ছোট স্পেলে বড় কীর্তিতে অনন্য অসাধারণ নাহিদ
নাহিদ রানা প্রথম স্পেলে যখন বোলিংয়ে এলেন বাংলাদেশের দরকার ছিল একটি ব্রেক থ্রুর। উইকেটে কিছুক্ষণই এলেন পাকিস্তানের অধিনায়ক শান মাসুদ। তাকে থিতু হতে দেওয়া মানেই বিপদ বাড়ানো। বাংলাদেশের জয়ের বাঁধা হতে পারেন তিনি। ডানহাতি পেসার তা হতে দিলেন কই! লেন্থ বল একেবারে চতুর্থ স্টাম্প ঘেঁষা ডেলিভারি। একেবারেই হালকা বাউন্স পেল। পাকিস্তানের অধিনায়ক শান নিজের ব্যাটটাই সরাতে পারলেন না। বল সোজা কিপারের হাতে।
চা-বিরতির পর তাসকিনের আক্রমণে পাকিস্তান শিবির যখন কাঁপছে তখন তাকে বিশ্রাম দিয়ে আবার নাজমুল হোসেন শান্ত নাহিদ রানার হাতে বল তুলে দেন। এবার টপাটপ উইকেট দরকার। বাংলাদেশের দাবি মেটালেন নাহিদ।
বল একটু পুরোনো হল। বল রিভার্স হওয়া শুরু করলো। তাতেই কাজ হয়ে গেল। সৌদ শাকিলকে ড্রাইভ খেলার আমন্ত্রণ জানালেন নাহিদ। ফুল লেন্থ বল উইকেটে পড়েই রিভার্স হয়ে বাইরে বেরিয়ে গেল। যাওয়ার আগে সৌদের ব্যাটের ছোঁয়া পেল। এরপর রিজওয়ান নাহিদের ভেতরে ঢোকানো বলে বোল্ড। বল লিভ করে রিজওয়ান বুঝতেই পারলেন না কিভাবে কী হয়ে গেল? এরপর নোমান আলী এবং সবশেষ শাহীন শাহ আফ্রিদির উইকেট নিয়ে নাহিদ পেয়ে গেলেন ফাইফারের স্বাদ।
প্রথম স্পেল ছিল ৫-০-৩০-১। দ্বিতীয় স্পেল ৪.৫-২-১০-৪। সব মিলিয়ে ৯.৫-২-৪০-৫।
গতি নিয়ে কোনো আপোষ নেই। আজকে সর্বনিম্ন গতিই ছিল ১৪৩.৫। সর্বোচ্চ ১৪৭ পর্যন্ত উঠিয়েছেন। বল সুইং করেছিয়েছেন। শর্ট করেছেন। বাউন্সার দিয়েছেন। রিভার্স করিয়েছেন। ব্যাটসম্যানদের থিতু হতে দেননি এক মুহূর্তের জন্য। তার আগুনে পুড়ে স্রেফ অঙ্গার পাকিস্তান।
পাকিস্তানকে তাদের মাটিতেই ২-০ ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। নিজেদের মাটিতে প্রথমবার হারানোর স্বাদ পেল। যে জয়ের অন্যতম নায়ক নাহিদ রানা, ‘‘রানা, আমরা জানি যে ও কত স্পেশাল এবং কত জোরে বল করে এবং তার সাথে স্কিলটাও ধীরে ধীরে উন্নত করছে। অনেক উপভোগ করছে। প্রতিপক্ষ ওর আগ্রাসন দেখে যেভাবে ভয় পাচ্ছিল তা দেখে ভালো লেগেছে।’’
বল হাতে নাহিদ করলেন তা ইতিহাসের পাতায় লিখা থাকবে অনন্তকাল। বাংলাদেশের প্রথম পেসার হিসেবে টেস্টের চতুর্থ ইনিংসে ৫ উইকেট পাওয়ার কীর্তি। নাহিদ পরিণত হয়ে উঠছেন সেই কথাও জানালেন নাজমুল, ‘‘আগে বোলিংয়ের সময় ওর সঙ্গে কথা বলার প্রয়োজন হতো। এখন আস্তে আস্তে শিখছে, আস্তে আস্তে করছে। অনেক সময় আমি ইচ্ছা করেই ওর কাছে যাই না। নিজের বুঝমতো বল করাটা গুরুত্বপূর্ণ। যা ভবিষ্যতে কাজে দেবে এবং ও নিজে থেকে শিখ এই জায়গায় আমার জুটিটা কাজে এসেছে।’’
নাজমুল চমকে গিয়েছিলেন নাহিদের রিভার্স সুইংয়ে। সৌদ শাকিল ও মোহাম্মদ রিজওয়ানকে যেভাবে বল রিভার্স করে আউট করেছেন নাহিদ তা মুগ্ধ হয়ে দেখেছেন দলের বাকিরাও। উইকেটের পেছনে দাঁড়িয়ে অধিনায়কও ভাবছিলেন কী হচ্ছে!
‘‘আমার মনে হয় যে রানার বল রিভার্স করানো একটু সারপ্রাইজিং। আমি লিটন বিশেষ করে পিছন থেকে আলাপ করছিলাম যে, বলটা এভাবে ভেতরে আসবে! আমরা দুজনই প্রত্যাশা করিনি। এটা একটা ভালো দিক। ভালো ভালো লাগার বিষয়। আমার মনে হয় যে এখানে বলটা খুব ভালো মেইনটেইন করেছে। যারা বল শাইন করছিল। ক্রেডিট দিতে হবে। আমার মনে হয় যে এটা একটা ভালো দিক।’’
অধিনায়ক শুধু নাহিদকেই প্রশংসায় ভাসাননি, আরেক প্রান্তে থাকা তাসকিন আহমেদ যে সুর বেঁধে দিয়েছেন তা মনে ধরেছেন তারও, ‘‘নাহিদের কথা বলার আগে আমি একটু তাসকিনের কথা বলবো। আসলে তাসকিন শুরুটা দিয়েছিল যেভাবে টি-ব্রেক পরে এসে বোলিং শুরু করেছে। ওই চার-পাঁচ ওভারের স্পেলটা আসলে ছন্দটা এনে দিয়েছে। এরপরই নাহিদ রানা।’’
নাহিদ ব্যাটিংয়ে থাকার সময় শাহীন শাহ আফ্রিদি বাউন্সার মেরেছিল তাকে। বল লেগেছিল নাহিদের হেলমেটে। নাহিদও জবাব দিয়েছেন পাল্টা বাউন্সার মেরে। নাহিদকে ‘ইট মারলে পাটকেল খেতে’ হবে সেই ধারণা দিয়ে রাখলেন নাজমুল, ‘‘ওরাও জানে যে রানাকে বাউন্সার মারলে আবার বাউন্সার খেতে হবে। আমি হলে রানাকে বাউন্সার মারতাম না। কারণ আমাদের স্বপ্নও নাই অত জোরে বাউন্সার খেলা। কিন্তু হ্যাঁ, অবশ্যই ভালো লাগে।’’
ঢাকা/ইয়াসিন/আমিনুল
লিবিয়ায় ভূমধ্যসাগরের তীর থেকে ২ বাংলাদেশির মৃতদেহ উদ্ধার