মার্কিন হামলা ঠেকাতে বিদ্যুৎ কেন্দ্রে আঘাতের হুমকি আইআরজিসির
ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র
উপসাগরীয় দেশগুলোর পানি শোধন স্থাপনায় হামলার পরিকল্পনা করছে তেহরান- যুক্তরাষ্ট্রের এমন দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। ইরানি বাহিনীটি মার্কিন এই দাবিকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে অভিহিত করেছে।
সোমবার (২৩ মার্চ) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে আল-জাজিরা।
আইআরজিসি এক বিবৃতিতে বলেছে, “আমরা কেবল আমাদের এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছি যে- যদি আমাদের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে কোনো হামলা হয়, তাহলে ইরান প্রতিশোধ হিসেবে দখলদার শাসনের (ইসরায়েল) বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং অঞ্চলের সেইসব দেশের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে হামলা চালাবে যারা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। একইসঙ্গে, সেইসব অর্থনৈতিক, শিল্প ও জ্বালানি অবকাঠামোও লক্ষ্যবস্তু করা হবে যেগুলোতে মার্কিনিদের অংশীদারিত্ব রয়েছে।”
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “আপনারা (যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল) আমাদের হাসপাতালে হামলা করেছেন, আমরা তা করিনি। আপনারা আমাদের ত্রাণ কেন্দ্রে হামলা করেছেন, আমরা তা করিনি; আপনারা আমাদের স্কুলে হামলা করেছেন, আমরা তাও করিনি। কিন্তু আপনারা যদি বিদ্যুৎ স্থাপনায় আঘাত করেন, তাহলে আমরাও আপনাদের বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় আঘাত করব।”
আইআরজিসি জানায়, যেকোনো হামলা প্রতিরোধ করার জন্য তারা সমপর্যায়ের পাল্টা ব্যবস্থা নেবে।
তারা আলো বলছে, “যেকোনো হুমকির বিপরীতে সমপর্যায়ের প্রতিরোধ গড়ে তুলতে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং আমরা তা করে দেখাব। আমেরিকা আমাদের সক্ষমতা সম্পর্কে জানে না, তারা সেটি যুদ্ধক্ষেত্রেই দেখতে পাবে।”
গত শনিবার (২২ মার্চ) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দেন যে, তেহরান যদি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে না দেয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো ‘ধ্বংস’ করে দেবে।
ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ লিখেন, “এই মুহূর্ত থেকে ঠিক ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইরান যদি কোনো হুমকি ছাড়াই হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে না দেয়, তাহলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিভিন্ন বিদ্যুৎ কেন্দ্রে আঘাত হানবে এবং সেগুলো নিশ্চিহ্ন করে দেবে- শুরুটা হবে সবচেয়ে বড়টি দিয়ে।”
তবে ট্রাম্পের এমন হুমকিতেও দমবার পাত্র নয় ইরান। পাল্টা জবাবে তেহরান জানায়, তারা এই জলপথ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেবে এবং ট্রাম্প হামলা চালালে এ অঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনায় প্রতিশোধমূলক হামলা চালাবে।
ঢাকা/ফিরোজ