ঢাকা     শুক্রবার   ০৫ জুন ২০২৬ ||  জ্যৈষ্ঠ ২২ ১৪৩৩ || ২০ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

মমতা নয়, অভিষেকেই যত আপত্তি!

কলকাতা ব্যুরো || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৮:০৬, ৫ জুন ২০২৬  
মমতা নয়, অভিষেকেই যত আপত্তি!

১৯৯৮ সালে মমতা ব্যানার্জির হাত ধরে আত্মপ্রকাশ ঘটা তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীক ছিল ঘাসফুল। এরপর গত কয়েক বছরে মমতার হাত ধরেই তৃণমূল কংগ্রেস মহীরুহে পরিণত হয়েছিল। গত ১৫ বছর পশ্চিমবঙ্গের শাসন ক্ষমতায়ও ছিল তারা। কিন্তু ২০২৬ সালের নির্বাচনে পরাজয়ের একমাসের মধ্যে ঘাসফুল শুকিয়ে যাওয়ার অবস্থা। একের পর এক কাউন্সিলর, চেয়ারম্যান, পঞ্চায়েত সদস্য পদত্যাগ করেছেন। প্রকাশ্যে চলে এসেছে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের কোন্দল ও ক্ষোভ। তৃণমূল ভেঙেই আর একটা তৃণমূল গঠন হয়েছে। দলনেত্রী মমতার পছন্দকে অমান্য করে বিধানসভায় নতুন বিরোধী দলনেতা হয়েছেন ঋতব্রত ব্যানার্জি। যার হাত ধরে তৃণমূলের উৎপত্তি, আজ সেই মমতাকেই পরামর্শদাতা হিসেবে থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হল, দলের এই অবস্থার জন্য দায়ী কে? মমতা নাকি তার ভাইপো অভিষেক ব্যানার্জি? 

বিদ্রোহী নেতাদের অধিকাংশই বলছেন, “মমতার হাতে গড়া দল এখন তার হাতে নেই। সময়ের সাথে সাথে মমতার হাত থেকে দলের রাশ চলে গেছে অভিষেকের হাতে। এরপরই সাধারণ মা-মাটি-মানুষের দল থেকে তা পরিণত হয় করপোরেট দলে। বিশেষ করে ভোট কুশলী সংস্থা ‘আইপ্যাক’কে অভিষেক ব্যানার্জি আহ্বান করে নিয়ে এসে দলটার বারোটা বাজিয়েছেন। ফলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নেত্রী হিসেবে মানলেও, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তারা নেতা হিসেবে মানছেন না।

অভিষেককে সরাসরি নিশানা করে মালদার তৃণমূল নেতা ও সাবেক মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী বলেছেন, “আজ বড় দুঃখ লাগছে। তিল তিল করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গড়ে তোলা দলটাকে শেষ করে দিল অভিষেক।”

তার অভিযোগ, অভিষেক ব্যানার্জি দলে আসার পর থেকেই তৃণমূলের জনমুখী চরিত্র বদলে গিয়েছে। পুরনো কর্মীদের কোণঠাসা করে দলে এক নতুন সংস্কৃতির আমদানি করা হয়েছে। 

কৃষ্ণেন্দুবাবুর কথায়, “এই দলেও করপোরেট কালচার এবং মাফিয়া কালচার নিয়ে এসেছে। যার ফলে দলের আদর্শ বলে কিছু নেই।” অভিষেককে সরাসরি দেশ ছেড়ে বিদেশে চলে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন কৃষ্ণেন্দু। 

১৯৯৮ সাল থেকে তৃণমূলের সাথে রয়েছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। বর্তমানে দলের বারাসাত আসনের সংসদ সদস্য কাকলির অভিমত, “আমি বহুদিন দলের সাথে আছি। আমি মনে করি, মমতা ব্যানার্জি যদি আবার দলের রাস টেনে ধরেন, তাহলে নিশ্চিতভাবে উনি যেই ফল চাইছেন সেটা পাবেন।”

তৃণমূলের ভোট কুশলী সংস্থা আইপ্যাক নামক সংস্থার কারণে দলের এই বিপর্যয় বলেও অভিমত তার। একই সঙ্গে দলে দুবৃত্তায়ন ঘটেছে, অসদ আচরণ ঘটেছে, নেতাকর্মীদের মধ্যে একটা অহংকার জন্মানো নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। 

ইতোমধ্যেই রাজ্যের বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ১৮ তম পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার সাথে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনো সম্পর্ক নেই। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীকে ৮০ জন বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছেন। তার মধ্যে আপাতত ৬০ জন বিধায়ক মনে করেছেন তারাই প্রধান বিরোধীদল। 

ঋতব্রতের এই মন্তব্য থেকেই স্পষ্ট, ধীরে ধীরে তৃণমূল থেকে অভিষেককে ছেঁটে ফেলাটাই তাদের উদ্দেশ্য। 

তৃণমূলের ভাঙ্গন নিয়ে মুখ খুলেছেন সাবেক তৃণমূল বিধায়ক ও আম জনতা উন্নয়ন পার্টির বিধায়ক ও চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর। 

বৃহস্পতিবার হুমায়ুন বলেছেন, “একটা দলের সর্বোচ্চ নেত্রী হয়েও যদি অন্যদের হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দেয়, তার ফল যা হওয়ার তাই হয়েছে। মমতা আজ নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন। তিনি যদি ভোটে জিততেন এবং নেতৃত্ব দিতেন তবে কেউ আর মুখ খুলতেন না।”

কিন্তু এই টালমাটাল অবস্থাতেও ভাইপো অভিষেকের পাশেই রয়েছেন পিসি মমতা।

ঢাকা/সুচরিতা/শাহেদ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়