ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ২১ মে ২০২৬ ||  জ্যৈষ্ঠ ৭ ১৪৩৩ || ৫ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের ফোনের পর নেতানিয়াহুর ‘মাথায় আগুন’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১১:২০, ২১ মে ২০২৬   আপডেট: ১১:২২, ২১ মে ২০২৬
ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের ফোনের পর নেতানিয়াহুর ‘মাথায় আগুন’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করার একটা নতুন প্রস্তাব নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এক উত্তপ্ত ফোনালাপের পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু চরম ক্ষুব্ধ হয়েছেন। 

সংশ্লিষ্ট তিনটি সূত্রের বরাত দিয়ে বুধবার (২০ মে) মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওস এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে। খবর আরটির।

আরো পড়ুন:

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একজন মার্কিন সূত্র সংবাদমাধ্যমটিকে বলেছেন, ওই ফোনালাপের পর নেতানিয়াহুর অবস্থা এমন ছিল যেন তার ‘মাথায় আগুন ধরে গেছে’।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চলের আরব নেতাদের অনুরোধে ওয়াশিংটন কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে আরো কিছু সময় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এর ফলে ট্রাম্প ইরানের ওপর একটি পরিকল্পিত ‘বিশাল সামরিক হামলা’ স্থগিত করেন। আর এই সিদ্ধান্ত আসার পরপরই ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে ওই উত্তেজনাপূর্ণ ফোনালাপটি হয়।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট এরপর থেকে বলে আসছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এখন একটি চুক্তি স্বাক্ষর অথবা পুনরায় যুদ্ধ শুরুর ‘একেবারে শেষ সীমান্তে’ দাঁড়িয়ে আছে।

বুধবার সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, “হয় একটি চুক্তি হবে, না হলে আমরা এমন কিছু করতে যাচ্ছি যা খুবই অপ্রীতিকর হবে।” তিনি আরো যোগ করেন, ওয়াশিংটন যদি ‘১০০ শতাংশ সন্তোষজনক উত্তর’ না পায়, তাহলে যুদ্ধ ‘খুব দ্রুতই’ আবার শুরু হতে পারে।

এক্সিওসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলমান এই কূটনৈতিক আলোচনা নিয়ে তীব্র সন্দিহান নেতানিয়াহু। তিনি ইরানের সামরিক সক্ষমতা আরো কমিয়ে দিতে এবং দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস করে তেহরানকে দুর্বল করার লক্ষ্যে পুনরায় যুদ্ধ শুরু করতে চান।

তবে ট্রাম্প এই বিষয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন দাবি করেছেন। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার সুসম্পর্ক রয়েছে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, “ইরান ইস্যুতে নেতানিয়াহু তা-ই করবে, যা আমি তাকে করতে বলব।”

প্রতিবেদন অনুসারে, সাম্প্রতিক এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মূল ভিত্তি হলো একটি ‘লেটার অব ইনটেন্ট’ (সম্মতিপত্র)। এর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ সমাপ্তি ঘোষণা করে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে একটি চূড়ান্ত আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

তেহরান নিশ্চিত করেছে, তারা একটি আপডেট করা প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে। তবে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জোর দিয়ে বলেছে, পূর্বে ওয়াশিংটন কর্তৃক প্রত্যাখ্যান করা ১৪-দফা পরিকল্পনার ভিত্তিতেই আলোচনা এগিয়ে চলছে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এই সপ্তাহে বলেছেন, “সংলাপ মানেই আত্মসমর্পণ নয়। জনগণ ও দেশের আইনি অধিকার থেকে তেহরান এক চুলও পিছিয়ে আসবে না।”

অন্যদিকে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, আলোচনা কেবল তখনই সফল হতে পারে যদি যুক্তরাষ্ট্র ইরানি জাহাজের বিরুদ্ধে তার ‘জলদস্যুতা’ বন্ধ করে ও জব্দ করা তহবিল ছেড়ে দিতে সম্মত হয়, পাশাপাশি ইসরায়েলকে অবশ্যই লেবাননে তার যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে।

ঢাকা/ফিরোজ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়