কলকাতায় আওয়ামী লীগের ৬ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার
কলকাতা ব্যুরো || রাইজিংবিডি.কম
ফাইল ফটো
ভিসার মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যাওয়ার পরেও ভারতের অবস্থানের অপরাধে কলকাতায় ৬ বাংলাদেশি নাগরিক গ্রেপ্তার হয়েছেন। গ্রেপ্তারকৃতরা বাংলাদেশের আওয়ামী লীগের তৃণমূল স্তরের নেতাকর্মী বলে জানা গেছে।
কলকাতা পুলিশ জানিয়েছে, আটককৃতদের বয়স ২৫ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। তারা মূলত বাংলাদেশের নোয়াখালি, টাঙ্গাইলের বাসিন্দা। কলকাতার কলিন স্ট্রিটের একটি হোটেলে হানা দিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পুলিশ আরো জানায়, দীর্ঘদিন ভিসার মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পরেও পার্ক স্ট্রিটের কাছে কলিন স্ট্রিটের একটি হোটেলে ৬ জন বিদেশি অবস্থান করছে বলে তাদের কাছে খবর আসে। ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে হোটেলটিতে অবস্থানরত বিদেশি বোর্ডারদের পাসপোর্ট, ভিসা পরীক্ষা করতে যান পুলিশ কর্মকর্তারা। দেখা যায় হোটেলটির একটি রুম ভাড়া নিয়েই রয়েছেন ৬ জন বাংলাদেশি। যারা মেডিকেল ভিসায় ভারতে আসলেও দীর্ঘদিন আগেই সেই ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। এমন ঘটনার জেরে ওই ছয় জনকেই হেফাজতে নেয় পুলিশ।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জেনেছে, এই বাংলাদেশি যুবকরা প্রত্যেকেই আওয়ামী লীগের সদস্য। বাংলাদেশ অশান্ত হওয়ার পর নিরাপত্তা শঙ্কায় মেডিক্যাল ভিসা নিয়ে পালিয়ে আসেন কলকাতায়। গত বছর ৬ জনই আলাদাভাবে দেশত্যাগ করেন। শারীরিক অসুস্থতা দেখিয়ে মেডিকেল ভিসা নিয়ে কলকাতায় এসে পৌঁছন। এখানে একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এরপর একেকসময় একেক হোটেলে থাকতে শুরু করেন। পরে টাকা শেষ হতে শুরু করলে চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের শুরু থেকে কলিন স্ট্রিটের হোটেলটির একটি রুমেই ৬ জন থাকতে শুরু করেন।
আরো জানা গেছে, গত বছরের নভেম্বর থেকে তাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হতে থাকে। জানুয়ারির মধ্যে প্রত্যেকেরই ভিসা শেষ হয়ে যায়। কিন্তু নিরাপত্তা শঙ্কায় কেউ বাংলাদেশে ফিরে যেতে চাননি। বরং কলকাতা থেকে বিদেশে পালিয়ে সেখানে চাকরির ছক কষছিলেন।
তাদের কাছ থেকে ৬টি বাংলাদেশের বৈধ পাসপোর্ট উদ্ধার হয়েছে। আটককৃতরা হলেন- আবির হোসেন, মোহাম্মদ মামুন রশিদ, মোহাম্মদ আলিমুন গাজি, আজম মোল্লা, ফয়জল আমিন, জায়দুল ইসলাম।
এদের মধ্যে আজম মোল্লা বাংলাদেশের গায়ক। জানা গেছে, তিনি কলকাতায় আসার পরও পরিচিত মহলে গান গেয়ে বেড়িয়েছেন।
রবিবার রাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর আজম নিজের গিটারও হাতছাড়া করতে চাননি। পার্ক স্ট্রিট থানার পুলিশ কর্মকর্তাদের জানান, তাকে যেন গান গাইতে দেওয়া হয়। যদিও সোমবার তাদের ব্যাঙ্কশাল আদালতে তোলা হলে ৬ জনকেই ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। গ্রেপ্তারির পরও আওয়ামী লীগের এই কর্মীরা পুলিশকে জানিয়েছেন, তারা দেশে ফিরতে চান না। যদিও সাজার মেয়াদের শেষে আইন মেনেই তাদের বাংলাদেশে ‘পুশ ব্যাক’ করার প্রক্রিয়া চলবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঢাকা/সুচরিতা/ফিরোজ