মার্কিন নৌ অবরোধ: কতদিন তেল ধরে রাখতে পারবে ইরান
হরমুজ প্রণালি ও ইরানি বন্দরগুলোতে গত ১৩ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের কারণে ইরানের অপরোশিত তেল রাখার ধারণক্ষমতা শেষ হয়ে যেতে পারে বলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এর ফলে তেলের উৎপাদন কমাতে বাধ্য হতে পারে ইরান। খবর আল-জাজিরার।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত মঙ্গলবার তথ্য ও বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলার-এর একটি বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছে ব্লুমবার্গ। সেখানে বলা হয়েছে, যদি এই অবরোধ অব্যাহত থাকে তাহলে আগামী ১২ থেকে ২২ দিনের মধ্যে ইরানের তেল রাখার জায়গা ফুরিয়ে যেতে পারে।
গত সপ্তাহে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট দাবি করেন, খারগ দ্বীপে (যেখান থেকে ইরানের বেশিরভাগ তেল রপ্তানি হয়) মজুদের সক্ষমতা ‘কয়েক দিনের মধ্যে’ পূর্ণ হয়ে যাবে।
ওয়াশিংটনের মূল লক্ষ্য হলো ইরানের তেলের রাজস্ব বন্ধ করা। কেপলারের তথ্যমতে, মার্চ মাসে ইরান প্রতিদিন ১.৮৪ মিলিয়ন ব্যারেল তেল রপ্তানি করেছে, কিন্তু এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে মার্কিন অবরোধের কারণে এই তেলের বেশিরভাগই এখন রপ্তানির বদলে মজুদ করতে হচ্ছে।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী বেসেন্ট গত ২২ এপ্রিল এক পোস্টে বলেন, “কয়েক দিনের মধ্যে খারগ দ্বীপের মজুদ পূর্ণ হয়ে যাবে এবং ইরানের ভঙ্গুর তেলকূপগুলো বন্ধ করতে হবে।”
স্যাটেলাইট ডাটা অনুযায়ী, অবরোধ শুরুর পর থেকে ইরানের তেলের মজুদ দ্রুত বাড়ছে। কলম্বিয়া সেন্টার অন গ্লোবাল এনার্জি পলিসির (সিজিইপি) তথ্যমতে, ১৭ থেকে ২১ এপ্রিলের মধ্যে মজুদ প্রতিদিন ১.৭ মিলিয়ন ব্যারেল হারে বেড়েছে।
২০ এপ্রিল পর্যন্ত খারগ দ্বীপের তেলের ট্যাংকগুলো প্রায় ৭৪ শতাংশ পূর্ণ ছিল। সাধারণত নিরাপত্তার খাতিরে ৮০ শতাংশের বেশি মজুদ করা হয় না, তবে ২০২০ সালে করোনা মহামারির সময় ইরান ৯০ শতাংশ পর্যন্ত মজুদ করেছিল। এছাড়া সমুদ্রের ভাসমান ট্যাঙ্কারে ইরানের প্রায় ১২৭ মিলিয়ন ব্যারেল তেল রাখার সক্ষমতা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্থলে তেল রাখার জায়গা আর ২০ দিনের মতো আছে। এরপর ইরানকে ধীরে ধীরে উৎপাদন কমাতে হতে পারে। তবে কেউ কেউ মনে করছেন, ইরান চাইলে এখনই আক্রমণাত্মকভাবে উৎপাদন কমিয়ে দিতে পারে, যাতে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সহজেই আবার কাজ শুরু করা যায়।
তবে তেল উৎপাদন বন্ধ করলে মাটির নিচের তেলের স্তরে পানির অনুপ্রবেশ ঘটতে পারে বা চাপ কমে যেতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে খনিগুলোর ক্ষতি করতে পারে। এছাড়া উৎপাদন পুনরায় চালু করা খুবই ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ। উৎপাদন বন্ধ হলে ইরানের রপ্তানি আয়ও মারাত্মকভাবে কমে যাবে। যদিও বর্তমানে সমুদ্রে ট্রানজিটে থাকা বিপুল পরিমাণ তেল থেকে ইরান আরো কিছুদিন আয় চালিয়ে নিতে পারবে।
ঢাকা/ফিরোজ