   ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ||  মাঘ ১৯ ১৪২৯

মালেক মামার ভাপা পিঠা, হাজার টাকা দাম 

মুজাহিদ বিল্লাহ || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৩:৪৪, ১৮ জানুয়ারি ২০২৩   আপডেট: ১৭:০৩, ১৮ জানুয়ারি ২০২৩
মালেক মামার ভাপা পিঠা, হাজার টাকা দাম 

পিঠাপুলি ছাড়া শীত জমে না ভোজনরসিক বাঙালির। শীতের দিনে ধোঁয়া ওঠা গরম ভাপা পিঠার স্বাদ অনেকেই নেন। মজার ব্যাপার, মা-খালাদের রান্নাঘর থেকে এই পিঠা চলে এসেছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কেক-পেস্ট্রি শপে; এমনকি ফুটপাতেও! গ্রাম কিংবা শহর শীতে পিঠা বিক্রি করেও এখন অনেকে সংসার চালান। ১০-৩০ টাকার মধ্যেই রাস্তার পাশের খোলা দোকানে ভাপা পিঠা পাওয়া যায়। কিন্তু নরসিংদীতে এক দোকানে ভাপা পিঠা বিক্রি হচ্ছে হাজার টাকায়।

অবাক হচ্ছেন? এক হাজার টাকায় ভাপা পিঠা! মূলত উপাদানে নানা পদ থাকায় এমন মূল্য। নরসিংদী সদরের ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ভেলানগর জেলখানা মোড় ওভারব্রিজের নিচে এই পিঠার দোকানের মালিক মো. মালেক মিয়া। সেখানে বেশ কয়েকটি চুলা নিয়ে পিঠার পসরা সাজিয়ে বসেছেন মালেক। স্থানীয়দের কাছে এই দোকান ‘মালেক মামার পিঠার দোকান’ নামে পরিচিত। দোকানে সাজানো চালের গুঁড়া, নারিকেল, মিঠাই, কিসমিস, বাদাম, খেজুর, আখরোটসহ নানা উপাদান। এই উপাদানই তাকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করেছে। 

মালেকের দোকানে ২০ টাকা থেকে শুরু করে হাজার টাকা দামের পিঠা বিক্রি হয়।  হাজার টাকা দামের ভাপা পিঠা বানানোর জন্য একটি বড় আকৃতির বাটি নেন মালেক। বাটিতে চালের গুঁড়ার সঙ্গে দেওয়া হয় মলাই, মাওয়া, ঘি, গুড় এবং স্বাদের ভিন্নতা আনার জন্য নোয়াখালীর নারিকেল। সঙ্গে কিসমিস, মোরব্বা, কাজু বাদামের গুঁড়া, কাঠ বাদাম গুঁড়া, পেস্তা বাদাম গুঁড়া, খেজুরের গুড় তো রয়েছেই। এই পিঠা বানাতে সময় লাগে ১৫-২০ মিনিট। মালেকের ভাষ্য, অন্য কেউ চাইলেও এমন পিঠা বানাতে পারবেন না। তিনি আরো জানান, ৫ হাজার টাকা দামের পিঠাও তিনি বানান। তবে এ জন্য আগে বুকিং দিতে হবে। 

প্রতিদিন বিকাল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত পিঠা বিক্রি করেন মালেক মিয়া। দিনে বিক্রি হয় ৭-১৩ হাজার টাকা। দিনের অন্য সময় ইজিবাইক চালান তিনি। বিক্রি করেন পান সিগারেট।

মালেক মিয়া বলেন, আমি মানুষকে ভালো জিনিস খাওয়াতে চেষ্টা করি। এই পিঠার স্বাদ আপনি অন্য পিঠাতে পাবেন না। এই পিঠাতে সব খাঁটি জিনিস ব্যবহার করি। এ জন্য এর স্বাদই অন্যরকম। আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি- এমন পিঠা কেউ বানাতে পারবে না।

স্থানীয় আহসান হাসান সময় পেলেই মালেক মিয়ার পিঠার স্বাদ নেন। তিনি বলেন, মামার পিঠার মজাই আলাদা। আমরা বন্ধুরা মিলে প্রায়ই আসি, এই রকম পিঠা অন্য কোথাও পাওয়া যায় না। একটু বড় পিঠা নিলে কয়েকজন ভাগ করে খাওয়া যায়।

নারায়ণগঞ্জ থেকে মালেকের পিঠা খেতে আসা দুই বন্ধু সুমন ও মোরসালিন বলেন, আমরা তার (মালেক মামা) পিঠার সুনাম সুনেছি। দেখছি অনেক ভিড়। আমাদের বন্ধুরাও এর আগে খেয়ে গেছে। এ জন্য আমরাও এসেছি। দেখি খেয়ে কেমন লাগে।

তারা//

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়