ট্রাম্প বনাম পুতিন: কাকে কেমন অভ্যর্থনা জানালো চীন
কয়েক দিন আগেই চীন সফর করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার চীন সফরে গেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। দুই শক্তিধর রাষ্ট্রপ্রধানকে চীন কেমন অভ্যর্থনা জানালো তা নিয়ে ইতিমধ্যে সরগরম সংবাদমাধ্যমগুলো।
বিবিসি তুলনামুলক ভিডিও চিত্র প্রকাশ করে দেখিয়েছে ট্রাম্পকে সূক্ষ্মভাবে উপেক্ষা করেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। আবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য মিরর জানিয়েছে, অভ্যর্থনা থেকে শুরু করে বাণিজ্যিক চুক্তি-সব দিক থেকেই ট্রাম্পকে উপেক্ষা করেছে চীন।
বেইজিংয়ে অবতরণের পর ট্রাম্পকে প্রথমে স্বাগত জানান চীনের উপরাষ্ট্রপতি হান ঝেং। এর বিপরীতে, মঙ্গলবার রাতে পুতিনকে অভ্যর্থনা জানান চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। প্রাথমিকভাবে মনে হতে পারে, ট্রাম্পকে একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা অভ্যর্থনা জানিয়েছিলেন, কিন্তু বিষয়টি ঠিক তেমন নয়।
ওয়াং ২০২২ সালে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী সংস্থা পলিটব্যুরোর সদস্য হন, আর হান একই বছরে পলিটব্যুরো থেকে অবসর নেন। উপরাষ্ট্রপতি হিসেবে তার ভূমিকা মূলত আনুষ্ঠানিক বলেই বিবেচিত হয়। চীনা নাগরিক এবং অন্যান্য পর্যবেক্ষকরা দুই ব্যক্তির মধ্যকার পার্থক্যটি লক্ষ্য করেন এবং তাদের মতে, ওয়াংই প্রকৃতপক্ষে দুজনের মধ্যে অধিক ক্ষমতাধর ছিলেন। ওয়াং ই প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ এবং বিশ্বস্ত ব্যক্তিদের মধ্যে একজন। ওয়াং ই চীনের উপ-রাষ্ট্রপতির চেয়েও বেশি শক্তিশালী।
ট্রাম্পকে যখন শি জিনপিং বেইজিংয়ে রাষ্ট্রীয় অতিথিভবনে অভ্যর্থনা জানিয়েছিলেন, তখন মার্কিন প্রেসিডেন্টকে যতোটা উচ্ছ্বসিত দেখাচ্ছিল, চীনা প্রেসিডেন্টকে তারচেয়ে বেশি নির্জীব দেখাচ্ছিল। অপরদিকে বুধবার পুতিনকে অভ্যর্থনা জানানোর সময় শি ছিলেন উচ্ছ্বসিত ও প্রাণবন্ত।
বুধবার বেইজিংয়ে বৈঠকে শি এবং পুতিন উভয়েই তাদের উচ্চ-পর্যায়ের কৌশলগত সম্পর্কের প্রশংসা করেছেন। তারা বাণিজ্য, প্রযুক্তি এবং গণমাধ্যম বিনিময়ের মতো ক্ষেত্রে ২০টিরও বেশি সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের পর শি বলেছেন, দেশ দুটির সম্পর্ক ‘ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে’ পৌঁছেছে।
অপরদিকে, ট্রাম্প মার্কিন টেক কোম্পানিগুলোর প্রধান নির্বাহীদের নিয়ে চীন সফর করেছেন। শেষ পর্যন্ত চীনের সঙ্গে তার কোনো চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি। তিনি ফেরার সময় শুধু পেয়েছেন প্রতিশ্রুতি।
ঢাকা/শাহেদ
হাম ও হামের উপসর্গে ৬ শিশুর মৃত্যু