ঢাকা     সোমবার   ২৩ মার্চ ২০২৬ ||  চৈত্র ১০ ১৪৩২ || ৩ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

ঈদ শেষেও বাজারে নেই স্বস্তি 

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৩:০০, ২৩ মার্চ ২০২৬   আপডেট: ১৪:১৭, ২৩ মার্চ ২০২৬
ঈদ শেষেও বাজারে নেই স্বস্তি 

ঈদুল ফিতরের উৎসব শেষ হলেও রাজধানীর কাঁচাবাজারে স্বস্তি ফেরেনি। সবজি, মাছ, মাংস ও ডিম—প্রায় সব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামই রয়ে গেছে চড়া। সরবরাহ কমার অজুহাতে ব্যবসায়ীরা দাম কমাচ্ছেন না, ফলে বাড়তি খরচের চাপে পড়েছেন ক্রেতারা। 

সোমবার (২৩ মার্চ) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

আরো পড়ুন:

সবজির বাজারে ৬০ টাকার নিচে কোনো পণ্য মিলছে না যা মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করছে।

বাজারে গিয়ে দেখা যায়, একটি লাউ বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকায়, চাল কুমড়া ৫০ থেকে ৬০ টাকা। প্রতি কেজি কালো বেগুন ১১০ থেকে ১২০ টাকা, সাদা গোল বেগুন ১০০ টাকা। করলা ১০০ থেকে ১২০ টাকা, ঢেঁড়স ৮০ টাকা, বরবটি ১০০ টাকা, চিচিঙ্গা ৮০ টাকা, উচ্ছে ১০০ টাকা এবং সিম-পটল ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সবজির মধ্যে সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে সজনে ডাঁটা প্রতি কেজি ১২০ থেকে  ১৪০ টাকা। কাঁচা মরিচ ১২০ টাকা, টমেটো ৮০ টাকা এবং শসা ৬০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। ধনিয়া পাতার প্রতি কেজি ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মাংসের বাজারেও স্বস্তি নেই। গরুর মাংস প্রতি ৭৮০ থেকে  কেজি ৮৫০ টাকা, খাসির মাংস ১১০০ টাকা ১ ৩৫০  টাকা। ব্রয়লার মুরগি ১৯০ থেকে ২১০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ডিমের বাজারেও দাম কমেনি। প্রতি ডজন লাল ডিম ১০০ থেকে ১১০ টাকা, সাদা ডিম ১০০ টাকা এবং হাঁসের ডিম ২২০ থেকে ২৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজারে তেমন পরিবর্তন নেই। পোয়া মাছ ৩৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২২০ থেকে ২৫০ টাকা, পাঙ্গাস ২৪০ থেকে ২৬০ টাকা এবং রুই মাছ ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ছোট গলদা চিংড়ি ১ হাজার টাকা এবং বড় গলদা ১ হাজার ২০০ টাকা। এছাড়া, টেংরা মাছ ৭০০ টাকা এবং পাবদা ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মালিবাগ কাঁচাবাজারের এক সবজি বিক্রেতা আবদুল করিম বলেন, “ঈদের পর পাইকারি বাজারে সবজির সরবরাহ কিছুটা কমেছে। যে পণ্য আসছে, তা বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। তাই খুচরা বাজারেও দাম কমানো যাচ্ছে না। আমরা স্বাভাবিক লাভেই বিক্রি করছি।”

একই বাজারের মাছ বিক্রেতা জাহিদ হোসেন বলেন, “নদীর মাছ কম আসছে, আর ঘেরের মাছের উৎপাদন খরচও বেড়েছে। তাই মাছের দাম কমার সুযোগ নেই এখনই।”

অন্যদিকে, ক্রেতাদের মধ্যে ক্ষোভ স্পষ্ট। রায়েরবাগ এলাকার বাসিন্দা আয়েশা খাতুন বলেন, বাজারে পণ্যের কোনো ঘাটতি নেই, বরং ক্রেতাই কম। তারপরও কেন দাম কমছে না—তা বোঝা যাচ্ছে না। সবজির সঙ্গে মাছ-মাংসের দামও চড়া।

শনিরআখড়া থেকে মো. সোহেল মিয়া নামে এক ক্রেতা বলেন, “আগে ৫০০ টাকায় যে বাজার হতো, এখন সেই বাজার করতে গেলে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা লাগে। সংসার চালানো কঠিন হয়ে গেছে।” 

আবুল হোসেন নামে আরেক ক্রেতা বলেন, “ঈদের পর বাজারে স্বস্তি ফেরার প্রত্যাশা ছিল, দাম না কমে বরং বেড়েছে। সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের হিসাব আরও কঠিন হয়ে উঠছে।”

ঢাকা/এএএম/ইভা 

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়