পরিস্থিতি যেমনই হোক জেতার জন্য খেলবো, প্রতিজ্ঞা নিয়েই নেমেছিল বাংলাদেশ
ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, ওয়েস্ট ইন্ডিজকে মিরপুরে হারানো গেছে। এশিয়ার দলগুলোর মধ্যে জয় পেয়েছে কেবল আফগানিস্তানের বিপক্ষে। বাগে পেয়েও শ্রীলঙ্কা ও ভারতকে হারানো যায়নি। পাকিস্তান বাকি ছিল…মঙ্গলবার সেই অপেক্ষাও দূর হয়েছে। ১০৪ রানের বিশাল ব্যবধানে বাংলাদেশ পাকিস্তানের বিপক্ষে পাঁচদিন লড়াইয়ের পর ম্যাচ জিতেছে।
শেষ দিনে দুই দলের জন্যই রোমাঞ্চ অপেক্ষা করছিল। বাংলাদেশ প্রথম সেশন ব্যাটিং করবে। এরপর পাকিস্তানকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়ে ম্যাচ জয়ের চেষ্টা করবে। এমন পরিকল্পনাই ছিল স্পষ্ট। তেমনটাই করলো নাজমুল অ্যান্ড কোং। কিন্তু এই চেষ্টাটা করলো নিজেদের মতো করে।
আক্রমণাত্মক ব্যাটিং, আগ্রাসী বোলিং এবং মাঠে ছাড় না দেওয়ার মানসিকতায় বাংলাদেশ হয়ে উঠল অনন্য, অসাধারণ।
ম্যাচটা আজ কিভাবে আগাবে, ব্যাটিংয়ে কখন আক্রমণে যাবে, কখন ইনিংস ঘোষণা করবেন সবকিছুই ছিল ছকে কাটা। আবার বোলিংয়ে কখন কী করবে তাও ছিল নাজমুলের মস্তিস্কে। আত্মবিশ্বাস নিয়েই অধিনায়ক বললেন, ‘‘আমরা সকাল থেকে পরিস্কার ছিলাম আমরা কি করতে চাই। ১৫-২০ রান বেশি করতে পারতাম। কিন্তু কখনো কখনো সাহসী সিদ্ধান্তটা নেওয়াটা জরুরি। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পেছনের আসল কারণই হলো, আমাদের বোলিং অ্যাটাক। যে পাঁচটা বোলার আমরা এই ম্যাচে খেলেছি, সবাই স্কিলফুল এবং সবাই ভালো বল করেছে।’’
শেষ সেশনে ৪৫ ওভারের মতো খেলা হতো। বাংলাদেশের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৭ উইকেট। পাকিস্তানের একটু প্রতিরোধ ম্যাচের চিত্র বদলে দিতে পারতো। সেদিকে বাংলাদেশ সজাগ থাকলেও নিজেদের ওপর বিশ্বাসই ছিল সবচেয়ে বেশি। নাজমুল সেই কথাই তুলে ধরলেন, ‘‘আজ সকাল থেকে আমাদের একটা মেসেজ ছিল যে, আমরা খেলাটা জেতার জন্য খেলবো। পরিস্থিতি যেরকমই থাক। টি- ব্রেকেও কোচ এই মেসেজটা দিয়েছে এবং আমরা সবাই ওই বিশ্বাসটা নিয়েই ঢুকেছিলাম যে এখান থেকে আমরা খেলাটা জিতবো। এবং যদি না জিততে পারি তাহলে ওদের যেন কষ্ট হয় খেলাটা বাঁচাতে। এরকমই মনোভাব ছিল। একবারের জন্যেও আমরা এরকম চিন্তা করিনি যে খেলাটা থেকে আমরা হেরে যেতে পারি বা এখান থেকে আমরা খেলাটা ড্র করতে চাই। আমাদের ওই এগ্রেসিভ মাইন্ডসেটটা ছিল এবং আমরা জেতার জন্য চেষ্টা করেছি।’’
স্কোরবোর্ডে ২৬৭ রানের লিড নিয়ে বাংলাদেশ ইনিংস ঘোষণা করে পাকিস্তানকে মধ্যাহ্ন বিরতির ঠিক আগে ব্যাটিংয়ে পাঠায়। নাজমুলের মতে, দল যে বড় হয়ে উঠতে শুরু করেছে, জয়ের নেশায় মগ্ন থাকছে এটি তারই প্রমাণ।
তার মতে, ‘‘এই টেস্ট ম্যাচে সবথেকে বড় দিকটা হচ্ছে ইনিংস ঘোষণা করা। এটা অনেক বড় সিদ্ধান্ত ছিল। যেটা নরমালি আমাদের দল কখনো করে নাই এভাবে। এই জিনিসটা আমাদের ভবিষ্যতে কাজে দিবে এবং এই সিদ্ধান্তটা ভবিষ্যতে আত্মবিশ্বাসী করবে। যে এখান থেকেও এভাবে ম্যাচ জেতা সম্ভব। এটা নতুন ভাবে হলো আমাদের ক্রিকেটে। এটা অবশ্যই ইতিবাচক।’’
আজকের জয়ে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের আরও ৮ পয়েন্ট নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। নতুন বছরের শুরুটা ভালো হওয়ায় নাজমুলের মুখে চওড়া হাসি। সামনে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে তাকে। সেটা জানেন বলেই পা মাটিতে রাখছেন, ‘‘অনেকদূর এখনই ভাবতে চাই না। ভালো শুরু হয়েছে। আমার মনে হয় সামনের টেস্ট ম্যাচটা গুরুত্বপূর্ণ। গত বছর আমরা হয়তো সাতে মনে হয় শেষ করেছিলাম। এবার যদি আমরা চার-পাঁচে শেষ করতে পারি তাহলে একটা ভালো অবস্থান তৈরি হবে। অনেক উন্নতির জায়গা আছে। এক টেস্ট ম্যাচ জিতেছি অনেক কথা হবে, অনেক ইতিবাচক কথা হবে। তারপরও বলবো দলগতভাবে উন্নতির জায়গা আছে।’’
ঢাকা/ইয়াসিন/আমিনুল
লিবিয়ায় ভূমধ্যসাগরের তীর থেকে ২ বাংলাদেশির মৃতদেহ উদ্ধার