ঢাকা     বুধবার   ২০ মে ২০২৬ ||  জ্যৈষ্ঠ ৬ ১৪৩৩ || ৪ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

বাজেটে ওয়াশ খাতে বৈষম্য দূরার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২১:৪০, ২০ মে ২০২৬   আপডেট: ২১:৪০, ২০ মে ২০২৬
বাজেটে ওয়াশ খাতে বৈষম্য দূরার দাবি

নিরাপদ সুপেয় পানি ও স্যানিটেশন হাইজিন (ওয়াশ) খাতে বাজেটে বরাদ্দের নিম্নমুখী প্রবণতা রোধ করে সমতাভিত্তিক অর্থায়ন নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট খাতের সংগঠনগুলো।

বুধবার (২০ মে) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে ‘নেটওয়ার্ক অব ওয়াশ নেটওয়ার্কস' আয়োজনে প্রাক-বাজেট সংবাদ সম্মেলনে এ দাবির কথা জানানো।

আরো পড়ুন:

সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্যে ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, “ওয়াশ খাতে এডিপি বরাদ্দের এই নিম্নমুখী প্রবণতা খুবই দুর্বল পলিসি সিগন্যাল দিচ্ছে। অথচ ২০৩০ সালের মধ্যে নিরাপদ সুপেয় পানি ও নিরাপদ স্যানিটেশন শতভাগ নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে। এখনো আমরা সেই লক্ষ্যমাত্রা থেকে অনেক দূরে আছি। ওয়াশ খাতে বরাদ্দ বণ্টনে বড় ধরনের বৈষম্য রয়েছে। বিশেষ করে আরবান-রুরাল বৈষম্য, শহরের অভ্যন্তরীণ বৈষম্য এবং দুর্গম অঞ্চলের অবহেলা স্পষ্ট। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন ও গাজীপুরে বরাদ্দের উচ্চ হার থাকলেও চট্টগ্রামের মতো বাণিজ্যিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় তুলনামূলক কম বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। চরাঞ্চলও এখনো অনেকটাই উপেক্ষিত।”

তিনি বলেন, “ওয়াশ খাতে এখন জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবকে গুরুত্ব দিয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। এ জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।”

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে জেন্ডার সংবেদনশীল টয়লেট, নিরাপদ পানি ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, “বাংলাদেশের ওয়াশ খাত বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে রয়েছে। নিরাপদ ব্যবস্থাপনার আওতাধীন সুপেয় পানি ও স্যানিটেশন সুবিধার সম্প্রসারণ ঘটলেও তা এখনো কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা থেকে অনেক পিছিয়ে। তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এডিপিতে ওয়াশ বরাদ্দ ছিল ৪৯ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন টাকা। যা বেড়ে ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১৮৭ দশমিক ২৮ বিলিয়ন টাকায় পৌঁছায়। তবে এরপর থেকেই বরাদ্দে নিম্নমুখী ধারা শুরু হয়। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বরাদ্দ কমে দাঁড়ায় ১৪৯ দশমিক ৮১ বিলিয়ন টাকা, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১১৬ দশমিক ১৭ বিলিয়ন টাকা এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আরো কমে ১০৯ দশমিক ০১ বিলিয়ন টাকায় নেমে আসে।”

ফ্যামিলি কার্ড বা প্রস্তাবিত হেলথ কার্ডের মাধ্যমে দরিদ্র পরিবারকে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা ‘ওয়াশ ভাতা’ দেওয়া হলে তা স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, “এতে অতি-দরিদ্র পরিবারগুলো নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও হাইজিন সেবা গ্রহণে সক্ষমতা অর্জন করবে। চর, হাওর, উপকূলীয় অঞ্চল, পার্বত্য এলাকা ও বস্তিবাসীর জন্য বিশেষ ওয়াশ সহায়তা প্রয়োজন।”

একই সঙ্গে জলবায়ু সহনশীল পানি সরবরাহ ব্যবস্থার অংশ হিসেবে খাল খনন ও বড় জলাধার তৈরির উদ্যোগ নেওয়ারও আহ্বান জানান তারা।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা আরো বলেন, “শুধু বরাদ্দ বাড়ালেই হবে না, বরাদ্দ সঠিকভাবে ব্যবহারের সক্ষমতাও বাড়াতে হবে। ডিপিএইচই, সিটি কর্পোরেশন, নগর ও গ্রামীণ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রয়োজন। নতুন সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও বৈজ্ঞানিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। তাই এখন ওয়াশ খাতে নতুন উদ্ভাবন ও জলবায়ু সহনশীল উদ্যোগ বাস্তবায়নের বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে।”

সংবাদ সম্মেলনে আগামী বাজেটের জন্য বেশ কিছু সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে: এডিপির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ওয়াশ বাজেট বৃদ্ধি, গ্রাম ও শহরে নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন সেবা সম্প্রসারণ, দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ এবং নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ বরাদ্দ নিশ্চিত করা। পাইপলাইনের মাধ্যমে পানি সরবরাহ, গভীর নলকূপ স্থাপন, বস্তিতে নিরাপদ পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নয়ন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৃথক শৌচাগার ও ঋতুস্রাবকালীন স্বাস্থ্যবিধি সুবিধা চালুর সুপারিশ করা হয়।

ঢাকা/রায়হান/সাইফ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়