ঢাকা     বুধবার   ২৫ মার্চ ২০২৬ ||  চৈত্র ১২ ১৪৩২ || ৬ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

যশোর-খুলনা ভারতের বলে দাবি করলেন বিজেপি নেতা 

কলকাতা ব্যুরো || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২১:২৭, ২৫ মার্চ ২০২৬   আপডেট: ২১:২৮, ২৫ মার্চ ২০২৬
যশোর-খুলনা ভারতের বলে দাবি করলেন বিজেপি নেতা 

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে থাকা কোনো বিতর্কিত ভূখণ্ড নয়, খোদ বাংলাদেশের যশোর ও খুলনার বিভাগের অর্ধেক ভূখণ্ডের দাবি করেছেন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। বাংলাদেশ থেকে ভারতে অনুপ্রবেশ ঘটছে এমন প্রসঙ্গে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শমীক বলেছেন, “বাংলাদেশ থেকে কেউ এলে জমি নিয়ে আসুক। না হলে যশোর-খুলনা ভারতের সঙ্গে যুক্ত করুক।”

পশ্চিমবঙ্গে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে মঙ্গলবার মুরলীধর সেন রোডে রাজ্য বিজেপির দলীয় কার্যালয়ে সামাজিক সম্মেলন করেন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দল নেতা শুভেন্দু অধিকারী ও রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।  সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য দাবি করেন, আসন্ন নির্বাচনে তাদের প্রধান লক্ষ্য - পশ্চিমবঙ্গকে ‘পশ্চিমবাংলাদেশ’ হতে না দেওয়া।

সাংবাদিক বৈঠক থেকে তৃণমূল সরকারকে সরাসরি নিশানা করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তার অভিযোগ, ধর্মের ভিত্তিতে রাজনীতি করে রাজ্য এবং দেশের ভবিষ্যৎ বিপন্ন করা হচ্ছে। বিজেপি ক্ষমতায় এলে এই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটানো হবে।

খিদিরপুর, মহেশতলা এবং মুর্শিদাবাদের সাম্প্রতিক ধর্মীয় উত্তেজনার প্রসঙ্গ টেনে শমীক জানান, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ধর্মীয় মেরুকরণ বাড়ানো হয়েছে। সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে জনবিন্যাসেও পরিবর্তন এসেছে এবং বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশের অভিযোগও ফের তোলেন তিনি। 

এরপরেই বিতর্ক উস্কে দিয়ে তিনি বলেন, “কী চেহারা বানিয়ে দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের , সীমান্তবর্তী প্রত্যেক জেলার জনবিন্যাস পরিবর্তন হয়েছে, এরা রাজবংশীর জমি ছিনিয়ে নিচ্ছে, আদিবাসী জমি ছিনিয়ে নিচ্ছে ভারতের জমি নিয়ে নিচ্ছে। বাংলাদেশ থেকে যদি আসতেই হয় আসুন সঙ্গে করে জমি নিয়ে আসুন। আমরা তো বলছি তোমাদের যদি রেখে দেওয়ার ক্ষমতা না থাকে, যদি তাদের খাওয়ানো ক্ষমতা না থাকে তাহলে যাদের পাঠানোর পাঠিয়ে দাও। তাদের সাথে সাথে যশোরের অর্ধেক ও খুলনার পুরনো যে হিসাব ছিল সেগুলো হিন্দুস্থানে যুক্ত করো। এমনটা চলতে পারে না।”

তবে একই সঙ্গে শমীক ভট্টাচার্য দাবি করেন, বিজেপি কোনো ধর্মের বিরোধী নয়। তিনি বলেন, “ভারতীয় মুসলমানদের সঙ্গে আমাদের কোনো বিরোধ নেই। আমরা এপিজে আব্দুল কালাম ও কাজী নজরুল ইসলামের মতো ব্যক্তিত্বদের সম্মান করি।”

বাবরি মসজিদ প্রসঙ্গ টেনেও মন্তব্য করেন তিনি। তার বক্তব্য, অতীতের ‘গোলামির প্রতীক’ আর ফিরতে দেওয়া হবে না এবং কেউ চেষ্টা করলে রাজ্যের সব সম্প্রদায় একসঙ্গে তার বিরোধিতা করবে।
 

ঢাকা/সুচরিতা/শাহেদ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়