ঢাকা     সোমবার   ২৩ মার্চ ২০২৬ ||  চৈত্র ১০ ১৪৩২ || ৩ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইন, তেল পেতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৪:৩৭, ২৩ মার্চ ২০২৬  
পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইন, তেল পেতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা

তেল পেতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে চালকদের। ছবি: রাইজিংবিডি

ঢাকার বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি তেলের সংকটে দেখা দিয়েছে। তেল পেতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে চালকদের। কোথাও সরবরাহ বন্ধ, আবার কোথাও সীমিত তেল দেওয়ায় ভোর থেকেই মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ির সারি তৈরি হয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন তেল নিতে আসা চালকরা।

নগরীর বিজয় সরণি এলাকায় অবস্থিত ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনে রবিবার (২৩ মার্চ) সন্ধ্যা থেকে সোমবার (২৩ মার্চ) দুপুর ১টা পর্যন্ত জ্বালানি তেল সরবরাহ বন্ধ। ফলে এদিন ভোর থেকেই স্টেশনের সামনে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়, যা ধীরে ধীরে বিস্তৃত হয়ে জাহাঙ্গীর গেট পর্যন্ত পৌঁছে যায়। ফলে তেল নিতে আসা মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার চালকরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। 

আরো পড়ুন:

জ্বালানি তেল বিতরণের ওপর থেকে সরকারি রেশনিং ব্যবস্থা তুলে নেওয়া হলেও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার ফিলিং স্টেশনে আগের মতোই তেলের সংকট রয়েই গেছে। রাজধানীর অনেক এলাকায় ফিলিং স্টেশন বন্ধ থাকায় ভোগান্তি বেড়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সোমবার সকালে রাজধানীর মেরাদিয়া এলাকার বনশ্রী ফিলিং স্টেশন, তেজগাঁও এলাকায় মেসার্স সততা অ্যান্ড কোম্পানির ফিলিং স্টেশন, সিকদার ফিলিং স্টেশন, আইডিয়াল ফিলিং স্টেশনে তেল দেওয়া বন্ধ রখেছে। এদিকে, রাজধানীতে তেল পাওয়ার অন্যতম ভরসাস্থন ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনেও তেল দেওয়া বন্ধ ছিল। তেল নেওয়ার আশায় শত শত মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার চালক ফিলিং স্টেশনগুলোর সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। কিন্তু ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তেল না পেয়ে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে লাইন ছেড়ে বিকল্প ফিলিং স্টেশনের খোঁজে ছুটছেন। 

তবে দুপুর ১টার পর থেকে ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনে তেল সরবরাহ শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে তেল সংকট কাটাতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনে পরিচালক মেজর তৌহিদ বলেন, “জ্বালানি তেলের সরবরাহ সীমিত থাকার কারণে আমরা রবিবার সন্ধ্যা থেকে এ পর্যন্ত তেল বিপণন সাময়িকভাবে স্থগিত রেখেছি। এ মুহূর্তে আমরা ২৭ হাজার লিটার তেল পেয়েছি। আরো তেল আসবে। সব মিলিয়ে আমরা ৩৬ হাজার লিটার তেল পাব। এরইমধ্যে তেল আনলোড করে বিক্রি শুরু হয়েছে।” 

মোটরসাইকেল রাইড শেয়ারিং করা একজন চালক বলেন, “ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে এসেছি। তখন থেকে তেলের অপেক্ষায় আছি। খুবই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে, বিশেষ করে আমরা যারা রাইট শেয়ারিং করি। সরকারের এ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা উচিত।”

এদিকে, দীর্ঘ সারির কারণে বিজয় সরণি ও আশপাশের সড়কে মাঝে মধ্যেই জটলা লাগতে দেখা গেছে। 

মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ঘিরে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়ার পর দেশে জ্বালানি তেলের ঘাটতি নিয়ে আতঙ্ক দেখা দেয়। অনেক ক্রেতা প্রয়োজনের চেয়ে বেশি জ্বালানি কিনতে শুরু করলে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে গত ৬ মার্চ থেকে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল বিক্রিতে সীমা বেঁধে দেয় সরকার।

পরে রাইডশেয়ারিং চালকদের কথা বিবেচনায় মোটরসাইকেলের সীমা দুই লিটার থেকে বাড়িয়ে পাঁচ লিটার করা হয় এবং সামগ্রিক রেশনিং ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়।

ঈদযাত্রা ও কৃষি মৌসুমের কথা বিবেচনায় গত ১৫ মার্চ থেকে জ্বালানি বিক্রিতে চালু থাকা রেশনিং ব্যবস্থা তুলে নেয় সরকার।

দেশের ফিলিং স্টেশনগুলোতে আগের মতো স্বাভাবিকভাবে জ্বালানি সরবরাহ ও বিক্রি চলবে জানানো হলে ঈদের ছুটিতেই ঢাকার বিভিন্ন পাম্পে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে।

ঢাকা/এনটি/ইভা 

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়