চাগোস দীপপুঞ্জ নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানালো যুক্তরাজ্য
আন্তর্জাতিক ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম
চাগোস দীপপুঞ্জ মরিশাসের কাছে হস্তান্তরের ব্যাপারে ট্রাম্পের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে যুক্তরাজ্য। মঙ্গলবার এই প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে।
২০২৫ সালের চুক্তি অনুযায়ী চাগোস দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব মরিশাসের কাছে হস্তান্তর করবে যুক্তরাজ্য। তবে, ডিয়েগো গার্সিয়া সামরিক ঘাঁটিটি আগামী ৯৯ বছর পর্যন্ত যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণেই থাকবে। মরিশাস সরকার দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছিল যে, ১৯৬৮ সালে ব্রিটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভের সময় তারা এই দ্বীপগুলো ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছিল।
গত ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্প যুক্তরাজ্যের প্রধামন্ত্রী কিয়ার স্টারমারকে বলেছিলেন, ওয়াশিংটন যুক্তরাজ্যের এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে ‘একমত হতে আগ্রহী’। এমনকি ২০২৫ সালের মে মাসে যখন চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়, তখন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই ‘ঐতিহাসিক চুক্তিকে স্বাগত’ জানিয়েছিলেন।
তবে মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক পোস্টে লেখেন, “চমকপ্রদভাবে, আমাদের ‘মেধাবী’ ন্যাটো মিত্র যুক্তরাজ্য বর্তমানে ডিয়েগো গার্সিয়া দ্বীপটি মরিশাসকে দিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। কোনো কারণ ছাড়াই তারা এটি করছে। যুক্তরাজ্যের এই চরম দুর্বলতার বিষয়টি যে চীন ও রাশিয়া যে লক্ষ্য করেছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। এই আন্তর্জাতিক শক্তিগুলো কেবল শক্তিকেই সম্মান করে। যুক্তরাজ্যের এমন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমি ছেড়ে দেওয়া চরম বোকামি।”
ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাজ্য সরকারের একজন মুখপাত্র বলেছেন, “যুক্তরাজ্য তার জাতীয় নিরাপত্তার সাথে কখনই আপস করবে না। আদালতের সিদ্ধান্ত আমাদের অবস্থানকে দুর্বল করে দেওয়ার পর এবং ভবিষ্যতে এটিকে উদ্দেশ্য অনুযায়ী পরিচালনা করতে বাধা দেওয়ার পর ডিয়েগো গার্সিয়ার ঘাঁটিটি হুমকির মুখে পড়ার কারণে আমরা পদক্ষেপ নিয়েছিলাম। এই চুক্তিটি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ডিয়েগো গার্সিয়ার উপর মার্কিন-ব্রিটিশ যৌথ ঘাঁটির কার্যক্রমকে সুরক্ষিত করে, যার অনন্য ক্ষমতা অক্ষুণ্ণ রাখার এবং আমাদের প্রতিপক্ষদের বাইরে রাখার জন্য শক্তিশালী বিধান রয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া এবং অন্যান্য সমস্ত ফাইভ আইজ মিত্র, সেইসাথে ভারত, জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়া সহ গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক অংশীদাররা এটিকে প্রকাশ্যে স্বাগত জানিয়েছে।”
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবং সরকারের প্রধান মুখপাত্র ড্যারেন জোন্স বলেছেন, “দ্বীপটির ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার জন্য এটিই সঠিক উপায় এবং আমি এক মুহূর্তের জন্যও বলব না যে ব্রিটেনের এই সিদ্ধান্তগুলোর মাধ্যমে লজ্জিত বা অপমানিত হওয়া উচিত। ভূ-রাজনীতি ক্রমশ অস্থির হয়ে উঠছে, আমি তা স্বীকার করি। কিন্তু আমাদের এতে ভীত হওয়া উচিত নয়।”
ঢাকা/শাহেদ