ঢাকা     সোমবার   ২৩ মার্চ ২০২৬ ||  চৈত্র ১০ ১৪৩২ || ৩ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

মাঠের রস মাঠের রঙ্গ

নাজমুল হক তপন || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৪:০১, ২৩ মার্চ ২০২৬   আপডেট: ১৪:১৬, ২৩ মার্চ ২০২৬
মাঠের রস মাঠের রঙ্গ

খেলার মাঠ কি শুধুই হার-জিত এবং কিছু পরিসংখ্যানের সমাহার? উত্তর অবশ্যই ‘না’। কিছু সংখ্যার মধ্যে কখনোই সীমাবদ্ধ নয় মাঠের খেলা। ক্রিকেটে স্কোরবোর্ডকে বলা হয় ‘স্টুপিড’। মানে ক্রিকেট শুধু নিরেট সংখ্যা নয়। ব্যতিক্রম নয় অন্য খেলাগুলোও। যুগ যুগ ধরে মাঠের মজা হাজির হয়ে আসছে ভিন্ন আবেদন নিয়ে। খেলা মানুষকে আবেগে ভাসায়, স্বপ্ন দেখায়, আবার অসংখ্য হাসির উপকরণও জোগায়। মাঠের তারকাদের বোকামি, পাগলামি, ছেলেমানুষি নিয়ে আছে অসংখ্য গল্প। তারই কিছু তুলে ধরা হলো: 

বলের চুম্বনে রক্তিম গণ্ড

ক্রিকেট আর বলিউড এক বিনি সুতার মালা। ক্রিকেট তারকা আর বলিউড অপ্সরাদের অসংখ্য রোমাঞ্চ-প্রেমের গল্প ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। তবে মনসুর আলী খান পতৌদি আর শর্মিলা ঠাকুরের প্রেম-পরিণয় এক ব্যতিক্রম গল্প।

ততদিনে বলিউডে প্রতিষ্ঠিত শর্মিলা ঠাকুর। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘তার প্রিয় ক্রিকেটার পতৌদি।’ এর পরপরই ঘরোয়া একটা ম্যাচ দেখতে মাঠে যান শর্মিলা। পতৌদিরও নজরে পড়ল নায়িকাকে। ব্যাটের ঘাঁয়ে শর্মিলার কাছে বল পাঠানোর চেষ্টা করতে লাগলেন পতৌদি। সফলও হলেন। ভিআইপিতে বসা শর্মিলার কাছে গিয়ে বল আছড়ে পড়ল। ঘটনা নিয়ে এক সাংবাদিক লিখলেন, ‘বলের চুম্বনে রক্তিম গণ্ড।’ সংবাদের প্রতিবাদ করলেন শর্মিলা। বললেন, ‘ইয়েলো জার্নালিজম।’ এরপর দুজনের বন্ধুত্ব, প্রেম অতঃপর পরিণয়। যতদূর শোনা যায়, ওই সাংবাদিক নাকি শর্মিলাকে বলেছিলেন, ‘সঠিক সাংবাদিকতাই করেছিলাম সেদিন।’ 

বল বাতাসে থাকতেই ইনিংস ঘোষণা 

ক্রিকেট মাঠে বিনোদন, নতুনত্ব আর অভিনব সব বিষয়ের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত নাম ‘ডব্লিউ জি গ্রেস’। তার কাজকর্ম এক কথায়, কল্পনাকেও হার মানায়। তার কারণে ক্রিকেটে যে কত আইন পাল্টাতে হয়েছে তার ইয়াত্তা নাই। 

ডব্লিউ জি গ্রেস, মনসুর আলী খান পতৌদি, জাভেদ মিঁয়াদাদ

একটা ঘটনা স্মরণ করছি- ব্যাট করছেন গ্রেস। বলে সজোরে আঘাত করলেন। কিন্তু মিসটাইমিং। বল উঠে গেল অনেক উঁচুতে। বলা বাহুল্য, ব্যাটিং দলের অধিনায়ক তিনিই। বাতাসে ভেসে থাকা বল ফিল্ডার ধরার আগেই ইনিংস ঘোষণা করলেন গ্রেস। হাসতে হাসতে বললেন, ‘আমি নট আউট।’ কারণ ফিল্ডার ক্যাচ ধরেনি। এ নিয়ে তুমুল শোরগোল হলো। পাল্টানো হলো আইন। জানিয়ে দেওয়া হলো: বল ডেড ঘোষণার আগে ইনিংস ডিক্লেয়ার করা যাবে না। 

বোল্ড করেছি কিন্তু ব্যাটসম্যান কি আউট?

নিউজিল্যান্ড-ভারত ম্যাচ চলছে। বোলার ভারতীয় স্পিনার চন্দ্রশেখর। খুবই বাজে আম্পায়ারিং হচ্ছে। একের পর এক কট বিহাইন্ড/এলবিডব্লিউ আবেদন করে যাচ্ছেন চন্দ্রশেখর। কিন্তু প্রতিবারই নাকচ করে দিচ্ছেন আম্পায়ার। একবার ব্যাটসম্যানকে বোল্ড করলেন তিনি। তারপরই চিৎকার করে উঠলেন, হাউ’জ দ্যাট। আম্পায়ার কাছে ডাকলেন চন্দ্রশেখরকে। বললেন, ‘চিৎকার করছ কেন? দেখছ না ব্যাটসম্যান বোল্ড হয়েছে।’ চন্দ্রশেখর বললেন, ‘আই নো হি ইজ বোল্ড বাট ইজ হি আউট?’ 

চকলেটের লোভে মেসির অভিনব কৌশল

লিওনেল মেসির ছোটবেলার ঘটনা। ফুটবলের রাজপুত্র শৈশবেই জানিয়ে দিয়েছিলেন তার আগমনী বার্তা। তখনো দশ পূর্ণ হয়নি মেসির। তার চেয়ে ৪-৫ বছরের বড় ছেলেরাও মেসির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে পারত না। তার ছেলেবেলার কোচ মার্কনি ঘোষণা করেছিলেন, গোলপ্রতি একটা করে চকলেট দেবেন গোলদাতাকে। দেখা গেল, প্রতি ম্যাচেই ৭-৮টা গোল করে প্রায় সব চকলেট নিজের করে নিচ্ছেন মেসি। বলাবাহুল্য, মেসির প্রায় সবগুলো গোলই ছিল পায়ের কারুকাজে। সবাইকে কাটিয়ে বল জালে পাঠিয়ে দিত। 

মেসি একাই সব চকলেট নিয়ে নিচ্ছে, এটা বন্ধ করতে ভিন্ন কৌশল নিলেন কোচ। বললেন, পায়ের গোলের জন্য আর চকলেট দেবেন না। হেড প্রতি গোলের জন্য একটি করে চকলেট দেবেন। পাল্টা কৌশল নিলেন মেসি। বল নিয়ে সবাইকে কাটিয়ে, শূন্য গোলপোস্টের সামনে বলকে ফ্লিক করে বাতাসে ভাসালেন। তারপর হেডে গোল করলেন। বেচারা কোচ!

ফিল্ডিং পজিশনের বর্ণনায় নারীর শরীর

দক্ষিণ আফ্রিকা-ইংল্যান্ড টেস্ট ম্যাচ চলছে। নিশ্চিত ড্রয়ের পথে ম্যাচ। নিরুত্তাপ, নিষ্প্রাণ খেলা। গ্যালারিতে উত্তাপ ফেরাতে এক তরুণী করলেন এক অদ্ভুত কাণ্ড। পরিধেয় পোশাক খুলে ফেললেন। শরীরে সুতা নাই। এরপর মাঠের মাঝে নেমে শুরু করলেন দৌড়ানো। ধারাভাষ্যকাররা কিংকর্তব্যবিমূঢ়! মাইক্রোফোন হাতে নিলেন কথার মাস্টার জেফ্রি বয়কট। খুব স্টাইল করে বললেন, ‘আই থিংক, দেয়ার ইজ নাইদার কভার নর এক্সট্রা কভার, দেয়ার ইজ আ ডিপ গালি বিটুইন টু শর্ট ফাইন লেগ।’ এভাবে পুরো ফিল্ডিং পজিশনের এক চৌকষ বর্ণনা দিলেন বয়কট। 

তোর রুম নম্বর কিৎনা!

মোজাজি হিসেবে পরিচিত ছিলেন পাকিস্তানের মাস্টার ব্যাটসম্যান জাভেদ মিয়াঁদাদ। ভারতীয় পেসার চেতন শর্মাকে শেষ বলে ছক্কা মেরে শিরোপা জয়ের কীর্তিও আছে তার। একবার চেতন শর্মার মুখোমুখি হয়েছেন মিয়াঁদাদ। এক পর্যায়ে শর্মাকে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘তোর হোটেল রুম নম্বর কিৎনা?’ উত্তরে চেতন শর্মা বললেন, ‘রুম নম্বর দিয়ে কি হবে?’ মিয়াঁদাদের উত্তর, ‘একটা বল মেরে তোর হোটেল রুমে পাঠাব।’ 

ঘাস গরুর জন্য ‍

টেনিস ইতিহাসের অন্যতম সেরা তারকা ইভান লেন্ডেল। ক্যারিয়ারে জিতেছেন আটটি গ্র্যান্ড স্লাম। কিন্তু ঘাসের কোট উইম্বলডনে ছিলেন সুপার ফ্লপ। এককে একটিবারের জন্যও উইম্বলডন শিরোপা জিততে পারেননি। একবার উইম্বলডন থেকে বিদায় নেয়ার পর তিতিবিরক্ত হয়ে বলেছিলেন, ‘আই থিংক গ্রাসেস আর ফর কাউ’জ।’ 

নানা রঙের ফুটবল ও লিনেকার 

ফুটবলে মজাদার গল্প বলার ক্ষেত্রে জুড়ি মেলা ভার সাবেক ইংলিশ স্ট্রাইকার গ্যারি লিনেকারের। ১৯৮৬’র বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতা বলেছিলেন, ‘বিশ্বকাপ শুরুর আগে অবশ্যই ইংল্যান্ড ফেভারিট। আর বিশ্বকাপ শুরুর পর, যেমন বুদ্ধি হওয়ার পর আমি কখনো ইংল্যান্ডকে ফাইনালে উঠতে দেখিনি।’ 

লিনেকার কেমন মজা করতেন, তার একটা নমুনা দেয়া যাক। তার সময়ে বিশ্বের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার ছিলেন ক্লিন্সম্যান। মাঠের মধ্যে এই জার্মান স্ট্রাইকার ছিলেন অভিনয়ে ভীষণ পটু। ড্রাইভ দিয়ে মাটিতে গড়াগড়ি খেয়ে ফ্রি-কিক আদায় করতেন নিয়মিত। ১৯৯০ সালে বিশ্বকাপ ফাইনালেও ক্লিন্সম্যানের অভিনয় দক্ষতার কাছে বোকা বনে গিয়েছিলেন রেফারি। খেলার শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি পায় জার্মানি। আর তাতেই শেষ হয়ে যায় আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন। এর বেশ কিছুদিন পর ইংলিশ ক্লাব টটেনহাম হটস্পারে খেলতে আসেন ক্লিন্সম্যান। অনেকের মধ্যে সেদিন লিনেকারও ছিলেন। স্বভাবতই লিনেকারের সঙ্গে হ্যান্ডশেক করেন জার্মান স্ট্রাইকার। হাত মেলানোর সময় লিনেকার বলে বসেন, ‘এই প্রথমবারের মতো আপনার শরীর স্পর্শ করার পরও আপনি মাটিতে পড়ে গেলেন না।’ 

লিওনেল মেসি

বিশ্বকাপ ফুটবলে ইংল্যান্ড নিজেদের কতটা ফেভারিট মনে করে, এ নিয়ে আছে দারুণ এক ঘটনা। ১৯৫০ সালের বিশ্বকাপ। সম্ভাব্য শিরোপার দাবিদার হিসেবে মিডিয়াতে ইংল্যান্ডের ছিল জয়জয়কার। কিন্তু প্রথম রাউন্ডের গ্রুপ পর্বে ফুটবলের অখ্যাত দল যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ০-১ গোলে হেরে যায় ইংল্যান্ড। তখন ছিল ফ্যাক্সের যুগ। ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত ওই বিশ্বকাপ কভার করতে এসেছিলেন মাত্র একজন ইংলিশ রিপোর্টার। নিউজ এজেন্সিতে কাজ করতেন ভদ্রলোক। তিনি রেজাল্ট লিখলেন, ইংল্যান্ড (০), যুক্তরাষ্ট্র (১)। ফ্যাক্স বার্তা ছিল বেশ অস্পষ্ট। বার্তা সংস্থার তদারকির দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি মনে করলেন, হয়তো ১ অঙ্কটি বাদ পড়েছে। তিনি কারেকশন করে রেজাল্ট লিখলেন, ইংল্যান্ড (১০), যুক্তরাষ্ট্র (১)। ওই নিউজ এজেন্সির রিপোর্ট অনুকরণ করে অনেক বিলাতি পত্রিকায় লেখা হয়েছিল, ইংল্যান্ড ১০-১ গোলের ব্যবধানে হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রকে। 

মাঠের মজায়ও সেরা ম্যারাডোনা

বিশ্বকাপ চলছে। টিভির সামনে উপচেপড়া ভিড়। গ্রামের দাদিতুল্য সেই বয়স্ক নারীর ভাষায়, খেলার সব কথাই ইংরাজিতে। খালি ‘ম্যারাডোনা’ নামটাই বাংলা। সম্ভবত সময়টা ২০০৮ সাল। তখনো আর্জেন্টিনার কোচ হননি ম্যারাডোনা। ওই সময় দুই হাজার মিটারের চেয়ে বেশি উচ্চতায় ফুটবল খেলা নিষিদ্ধ ঘোষণা করল বিশ্ব ফুটবল অভিভাবক ফিফা। যার অর্থ লাতিন আমেরিকার দুই দেশ বলিভিয়া ও ইকুয়েডরের ফুটবল চিরতরে শেষ হয়ে যাওয়া। কেননা সমুদ্রপৃষ্ট থেকে কুইটোর উচ্চতা আড়াই হাজার মিটার, আর লাপাজের উচ্চতা সাড়ে ৩ হাজার মিটারেরও বেশি। এ রকম একটা সময়ে লাপাজে বলিভিয়ার প্রেসিডেন্টের উপস্থিতিতে লাখো জনতার সামনে আবেগঘন ভাষায় ম্যারাডোনা বললেন, ‘ফুটবল খেলা মানুষের জন্মগত অধিকার। মানুষের এ অধিকার স্বয়ং ঈশ্বরও কেড়ে নিতে পারেন না। আর এ তো সামান্য ফিফা!’

পরে অবশ্য এ ঘোষণা থেকে ফিফা সরে আসে। এরপর আর্জেন্টিনার কোচ হিসেবে নিয়োগ পান ম্যারাডোনা। যতদূর মনে পড়ে, ওই বিশ্বকাপে দক্ষিণ আমেরিকা জোনের বাছাইপর্বে লাপাজে বলিভিয়ার কাছে ছয় গোল খেয়েছিল আর্জেন্টিনা। সমুদ্রপৃষ্ট থেকে এত উঁচুতে খেলতে গিয়ে নাভিশ্বাস উঠে গিয়েছিল লিওনেল মেসিদের। ম্যারাডোনার ফুটবল ভক্তির তুলনায় এসব হার-জিত আসলে কোনো গুরুত্বই বহন করে না।

আরেকবার লন্ডনে বিশাল হল রুমে অতিথি হিসেবে বক্তব্য দিচ্ছেন ম্যারাডোনা। দর্শকের আসনের চারিদিক থেকে ম্যারাডোনাকে লক্ষ্য করে ছুটে আসছে অসংখ্য কটু বাক্য, দুয়োধ্বনি। এরই মধ্যে একজন দর্শক একটা কাগজের টুকরোকে বল বানিয়ে ছুড়ে দিলেন ম্যারাডোনার দিকে। কাগজের বলটা লাগল তার কপালের একটু ওপরে। কি একটা বিশেষ কায়দায় ওই বল প্রথমে ডান, এরপর বাঁ পায়ে নিয়ে সজোরে কিক করলেন ম্যারাডোনা। উড়ন্ত বল গিয়ে লাগল যিনি বল ছুড়েছিলেন সেই ভদ্রলোকের মাথায়। এ ঘটনায় প্রথমে দশর্ক হতভম্ব। এরপর করতালিতে ফেটে পড়ল হল রুম।

সাংবাদিকদের কবলে দুই কিংবদন্তি পেলে ও ম্যারাডোনা

সর্বকালের সেরা ফুটবলার কে, এ বিতর্কের কোনো মীমাংসা হয়তো কখনো হবে না। ‘লা নোচে ডেল’ (দশ নম্বরের রাত) নামে একটা টিভি প্রোগ্রাম করতেন ম্যারাডোনা। ওই প্রোগ্রামে অংশ নিতেন বিশ্বের সব নামিদামী মানুষ। ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব ছাড়াও শোবিজের খ্যাতিমানরাও আসতেন ওই অনুষ্ঠানে। যাহোক, একবার ওই অনুষ্ঠানে পেলে উপস্থিত। উপস্থিত দর্শক ছেঁকে ধরলেন দুজনকেই। সবার দাবি, সর্বকালের সেরা ফুটবলার কে, এটা আজ আপনারা দুজন ফয়সালা করে দিয়ে যান। প্রথমে পেলে। কূটনীতির কায়দায় পেলে খুব সুন্দরভাবে গুছিয়ে বললেন, ‘ফুটবল উপভোগের বিষয়। দুজন সৎ মানুষ। কেন প্রতিদ্বন্দ্বিতার কথা আসছে? তাছাড়া দুই সময়ের দুজন।’ এমন সব কেতাবি-কথাবার্তা আর কি! ওসব কেতাবি কথার ধার দিয়েও গেলেন না ম্যারাডোনা। বললেন, ‘এর উত্তর খুব সোজা। পেলের মা মনে করেন, পেলে সর্বকালের সেরা ফুটবলার। আর ম্যারাডোনার মা মনে করেন ম্যারাডোনা সর্বকালের সেরা।’

ক্রিকেটারদের ঘুম: বাভুমা, ধোনি কিংবা ডি ভিলিয়ার্স 

২০২৩ ওয়ান ডে বিশ্বকাপ শুরুর আগে ক্যাপ্টেন্স ডে-তে ঘটল এক অবাক করা ঘটনা। জমজমাট উপলক্ষ্য। একমঞ্চে বিশ্বসেরা দলের অধিনায়কেরা। বিশ্বকাপ নিয়ে প্রশ্ন করে যাচ্ছেন সাংবাদিকরা। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ। ক্রিকেটে রাজনীতির প্রভাব। এবারের বিশ্বকাপ ওয়ানডে ক্রিকেটকে বাঁচিয়ে রাখতে পারবে কিনা, এমন সব প্রশ্নের ঝড় তুলছেন সাংবাদিকরা। হঠাৎই সবাই লক্ষ্য করল, দুচোখ বন্ধ করে আছেন দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক তেম্বা বাভুমা। 

ক্রিকেটের অন্য প্রতিষ্ঠিত দলগুলোর চেয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার বিশ্বকাপ আলাদা। তাদের নামের পাশে তিন-চারটি বিশ্বকাপ ট্রফি থাকলেও অবাক হওয়ার কিছু ছিল না। অথচ আজ অবধি ওয়ানডে বিশ্বকাপ ফাইনালেই উঠতে পারেনি প্রোটিয়ারা। এই ঐতিহাসিক ট্র্যাজেডির উত্তর দিতে দিতে ক্লান্ত দলটির অধিনায়করা। 

দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেটের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ অধিনায়ক বাভুমার এই ঘুম নিয়ে আলোচনা-গবেষণাও হয়েছে বিস্তর। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। অনেকেই বলেছেন, বাভুমার এটা একটা কৌশল। চোকার্স, এই প্রশ্নের উত্তর দিতে চাননি গত বিশ্বকাপে আকার-আকৃতিতে সবচেয়ে ছোটখাটো এই মানুষটি। অনেকেরই মন্তব্য, সাংবাদিকরা বেশি মাতামাতি করছিল ভারত-পাকিস্তান অধিনায়ককে নিয়ে। তাই কিছু করার না পেয়ে ঘুমকেই শ্রেয় জ্ঞান করেছেন বাভুমা। 

খেলার মাঝেই মানে ম্যাচ চলাকালীন ক্রিকেটারদের ঘুমিয়ে পড়ার যথেষ্ট নজির আছে। আর ঘুমিয়ে পড়ার দিক থেকে চ্যাম্পিয়ন, এই চ্যাম্পিয়ন ক্রিকেটাররাই। এই তালিকায় আছেন, ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সফল অধিনায়ক মাহেন্দ্র সিং ধোনি, সর্বকালের অন্যতম সেরা হার্ডহিটার বিবেচিত এ বি ডিভিলিয়ার্স, এ সময়ে অস্ট্রেলিয়ার রান মেশিন মার্নাস লাবুশেন। 

২০১৭ সালে পাল্লেকেলে স্টেডিয়ামে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি ভারত। সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডে। ম্যাচে লঙ্কানদের অবস্থা বেশ খারাপ। মাঠের মধ্যে বোতল ছোড়া শুরু করেছেন দর্শক। খেলা বন্ধ রাখতে বাধ্য হলেন আম্পায়াররা। এত কিছুর মাঝে মাঠেই সটান শুয়ে পড়লেন ধোনি। দুই চোখ বুজে দু’হাতে মাথা রেখে ঘুমানোর ভঙ্গিমায় দেখা গেল ধোনিকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ছবিটি ভাইরাল হতে সময় লাগল না। 

পতৌদির বাহুডোরে শর্মিলা ঠাকুর

২০১৪ সাল। ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বক্সিং ডে টেস্ট খেলছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ব্যাটিংয়ে ডিন এলগার ও ফাফ ডুপ্লেসিস। ক্যারিবীয় বোলারদের উপর ছড়ি ঘুরিয়ে ৬৩ ওভারের জুটি গড়ে ফেলেছেন দু’জন। এই জুটি ভাঙলে উইকেটে আসার কথা ডি ভিলিয়ার্সের। সতীর্থ এই জুটির জমে যাওয়া দেখে ড্রেসিংরুমে ঘুমিয়ে পড়লেন ডি ভিলিয়ার্স।  

টেস্ট বিশ্বকাপ ফাইনালের মতো ম্যাচে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন অজি রানমেশিন লাবুশেন। টেস্ট শিরোপাযুদ্ধে দ্বৈরথে নামে অস্ট্রেলিয়া ও ভারত। কেনিংটন ওভালের এই ফাইনালে ব্যাট করছিলেন দুই অজি ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার ও উসমান খাজা। ওয়ান ডাউনে নামার কথা লাবুশেনের। খুব স্বচ্ছন্দের সঙ্গে খেলছিলেন দুই অজি ওপেনার। হঠাৎ আবিষ্কার করা গেল, ব্যালকনিতে ঘুমিয়ে পড়েছেন লাবুশেন। ওয়ার্নার আউট হওয়ার পর সন্বিত ফিরে পান লাবুশেন। তার এই ঘুমন্ত ছবিটি ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়। মাত্র ২৪ ঘণ্টায় ছবিটিতে লাইক পড়ে এক মিলিয়নেরও বেশি। মোট কথা শত প্রতিকূলতার মধ্যে নির্ভার থেকে ঘুমিয়ে পড়তে পারেন কেবল চ্যাম্পিয়নরাই।

ঢাকা/তারা//

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়