ঢাকা     মঙ্গলবার   ১২ মে ২০২৬ ||  বৈশাখ ২৯ ১৪৩৩ || ২৫ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

স্বপ্ন মাখা অর্জনে সুখের উড়ান

ইয়াসিন হাসান || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৮:৪০, ১২ মে ২০২৬   আপডেট: ১৮:৪২, ১২ মে ২০২৬
স্বপ্ন মাখা অর্জনে সুখের উড়ান

স্বপ্ন দেখার সাহস থেকেই শুরু হয় প্রতিটি অর্জনের গল্প। পরিশ্রম, আত্মবিশ্বাস আর ভালোবাসার ছোঁয়ায় সেই স্বপ্ন একসময় রূপ নেয় সাফল্যে। আর সেই সাফল্যের পথেই মেলে সুখের উড়ান, যা জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে করে তোলে আরও সুন্দর ও অনুপ্রেরণাময়।

মিরপুর শের-ই-বাংলায় সেই সুখের সাক্ষী হলো আরো একবার। ইংল‌্যান্ড, অস্ট্রেলিয়ার পর এবার পাকিস্তানকে টেস্ট সিরিজে বধ। ১০৪ রানের বিশাল জয় ক্রিকেট বিশ্বকে বাংলাদেশ জানিয়ে দেয়, এই ফরম‌্যাটটাও বাংলাদেশের আয়ত্বে এসে গেছে।

আরো পড়ুন:

ইংল‌্যান্ড, অস্ট্রেলিয়াকে হারানো পর কতো কথা! স্পিন স্বর্গ, স্পিনে পাতা ফাঁদে উপমহাদেশের বাইরের দুই দেশকে হারিয়েছে বাংলাদেশ! একটু সময় নিলেও বাংলাদেশ সেই ২২ গজে দেখাল গতি, সুইং, বাউন্সারের ভেল্কি। বল পুরোনো হলে রিভার্সও হতে পারে। চাহিদা মতো ইয়র্কারও দিতে পারে; নাহিদ, তাসকিনরা পাকিস্তানকে হাড়ে হাড়ে টের পাওয়ালো।

দাপুটে পারফরম্যান্সে পাকিস্তানকে হারিয়ে নতুন গৌরবের অধ্যায় লিখেছে বাংলাদেশ। ব্যাট-বল দুই বিভাগেই অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়ে নাজমুল অ‌্যান্ড কোং প্রমাণ করেছে, আত্মবিশ্বাস আর দৃঢ় মনোবল থাকলে কোনো চ্যালেঞ্জই অসম্ভব নয়। এই জয় শুধু একটি ম্যাচের সাফল্য নয়, এটি পুরো জাতির আবেগ, গর্ব আর ভালোবাসার প্রতিচ্ছবি। স্বপ্ন মাখা অর্জনে এ যেন সত্যিই সুখের উড়ান।

আনন্দ সুখের দিনে বাংলাদেশের হাসিমাখা ছবি আঁকার উপলক্ষ‌্য এনে দিয়েছেন নাহিদ রানা। প্রথম ইনিংসে ১ উইকেট নেওয়া নাহিদের তেজটা তেমন বুঝেই উঠেনি অতিথিরা। দ্বিতীয় ইনিংসে আগুনে দহন হলেন রিজওয়ান, শান মাসুদ আর সৌদ শাকিলরা। শেষ ব্যাটসম‌্যান হিসেবে শাহীন শাহ আফ্রিদি যখন শর্ট বলে গ্লাভস ছুঁয়ে শর্ট লেগে ক‌্যাচ দিলেন তখন ম্যাচের এপিটাফ লিখা হয়ে যায়। দিনের খেলার ২৩.১ ওভার আগেই বাংলাদেশের অভাবনীয় জয় লিখা হয়ে যায়। ক‌্যারিয়ার সেরা ৪০ রানে ৫ উইকেট নিয়ে নাহিদ তখন সপ্তম স্বর্গে।

বাংলাদেশকে জয় এনে দিয়েছে ইতিবাচক মানসিকতা। পঞ্চম দিনে লড়াইটা যেকোনো দিকেই যেতে পারত। কিন্তু জয়ের ক্ষুধায় মগ্ন নাজমুলরা কোনো ভুলও করলেন না। আগেভাগে ইনিংস ঘোষণা দিয়ে পাকিস্তানকে লম্বা সময়ের জন‌্য ব‌্যাটিংয়ে পাঠাল। তাইতো দিন শেষে শান্ত বুক ভরা আত্মবিশ্বাস নিয়ে বললেন, ‘‘আমরা অস্ট্রেলিয়া, ভারত ও ইংল‌্যান্ডের মতো বড় দল হইনি। তবে হতে হলে এ ধরণের সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আস্তে আস্তে সেদিকেই যাচ্ছি।’’

সকালের সেশনে ২০ ওভার খেলেছে বাংলাদেশ। স্কোরবোর্ডে যোগ করে ৮৮ রান। তাতে বাংলাদেশের লিড ২৬৭ রানের। প্রথম ইনিংসের মতো দ্বিতীয় ইনিংসেও সেঞ্চুরির সুযোগ ছিল অধিনায়ক নাজমুলের। কিন্তু দ্রুত রান তোলার তাড়ায় সেদিকে নজর দিলেন না। আক্রমণাত্মক ব‌্যাটিং করে ৮৭ রানে ফেরেন সাজঘরে। বাকিরাও রেখেছেন অবদান।

বাংলাদেশ ইনিংস ঘোষণা করে দেয় ১ উইকেট আগেই। বিরতির আগে পাকিস্তানকে বাজিয়ে দেখতে আগেভাগে ইনিংস ঘোষণা করে। যা ছিল দলের সাহসী সিদ্ধান্ত। সুফলও পেয়ে যায়। তাসকিন প্রথম ওভারেই দারুণ ইনসুইং ডেলিভারিতে উইকেটের পেছনে তালুবন্দি করান ইমাম উল হককে। সেই শুরু, এরপর টপাটপ পাকিস্তান শিবিরে আক্রমণ। তাতে খেই হারাল অতিথিরা। দ্বিতীয় সেশনে ২ এবং শেষ সেশনে ৭ উইকেট নেওয়ার চ‌্যালেঞ্জ নিয়ে একশতে একশ পেয়েছে বাংলাদেশ। 
দিনের সবচেয়ে আকর্ষণীয় তিন উইকেট নাহিদ রানার পকেটেই যায়। শান মাসুদকে বাড়তি গতিতে পরাস্ত করার পর সৌদ শাকিল ও মোহাম্মদ রিজওয়ানকে রিভার্স সুইংয়ে বিভ্রান্ত। রিজওয়ানের আউটের বর্ণনায় নাহিদ শুধু এতোটুকুই বলতে পারেন, ‘‘ইউ মিস আই হিট।’’

বলে কয়ে প্রাপ্তির যে আনন্দ তা পাওয়া যায় না অন‌্য কিছুতেই। দুই বছর আগে পাকিস্তানকে প্রথমবার টেস্টে হারানোর পরই শান্ত জানতেন, এই অর্জনই শেষ নয়। পাকিস্তান প্রতিশোধ নিতে মুখিয়ে থাকবে। হয়তো ঘরের মাঠে দুই বছর পর। সতর্ক বাংলাদেশ, আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ কোনো সুযোগই দিল না অতিথিদের। দুই বছরে জং ধরেনি পারফরম‌্যান্সে। প্রাপ্তির-অপ্রাপ্তি, ভুল-ভ্রান্তির কাঁটাছেঁড়া করা হবে নিশ্চিতভাবেই। সেগুলো আজকের সন্ধ‌্যায় তুলে রেখে ড্রেসিংরুমে গাইলো বিজয়ের গান, ‘‘আমরা করবো জয়, আমরা করবো জয়।’’ 

ঢাকা থেকে সিলেট। একই পরিকল্পনায়, একই রণ কৌশলে একই প্রাপ্তির খোঁজে থাকবে বাংলাদেশ। শান্তর দৃঢ় বিশ্বাস, এই বাংলাদেশ সাদা পোশাকেও উড়াবে সুখের উড়ান।

ঢাকা/ইয়াসিন/আমিনুল

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়