হাত বাঁধা ত্রাণকর্মীদের কাছে গিয়ে উপহাস করেছে ইসরায়েলি নিরাপত্তামন্ত্রী
ইসরায়েলি নৌবাহিনীর হাতে আটকের পর মাটিতে হাঁটু গেড়ে বসে থাকা এবং হাত পেছনে বাঁধা ত্রাণকর্মীদের কাছে গিয়ে উপহাস করেছে দেশটির চরম ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির। বুধবার (২০ মে) ভিডিও পোস্টের বরাত দিয়ে বিবিসি এ তথ্য জানিয়েছে।
অবরুদ্ধ গাজার বাসিন্দাদের জন্য ত্রাণ নিয়ে রওনা করেছিল গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা (জিএসএফ)। নৌবহরটিতে অংশ নেওয়া ৫০টিরও বেশি নৌকা গত বৃহস্পতিবার তুরস্ক থেকে যাত্রা শুরু করে। ৪০টিরও বেশি দেশের অধিকারকর্মীরা এই বহরে অংশ নিয়েছিল। নামমাত্র পরিমাণ সাহায্য বহনকারী এই নৌবহরটির উদ্দেশ্য ছিল যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় ফিলিস্তিনিদের কঠিন পরিস্থিতি তুলে ধরা। ইসরায়েল এটিকে ‘হামাসের স্বার্থে করা একটি জনসংযোগ কৌশল’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
সোমবার সকালে, সশস্ত্র ইসরায়েলি নৌ কমান্ডোরা সাইপ্রাসের পশ্চিমে আন্তর্জাতিক জলসীমায় নৌবহরটিকে আটকানো শুরু করে। এই স্থানটি ইসরায়েলি সামুদ্রিক অবরোধের অধীনে থাকা গাজা উপকূল থেকে প্রায় ২৫০ নটিক্যাল মাইল দূরে অবস্থিত।
জিএসএফ-এর আয়োজকরা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যার মধ্যে সবগুলো নৌকা আটক করা হয়েছে, যার মধ্যে একটি ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের ৮০ নটিক্যাল মাইলের মধ্যে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছিল। ইসরায়েলি কমান্ডোরা ছয়টি নৌকায় গুলি চালিয়েছে, জলকামান ব্যবহার করেছে এবং ইচ্ছাকৃতভাবে একটি নৌযানে ধাক্কা দিয়েছে।
বুধবার সকালে ইসরায়েলি মানবাধিকার সংস্থা আদালাহ জানিয়েছে, আন্দোলনকর্মীদের ‘সম্পূর্ণ ইচ্ছার বিরুদ্ধে ইসরায়েলি ভূখণ্ডে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে’ এবং আশদোদ বন্দরে আটক রাখা হয়েছে।
বিকেলে উগ্র-জাতীয়তাবাদী বেন-গভির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ইসরায়েলে স্বাগতম’ শিরোনামে একটি ভিডিও পোস্ট করেন। ভিডিওটিতে তাকে আশদোদ বন্দরের একটি আটক কেন্দ্র পরিদর্শন করতে দেখা যায়, যেখানে আন্দোলনকারীদের রাখা হয়েছে।
ভিডিওটিতে দেখা যায়, বেন-গভির যখন পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন, তখন নিরাপত্তা কর্মীরা একজন নারী আন্দোলনকারীকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। ওই সময় বেন-গভির নিরাপত্তাকর্মীটিকে উৎসাহিত করছিলেন।
এরপর বেন-গভিরকে দেখা যায়, তিনি মাটিতে হাঁটু গেড়ে বসে থাকা এবং পেছন দিকে হাত বাঁধা কয়েক ডজন আন্দোলনকর্মীর পাশে একটি বড় ইসরায়েলি পতাকা নাড়াচ্ছেন। তিনি হিব্রু ভাষায় তাদের বলেন. ‘ইসরায়েলে স্বাগতম। আমরাই প্রভু।’
ঢাকা/শাহেদ
হাম ও হামের উপসর্গে ৬ শিশুর মৃত্যু