পুতিনের এক বিরল ‘কোমল’ রূপ
সাতসতেরো ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম
বিশ্ব রাজনীতির কঠোর ও কৌশলী নেতা হিসেবে পরিচিত ভ্লাদিমির পুতিন। এবার এই নেতার এক ভিন্ন, আবেগঘন রূপ দেখলো মানুষ। সম্প্রতি রাশিয়ান পুল এএফপি-তে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, নিজের স্কুলজীবনের প্রিয় শিক্ষিকার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রকাশ করছেন তিনি। আর সেই মুহূর্তই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
মস্কোতে অনুষ্ঠিত বিজয় দিবসের প্যারেডে নিজের জার্মান ভাষার শিক্ষিকা ভেরা দিমিত্রিয়েভনা গুরেভিচকে বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানান পুতিন। অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষিকার হাতে বাহারি রঙের ফুলের তোড়া তুলে দেন তিনি। শুধু তাই নয়, তাকে উষ্ণ আলিঙ্গনে জড়িয়ে ধরেন এবং দীর্ঘ সময় ধরে স্মৃতিচারণায় মেতে ওঠেন।
ভিডিওতে দেখা যায়, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সেই আন্তরিক সম্পর্ক যেন সময়ের ব্যবধানও মুছে দিয়েছে। পরে পুতিন তাকে নৈশভোজে নিয়ে যান। শুধু তাই না নৈশভোজ শেষে তিনি নিজেই গাড়ি চালিয়ে শিক্ষিকাকে ক্রেমলিনে পৌঁছে দেন।
শৈশবে তৎকালীন লেনিনগ্রাদে—বর্তমান কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে বেড়ে ওঠেন পুতিন। সেই সময়েই জার্মান ভাষার প্রতি তার আগ্রহ তৈরি হয়। পরবর্তীতে ১৯৮৫ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত পূর্ব জার্মানির ড্রেসডেনে কেজিবির কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ভাষাটিতে আরও দক্ষ হয়ে ওঠেন তিনি। ২০০১ সালে জার্মান পার্লামেন্ট বুন্দেসটাগে জার্মান ভাষায় দেওয়া তার বক্তৃতাও ব্যাপক আলোচিত হয়েছিল।
এটাই অবশ্য প্রথম নয়। এর আগেও ২০০৫ সালে ইসরায়েল সফরে গিয়ে নিজের আরেক জার্মান শিক্ষিকা মিনা ইউদিতসকায়া-বার্লিনারের সঙ্গে দেখা করেছিলেন পুতিন। সেই পুনর্মিলনীর ভিডিওও সে সময় বেশ ভাইরাল হয়েছিল।
রাজনীতির কঠিন বাস্তবতার আড়ালে এমন মানবিক আচরণ অনেককেই নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেটিজেনরা বলছেন, কঠোর নেতার আড়ালেও লুকিয়ে থাকে একজন কৃতজ্ঞ ছাত্রের কোমল হৃদয়।
ঢাকা/লিপি