গাইবান্ধায় কুকুরের কামড়ে ৫ জনের মৃত্যুতে হাইকোর্টে রিট
গাইবান্ধা প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে পাগলা কুকুরের কামড়ে পাঁচজনের মৃত্যুর ঘটনায় হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। এতে স্বাস্থ্য সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট ১১ জনকে বিবাদী করা হয়েছে।
বুধবার (২০ মে) আইনজীবী সাফিনুর ইসলাম এ রিট করেন। বৃহস্পতিবার (২১ মে) এ তথ্য জানতে পারেন গাইবান্ধার সংবাদকর্মীরা।
রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্টের বিচারপতি ইকবাল কবির ও বিচারপতি এস এম সাইফুল ইসলামের দ্বৈত বেঞ্চ গাইবান্ধার সিভিল সার্জনকে ঘটনাটি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। ঈদুল আজহার ছুটির পর আগামী ৮ জুনের মধ্যে আদালতে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের বাসিন্দা জাতীয় পার্টির মহাসচিব সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী। রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।
রিটে অ্যান্টি-র্যাবিস টিকার সংকট, সরবরাহ ব্যবস্থায় দুর্বলতা এবং চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ আনা হয়েছে। একইসঙ্গে সারাদেশের সরকারি হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে টিকার পর্যাপ্ত ও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, কুকুড়ের মৃত ও আহতদের জন্য রাষ্ট্রীয় ক্ষতিপূরণ এবং চিকিৎসা সহায়তার আবেদন জানানো হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য বিভাগের ব্যর্থতা, টিকার ঘাটতি ও চিকিৎসা অবহেলা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, সে বিষয়ে রুল জারির আবেদনও করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, আদালত বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে ঘটনার প্রকৃত কারণ, চিকিৎসায় কোনো অবহেলা ছিল কি না, আক্রান্তদের চিকিৎসায় গাফিলতি ছিল কি না এবং টিকা সরবরাহে ঘাটতি ছিল কি না; সেসব বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কুকুড়ের কামড়ে আহতরা সরকারি হাসপাতালে প্রয়োজনীয় অ্যান্টি-র্যাবিস টিকা না পাওয়ায় চিকিৎসা নিতে বিলম্ব হয়। বর্তমানে আহত ১০ জন চিকিৎসাধীন আছেন।
রিটে নিহত নন্দা রাণী, ফুলু মিয়া ও রত্নেশ্বর কুমারসহ পাঁচজনের পরিবারের জন্য রাষ্ট্রীয় ক্ষতিপূরণ নিশ্চিতের আবেদন জানানো হয়েছে। পাশাপাশি আক্রান্ত ও ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে।
এছাড়াও দেশব্যাপী জেলা হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যান্টি-র্যাবিস টিকার জরুরি মজুদ ও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে জাতীয় জরুরি প্রতিক্রিয়া নীতিমালা প্রণয়নের আবেদন জানানো হয়েছে। টিকার প্রাপ্যতা ও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় কোনো অনিয়ম বা অবহেলা ছিল কি না, তা তদন্তে জাতীয় কমিশন গঠনের নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে।
গত ২২ এপ্রিল সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কঞ্চিবাড়ি ও ছাপরহাটী ইউনিয়নে পাগলা কুকুরের কামড়ে ১৩ জন আহত হন। তাদের মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৬ মে দুজন, ৮ মে একজন, ১২ মে একজন ও ১৩ মে একজন মারা যান।
ঢাকা/মাসুম/রফিক
হাম ও এর উপসর্গে আরো ৭ জনের মৃত্যু