ঢাকা     বুধবার   ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ ||  মাঘ ১ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

৫০ বছর উপকূলে মানুষের পাশে ফাদার লুইজি

রফিকুল ইসলাম মন্টু  || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৬:৪২, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬   আপডেট: ১৬:৫৫, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬
৫০ বছর উপকূলে মানুষের পাশে ফাদার লুইজি

ফাদার লুইজি পাজ্জি। সাতক্ষীরার শ্যামনগরের নিভৃত গ্রাম ঈশ্বরীপুরে যিশু আশ্রম।

বাংলাদেশের উপকূলের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সেবায় ৫০ বছর পার করলেন ইতালিয়ান নাগরিক ফাদার লুইজি। এ সময়ে দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের আদিবাসী মুন্ডা সম্প্রদায় এবং দলিত সম্প্রদায়ের উন্নয়নে কাজ করছেন তিনি। বাংলাদেশে মানবসেবায় ৫০ বছর পূর্ণ উপলক্ষে ৭৮ বছর বয়সী ফাদার লুইজি পাজ্জিকে সম্প্রতি ইতালিতে বিভিন্ন স্থানে সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানগুলোতে লুইজি অঙ্গীকার করেছেন জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সেবায় অতিবাহিত করতে চান তিনি। সম্মাননায় পাওয়া অর্থ তিনি মুন্ডাদের উন্নয়নে ব্যয় করবেন।  

তাকে বলা যায় মুন্ডা সম্প্রদায়ের বাতিঘর। আবার মুন্ডাদের ‘ভূত’ তাড়ানিয়াও বলা যেতে পারে। বয়স যখন মাত্র ২৭ বছর তখন থেকে তিনি বাংলাদেশে। দীর্ঘ ৫০ বছর দেশের নিভৃত গ্রামে বাস করছেন। পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে খানিক এগিয়ে দিতেই তার নিরলস চেষ্টা। তার বসবাস পশ্চিম উপকূলের শ্যামনগরের নিভৃত গ্রাম ঈশ্বরীপুরে। সেখানকার ক্যাথলিক চার্চ পরিচালিত যিশু আশ্রম পরিচালিত হয় তার তত্ত্বাবধানে। ওই অঞ্চলে পিছিয়ে পড়া মুন্ডা সম্প্রদায়কে নিয়ে কাজ শুরু করেন ২০০২ সালে। এর আগে তিনি কাজ করেছেন খুলনার চুকনগর এবং সাতক্ষীরার তালায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সঙ্গে। 

আরো পড়ুন:

‘শিক্ষা প্রসারের মাধ্যমে এ অঞ্চলের দলিত ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের সঙ্গে প্রচলিত সমাজের বর্ণবৈষম্য কমানোর চেষ্টা করেছেন ফাদার লুইজি। বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে তিনি বড় ভূমিকা রেখেছেন। মেয়েরা যেন কমপক্ষে দশম শ্রেণী অবধি পড়তে পারেন, সে ব্যবস্থা করেছেন তিনি। শিক্ষিত হওয়ার ফলে মেয়েরা নিজেরাই এখন নিজেদের বাল্য বিয়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলছে। মুন্ডাদের দরিদ্র পরিবারের ঘর তৈরি করে দিচ্ছেন, যা জলবায়ু সহনশীল। লুইজির কার্যক্রমের ফলে মুন্ডা সমাজে এক বিপুল পরিবর্তন আমরা দেখতে পাচ্ছি।’ বলছিলেন সুন্দরবন আদিবাসী মুন্ডা সংস্থার (সামস) নির্বাহী পরিচালক কৃষ্ণপদ সরদার। 

প্রথমে সমীক্ষা    
পিছিয়ে পড়া এই জনগোষ্ঠীর খোঁজ পাওয়ার পর তথ্য সংগ্রহ করা হয়, জরিপ করা হয়। এর মাধ্যমে কাজের পরিকল্পনা নির্ধারিত হয়। এভাবেই কাজ শুরু হয়েছিল। কাজের শুরুতে উঠে আসে ভয়ঙ্কর চিত্র। মুন্ডারা কেউ লেখাপড়া জানত না। চার হাজারের মধ্যে মাত্র ৪০-৫০জন কোনোমতে লেখাপড়া জানত। ওই অবস্থায় একটা জনগোষ্ঠীর স্বাভাবিকভাবে বসবাস করা সম্ভব নয়। সেজন্যে প্রথমে লুইজি মুন্ডাদের লেখাপড়ার ওপর জোর দেন। প্রথম দিকে মুন্ডা সম্প্রদায়ের লোকজন বিভিন্ন দাবি করতো সরকারের কাছে। যেমন শিক্ষা, ভাষাসহ নানান দাবি। কিন্তু তখন ওদের সংখ্যা ছিল মাত্র ৪-৫ হাজার। তাই সরকারের দিক থেকে তেমন সাড়া মেলেনি। সংখ্যাটা ৪-৫ লাখ হলে হয়তো সরকার নজর দিতে পারত। 

কাজ করতে গিয়ে মুন্ডা সম্প্রদায়ের ইতিহাস সম্পর্কে বিশেষ কিছু পাননি লুইজি। শেকড়ের তথ্য জানতে তিনি বিভিন্নভাবে ডকুমেন্ট সংগ্রহ করেন। বাঙালির ইতিহাসে ২-৩ লাইন আছে আদিবাসী মুন্ডা সম্পর্কে। তাতে বলা হয়েছে: সুন্দরবনের আশপাশে একটা জাতি, নিগৃহীত শ্রেণীর মানুষের বসবাস আছে। যারা বনজঙ্গল পরিষ্কার করে আবাদ করেছিল এক সময়। সুন্দরবনের ইতিহাসেও সামান্য কিছু আছে মুন্ডা সম্পর্কে। আরও কিছু ডকুমেন্ট সংগ্রহ করে লুইজি নিজেই ওদের নিয়ে কিছুটা লিখেছেন। সাতক্ষীরার তালা উপজেলার ইতিহাসে প্রথমে সামান্য বিবরণ পান মুন্ডাদের বিষয়ে। পরের সংস্করণে আরও বেশি করে স্থান পায় এ সম্প্রদায়ের কথা। মুন্ডাদের ইতিহাস সংরক্ষণের ক্ষেত্রে এই সম্প্রদায়ের বয়সী ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য অনেক বড় ভূমিকা রেখেছে। এদের অনেকে এখন বেঁচে নেই। লুইজি এ সম্প্রদায়ের পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহ করেন। কেননা, এই তথ্য সংরক্ষণ বা ইতিহাস সংরক্ষণ না হলে এ জাতি মুছে যাবে। লুইজি মনে করলেন, এদের নিয়ে কাজ করতে হলেও এদের ইতিহাস লাগবে। 

‘ভূত’ তাড়ানো দিয়ে শুরু    
ফাদার লুইজি প্রথমে শিক্ষার ওপর জোর দিয়েছিলেন। কেননা, তিনি মনে করেছিলেন, শিক্ষার প্রসার না হলে অন্যান্য ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। শিক্ষা একটি বড় কাজ। লুইজি এদের মধ্যে যে শুমারী করেছিলেন, সেখানে দেখা গেছে, মুন্ডা জনগোষ্ঠীর লোকজনের মধ্যে মেয়েদের চেয়ে পুরুষের সংখ্যা বেশি। সাধারণত এমন হওয়ার কথা নয়। মেয়েদের সংখ্যাই বেশি থাকে। এ থেকে লুইজির মনে প্রশ্ন জাগে। কেন? কারণ খুঁজতে গেলে মুন্ডা সম্প্রদায়ের লোকজন তখন জানিয়েছিলেন মেয়েরা বেশি মারা যায়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ওদের প্রথম সন্তান মারা যায়। যেটাকে এরা বলে ‘ভূতে মারে’। বিষয়টি দেখতে গিয়ে লুইজি লক্ষ্য করেন, বাল্য বিয়ের কারণে মেয়েদের প্রথম সন্তান; অনেক ক্ষেত্রে মা মারা যায়। ১২-১৩ বছর বয়সে এদের বিয়ে হয়ে যায়। এই বয়সে তো তারা মা হওয়ার জন্য প্রস্তুত নয়।

ফাদার লুইজি মুন্ডা সম্প্রদায়ের মানুষদের শীতবস্ত্র বিতরণ করছেন। 

প্রথম দিকে লুইজি এক অদ্ভুত কাজ করতে শুরু করেন। তাতে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়। পরে অবশ্য ঠিক হয়ে যায়। গ্রামে ঘুরতে ঘুরতে অনেক মেয়েদের সঙ্গে দেখা হতো। তখন লুইজি ওদের জিজ্ঞেস করতেন- কী বিয়ের কথাবার্তা হচ্ছে নাকি? বিয়ে হয়ে যাবে? মেয়েরা বলতো- হ্যাঁ, সেরকম কথা হচ্ছে। লুইজি বলতেন- তাইলে কী করবে? জবাবে ওরা বলতো- কী করবো? বিয়ে করতে হবে! তখন লুইজি বলতেন- এক কাজ করো, পালাও। বিদ্রোহ করো। বলে দাও- আমি রাজি না। বিয়ে করবো না। তখন ওরা বলতো- কোথায় পালাবো? লুইজি তখন যিশু আশ্রমের ঘর দেখিয়ে বলতেন- ওখানে এসো। থাকা-খাওয়া সব ফ্রি। এরপর ২-৩ জন এখানে এলো পালিয়ে। সেই থেকে ওদের বিদ্রোহ শুরু। ৩-৪ বছরের মধ্যে আমার এখানে বিদ্রোহী মেয়ের সংখ্যা অনেক বেড়ে গেল। একজনের দেখাদেখি আরেকজন আসে। এখানে ওরা থাকা-খাওয়ার পাশাপাশি পায় লেখাপড়ার সুবিধা। এখন আর বিদ্রোহ করে মেয়েদের আসতে হয় না। অভিভাবকেরাই নিয়ে আসে।

মেয়েদের আশ্রমে আনার মাধ্যমে দুটো সাফল্য আসে, প্রথম মেয়েরা বাল্য বিয়ে থেকে রক্ষা পায় এবং দ্বিতীয়ত মেয়েরা লেখা পড়া অব্যাহত রাখার সুযোগ পায়। 

কী পরিবর্তন এলো    
মুন্ডা সম্প্রদায়ের লোকজন এককালে এলাকায় ‘জংলী’ বলে পরিচিত ছিল। এলাকার বাসিন্দারা গুরুত্ব দিত না। কেউ ঘেঁষত না এদের দিকে। ওদের যেন স্পর্শ করা যায় না। বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ফলে অনেকটা কমেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন। যিশু আশ্রমে মেয়েদের দিকে অনেক ছেলের নজর পড়ে। অনেকে সম্পর্কও স্থাপন করতে চায়। এটাই এর একটা দৃষ্টান্ত। আগে কিন্তু এমন অবস্থা ছিল না।

ফাদার লুইজির দীর্ঘ সময়ের কাজের ফলে মুন্ডা সম্প্রদায়ের অনেক ক্ষেত্রে পরিবর্তন এসেছে। লেখাপড়ার দিক থেকে তাদের পরিবর্তন এসেছে। এখন মোটামুটি এ সম্প্রদায়ের সকল ছেলেমেয়ে স্কুলে যাচ্ছে। স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে পরিবর্তন এসেছে। পরিচ্ছন্নতার ক্ষেত্রে পরিবর্তন এসেছে। বাল্য বিয়ে কমেছে। টেকনিক্যাল শিক্ষা প্রসারের ফলে কাজের সুযোগ বেড়েছে। অনেকে বিভিন্ন স্থানে কাজ করছে। সে ক্ষেত্রে আয়-রোজগার বেড়েছে। এখানকার মেয়েরা মিলে একটি ক্রেডিট ইউনিয়ন চালাচ্ছে। এদের প্রায় ৫০ লাখ টাকার বেশি আছে। যিশু আশ্রম থেকে ব্যয়বহুল চিকিৎসার ক্ষেত্রেও সহযোগিতা করা হয়।

বাধা ছিল কাজ করতে    
খ্রীষ্টান ক্যাথলিক চার্চের মাধ্যমে মুন্ডা সম্প্রদায়ের উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হয়। চ্যারিটির মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ হয়। আর তা দিয়ে নিভৃতে সমাজ উন্নয়নে অংশ নেন ফাদার লুইজি। তিনি সাধারণত পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য কাজ করছেন। তিনি সংকটে থাকা মানুষদের খুঁজে খুঁজে বের করছেন। যেমন মুন্ডা সম্প্রদায়কে বের করেছেন। 

কাজের অভিজ্ঞতা থেকে ফাদার লুইজি জানান, মুন্ডা মেয়েরা গ্রামের বাড়িতে থাকলে তাদের বিয়ে হয়ে যাবে। কিন্তু আশ্রমে রাখলে কোনমতে তাদের বাঁচানো যাবে। ঝুঁকি নিয়েই লুইজি এ উদ্যোগ নিয়েছিলেন। প্রথমে যারা আশ্রমে এসেছিল, তাদের নিয়ে কিছু সমস্যা তৈরি হয়েছিল ওদের সমাজের লোকজনের সাথে। কেননা, ওদের অভিভাবকেরা সবকিছু ঠিকঠাক করেছিল ওদের বিয়ে দিবে বলে। কিন্তু সেটা পারেনি। এ নিয়ে তাদের ক্ষোভ ছিল। লুইজি বলে দিয়েছিলেন- ’আমি তো আপনাদের মেয়েকে ধরে বেঁধে রাখছি না। তারা না থাকলে চলে যাক।’ লুইজি এভাবে অভিভাবকদের বোঝানোর চেষ্টা করেন। পরে এটা ঠিক হয়ে যায়।

সমস্যার আবর্তে মুন্ডা সম্প্রদায়ে     
এই সম্প্রদায়ের প্রধান সমস্যা হচ্ছে জমি নেই। যেটুকু ঘরবাড়ি, ওটুকুই ওদের জমি। বাড়ির ভিটেও নেই অনেকের। অনেক স্থানে আবার উন্নয়ন কাজের জন্য এরা থাকতে পারছে না। কিছু এলাকায় বাঘের ভয় আছে। ক্ষুধার্ত বাঘ ছুটে আসে লোকালয়ে। এরপর আছে জলদস্যুর ভয়। আরেকটি সমস্যা হচ্ছে জোয়ারের পানি বাড়ছে। দশ-পনেরো বছরের মধ্যে হয়তো পানির লেভেল রাস্তার উপরে উঠে যাবে। এসব সংকট রয়েছে। এজন্য কিছু পরিবার স্থানান্তর হতে চায়। তালা উপজেলা এলাকায় কয়েকটি পরিবারকে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এদের ভূমি সমস্যা যতটা সম্ভব সমাধান করা হয়েছে।

শ্যামনগরে বড়দিনের অনুষ্ঠানে ফাদার লুইজি। 

এই সম্প্রদায়ের এক সময় যথেষ্ট পরিমাণে জমি ছিল। আস্তে আস্তে বাঙালিরা, বিশেষ করে হিন্দু জমিদারেরা এদের কাছ থেকে জমিগুলো নিয়ে নেয়। এরা তো বন জঙ্গল পরিষ্কার করে আবাদ করতো। জমিদারেরা এদের চাষাবাদের জন্য কিছু জমি দিয়ে দিত। কিন্তু কাগজপত্র দিত না। বলা হয়, তোমরা চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করো। এক সময় ওরা জমির মালিক ছিল। ওরা সহজ সরল জাতি। প্রভাবশালীরা ওদের ঠকিয়েছে। জমির কাগজপত্র নেই বলেই সমস্যা হয়েছে। ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করতো। মুন্ডা সম্প্রদায়ের বয়সী ব্যক্তিরা বলেছেন, এরা বিভিন্ন সময় আর্থিক সমস্যার কারণে জমিদারদের শরণাপন্ন হতো। তখন জমিদারেরা এক বস্তা ধানের বিনিময়ে হয়তো এক একর জমি লিখে নিত। মুন্ডারা তা বুঝতো না। হিন্দুদের পর মুসলমানেরাও জমি নিয়েছে। 

সরকার কী করতে পারে    
সরকার তো অনেক কিছুই করতে পারে। দরকার এমন একটি সরকার, যারা ওদের জমির কাগজপত্র দিয়ে দিবে। কাগজপত্র ছাড়া তো ওরা জমির মালিক হবে না। সরকার একবার ঋণ দিয়েছিল শূকর পালনের জন্য। এভাবে আরো সহায়তা করতে পারে। তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ওদের কর্মস্থান সৃষ্টি করতে পারে। ওদের নামে খাসজমি বরাদ্দ দিতে পারে। ফলে ওদের অবস্থার উন্নয়ন ঘটবে। উচ্চ শিক্ষায় আগ্রহীদের সহযোগিতা করতে পারে সরকার। এদের জন্য বিদ্যুৎ সুবিধা দেওয়া যেতে পারে। সুবিধা এদের কাছেও যায়; তবে সবার শেষে। এজন্য আবার ঘুষও দিতে হয়। ওদের পাড়ায় যাওয়ার জন্য যথাযথ রাস্তাঘাট হওয়া দরকার। বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণের মধ্য দিয়ে এদের অবস্থার উন্নয়ন করতে পারে সরকার। নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলছিলেন ফাদার লুইজি। 

‘আমি সহায়কমাত্র’
ফাদার লুইজি বলেন, ‘বাংলাদেশে বর্ণবৈষম্যে থাকা সম্প্রদায়গুলোকে উপরে উঠতে দেওয়া হয় না, তাদের উপর নীরব শোষণ চলে, এটা খুব দুঃখজনক। আমি বিশেষ কিছু করিনি, আমি সহায়কমাত্র। মুন্ডা সমাজে যেসব সমস্যা ছিল, তা সমাধানে তারা সহায়তা পায়নি। আমি এগুলোর দিকে নজর দিয়েছি, তাদের পাশে দাঁড়িয়েছি। ফলে তারা এগিয়ে এসেছে, বিশেষ করে যুবকেরা সমাজের পরিবর্তনের জন্য এগিয়ে এসেছে। যুবকেরাই এই পরিবর্তনের বড় শক্তি। তারা সংগঠন করছে, দাবি তুলছে, সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নিচ্ছে।’ 

ঢাকা/তারা//

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়