ঢাকা     মঙ্গলবার   ১২ মে ২০২৬ ||  বৈশাখ ২৯ ১৪৩৩ || ২৫ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে বাংলাদেশি তরুণের মৃত্যু

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৮:৫৮, ১২ মে ২০২৬   আপডেট: ১৯:১৭, ১২ মে ২০২৬
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে বাংলাদেশি তরুণের মৃত্যু

‎সংসারে ছিল অভাব। সেই অভাব ঘোচাতে বিদেশে পাড়ি জমান মো. আব্দুর রহিম (২৫)। চোখে ছিল হাজারো স্বপ্ন। তিনি ভেবেছিলেন, বিদেশে গিয়ে সুন্দর জীবন পাবেন এবং দেশে পরিবারের সদস্যদের মুখে হাসি ফোটাবেন। কিন্তু, সেই স্বপ্ন শেষ হয়েছে বুলেটের আঘাতে।

মো. আব্দুর রহিম ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার পু‌টিজানা গ্রামের আজিজুল হকের ছেলে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে মৃত্যু হয়েছে তার।

আরো পড়ুন:

জীবিকার সন্ধানে কয়েক বছর আগে সিঙ্গাপুরে যান আব্দুর রহিম। পরে তিনি রাশিয়ায় চলে যান। রাশিয়ায় অবস্থানকালে সে দেশের সামরিক বাহিনীতে চু‌ক্তি‌র ভি‌ত্তিতে যুক্ত হন। গত ২ মে ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়ান সেনাবাহিনীর পক্ষে লড়াই করার সময় তিনি গুলিবিদ্ধ হন। গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় সোমবার (১১ মে) তার মৃত্যুর সংবাদ পরিবারের কাছে পৌঁছায়।

‎পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ‎আব্দুর রহিম ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য। সংসারের অভাব দূর করতে বিদেশে গিয়ে তিনি ঝুঁকিপূর্ণ কাজে জড়িয়ে পড়েন। কিন্তু, তার এমন করুণ মৃত্যু পরিবারের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

নিহতের পরিবার সরকারের কাছে সহযোগিতা ও লাশ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, অন্তত প্রিয়জনের মুখটি শেষবারের মতো দেখতে চান তারা। পাশাপাশি ভবিষ্যতে আর কোনো বাংলাদেশি যুবকের এমন পরিণতি না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে আব্দুর রহিমের পরিবার। 

‎নিহতের বাবা মো. আজিজুল হক বলেছেন, “আমার পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিল আব্দুর রহিম। পরিবারের সুখের আশায় জমি বিক্রি করে তাকে বিদেশে পাঠাই। তার সঙ্গে নিয়মিত কথা হতো। সম্প্রতি হঠাৎ করেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে সহযোদ্ধা ও পরিচিতদের মাধ্যমে গত ১১ মে রা‌তে তার মৃত্যুর খবর আমরা জানতে পারি। আমার পরিবারের এখন কী হবে, আমরা কেমন করে চলব? আমার সব শেষ হয়ে গেল।”

‎আব্দুর রহিমের মা রমিছা খাতুন সন্তানের কথা মনে করে বার বার জ্ঞান হারাচ্ছেন। জ্ঞান ফিরলে আহাজারি করে বলছেন, “আমার আদরের সন্তানকে ফিরিয়ে দাও। ‎এখন আমরা চলব কীভাবে? আমার সব শেষ হয়ে গেছে। আমি আমার সন্তানের লাশ ফেরত চাই।”

‎আব্দুর রহিমের মামা আফসার আলী বলেন, “আমার ভাগ্নে খুব আদরের ছিল। আমার বোনের খুব কষ্টের সংসার। পরিবারের ভালোর জন্য বিদেশে গিয়ে আমার ভাগ্নে হঠাৎ করে টাকার লোভে পড়ে যুদ্ধে যোগ দেয়। আমরা ভাগ্নের লাশটা দ্রুত ফেরত চাই। এর পাশাপাশি সরকার যেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ায়।”

‎এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ কামরুল হাসান মিলন বলেন, “আমরা এই পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। দ্রুত লাশটি ফেরত আনতে যে ব্যবস্থা করার দরকার, আমরা তার চেষ্টা করব।” 

তিনি সবাইকে সতর্ক করে বলেন, অর্থের প্রলোভনে পড়ে এরকম ফাঁদে যেন কেউ পা না দেন।

ঢাকা/মিলন/রফিক

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়