ঢাকা     মঙ্গলবার   ১২ মে ২০২৬ ||  বৈশাখ ২৯ ১৪৩৩ || ২৫ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

ইবি ছাত্রদলের নতুন কমিটি নিয়ে গুঞ্জন, তরুণ নেতৃত্ব চান শিক্ষার্থীরা

ইবি সংবাদদাতা || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৮:৫২, ১২ মে ২০২৬   আপডেট: ১৮:৫৪, ১২ মে ২০২৬
ইবি ছাত্রদলের নতুন কমিটি নিয়ে গুঞ্জন, তরুণ নেতৃত্ব চান শিক্ষার্থীরা

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রদলের তিন মাস মেয়াদি আহ্বায়ক কমিটি প্রায় পাঁচ বছর পার করলেও এখনো নতুন কমিটি গঠন হয়নি। এ অবস্থায় সংগঠনে নিয়মিত, তরুণ ও শিক্ষার্থীবান্ধব নেতৃত্ব দেখতে চান সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রদলের তিন মাস মেয়াদি আহ্বায়ক কমিটির বয়স এখন চার বছর ১১ মাস। সম্প্রতি বিভিন্ন শাখায় নতুন কমিটি দিয়েছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। এর ধারাবাহিকতায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়েও নতুন কমিটি গঠনের গুঞ্জন উঠেছে। এদিকে বর্তমান মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিতে অছাত্র, নিষ্ক্রিয় ও চাকরিজীবী সদস্যদের সম্পৃক্ততা নিয়ে নানা অভিযোগ রয়েছে। ফলে নতুন কমিটিতে নিয়মিত ছাত্র ও তরুণ নেতৃত্ব দেখতে চায় শিক্ষার্থীরা।

আরো পড়ুন:

২০২১ সালের ১৬ জুন লোকপ্রশাসন বিভাগের ২০০৭-০৮ শিক্ষাবর্ষের সাহেদ আহম্মেদকে আহ্বায়ক এবং ইংরেজি বিভাগের ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষের মাসুদ রুমী মিথুনকে সদস্যসচিব করে ৩১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। সে সময় কমিটির মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছিল তিন মাস। তবে প্রায় পাঁচ বছর ধরে চলা এ কমিটির অধিকাংশ সদস্য দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় রয়েছেন। অনেকে বিবাহিত ও চাকরিজীবী, আবার কেউ কেউ বিদেশেও অবস্থান করছেন। ফলে ইবি ছাত্রদলকে সুসংগঠিত ও গতিশীল করতে নতুন নেতৃত্বের অপেক্ষায় রয়েছেন নেতাকর্মীরা।

নতুন কমিটির নেতৃত্বে নিয়মিত ও তরুণদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও বর্তমান কমিটির সদস্য রাফিজ আহমেদ, ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের একই বর্ষের শিক্ষার্থী ও বর্তমান কমিটির সদস্য নূর উদ্দিন এবং হিসাববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী রাকিবুল ইসলাম স্বাক্ষর।

এছাড়া, তরুণ নেতৃত্বের সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছেন হিসাববিজ্ঞান বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তৌহিদুল ইসলাম, মার্কেটিং বিভাগের আলামিন হোসেন, সমাজকল্যাণ বিভাগের আরিফুল ইসলাম জনি এবং ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের রিফাত হোসেন।

আল-ফিকহ বিভাগের শিক্ষার্থী রাকিব হাসান বলেন, “চব্বিশ-পরবর্তী বাংলাদেশে ছাত্রসমাজ সুশৃঙ্খল ও শিক্ষার্থীবান্ধব রাজনৈতিক নেতৃত্ব চায়। নিয়মিত ও তরুণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব সাধারণ শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বর হিসেবে বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে মনে করি। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের নতুন কমিটি হোক তারুণ্যের ভাবনায় প্রস্ফুটিত নিয়মিত ছাত্রনেতাদের নেতৃত্বে।”

ফোকলোর অ্যান্ড সোশ্যাল স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী জিন্নাত মালিয়াত সীমা বলেন, “ইবি ছাত্রদলে নিয়মিত, দায়িত্বশীল ও তরুণ নেতৃত্বের খুব প্রয়োজন। যারা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সবসময় যোগাযোগ রাখবে, তাদের মতামতকে গুরুত্ব দেবে এবং ক্যাম্পাসের ইতিবাচক পরিবেশ বজায় রাখতে কাজ করবে। নতুন প্রজন্মের নেতৃত্ব সংগঠনে গতিশীলতা ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আস্থা তৈরি করবে।”

লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী নুদরাত নাওয়ার প্রাপ্তি বলেন, “ইবি ছাত্রদলে তরুণ, উদ্যমী ও নিয়মিত শিক্ষার্থীদের বাস্তবতার সঙ্গে সম্পৃক্ত নেতৃত্বের প্রত্যাশা করছি। নতুন নেতৃত্ব সংগঠনে সৃজনশীল, আধুনিক ও সময়োপযোগী চিন্তাভাবনার মাধ্যমে কার্যকর উদ্যোগ এনে দলকে আরো সুসংগঠিত করবে।”

শাখা ছাত্রদলের সদস্য রাকিবুল ইসলাম স্বাক্ষর বলেন, “ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের নতুন কমিটি নিয়ে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা কাজ করছে। আমি মনে করি নতুন কমিটি হবে তারুণ্যনির্ভর, শিক্ষার্থীবান্ধব, জবাবদিহিমূলক এবং পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির অধিকারী। যারা রাজপথে ছিল, সংগ্রাম করেছে এবং সাংগঠনিক দক্ষতা দেখিয়েছে, তারাই নেতৃত্বে আসবে। দ্রুত নতুন কমিটি ঘোষণা করা হলে সংগঠন আরও সুসংগঠিত ও শক্তিশালী হবে।”

শাখা ছাত্রদলের সদস্য নূর উদ্দিন বলেন, “ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের কমিটি দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয়ভাবে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। নিয়মিত শিক্ষার্থীরা কমিটি নিয়ে আগ্রহী ও আশাবাদী। আগামী নেতৃত্ব শিক্ষার্থীবান্ধব, দায়িত্বশীল ও গণমুখী ভূমিকা পালন করবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। রানিং স্টুডেন্টদের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী ও গ্রহণযোগ্য কমিটি গঠনের মধ্য দিয়ে ছাত্রদল তার হারানো ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার করবে।”

শাখা ছাত্রদলের সদস্য রাফিজ আহমেদ বলেন, “কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নিয়মিত শিক্ষার্থীদের দিয়ে কমিটি গঠনের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নতুন কমিটির মাধ্যমে তার বাস্তব প্রতিফলন ঘটবে। আমরা এমন নেতৃত্ব প্রত্যাশা করি, যা হবে গতিশীল, শিক্ষার্থীদের কাছে গ্রহণযোগ্য এবং সাংগঠনিকভাবে কার্যকর। নতুন নেতৃত্ব শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।”

এ বিষয়ে ইবির দায়িত্বে থাকা ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি জহির রায়হান আহমেদ বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কমিটি দেওয়ার ক্ষেত্রে আমার দায়িত্ব শেষ করেছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দুটি খসড়া জমা দেওয়া হয়েছে। এখন সিদ্ধান্ত তাদের।”

ঢাকা/তানিম/জান্নাত

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়