ওসমান হাদি হত্যা মামলার বাদী বিষয়ে অবস্থান পরিষ্কার করলেন মাসুমা হাদি
ঝালকাঠি প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
মাসুমা হাদি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইয়ের মামলার বাদী নিয়ে ‘নোংরামি‘ ও ‘মিথ্যাচার’ চলছে, এমন অভিযোগ এনে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন ইনকিলাব মঞ্চের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ শরিফ ওসমান হাদির বোন মাসুমা হাদি।
শুক্রবার (৫ মে) সকালে দেওয়া এক দীর্ঘ ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি জানিয়েছেন, তার পরিবারের বিরুদ্ধে আরো ভয়ঙ্কর ষড়যন্ত্র চললেও এতদিন তিনি নীরব ছিলেন শুধু ভাইয়ের কথা ভেবে। তবে, গত দুই দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলা সমালোচনার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি পুরো বিষয়টি পরিষ্কার করতে বাধ্য হয়েছেন।
মাসুমা হাদি জানান, তার ভাই গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পেয়ে তিনি দ্রুত ঢাকায় গিয়ে এভারকেয়ার হাসপাতালে পৌঁছান এবং সেখানে এক মুহূর্তের জন্যও তিনি ভাইকে ছেড়ে যাননি।
তার দাবি, হাসপাতালে উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও প্রশাসন কেন জাবেরের কাছ থেকে মামলার কাগজে স্বাক্ষর নিলো, তা নিয়ে তার প্রশ্ন রয়েছে।
তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে তাকে জানানো হয়, ওমর ফারুক (ওসমান হাদির ভাই) তখন চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় এ ধরনের সিদ্ধান্ত পরে দেখা হবে বলে জানিয়েছিলেন। তবে, ওই সময় ওমরের মানসিক অবস্থা বিবেচনায় নেওয়া উচিত ছিল বলে উল্লেখ করেন মাসুমা।
ফেসবুকে তিনি আরো বলেন, গুলির ঘটনায় ওমর ফারুক নিজেও রক্তাক্ত ছিলেন এবং একই রিকশায় থাকায় তার জীবনও ঝুঁকির মধ্যে ছিল। ওমরের পোশাক ও ব্যবহৃত সামগ্রীতেও আহত ভাইয়ের রক্তের দাগ ছিল।
মামলার বাদী হওয়া প্রসঙ্গে মাসুমা হাদি প্রশ্ন তোলেন, পরিবারের সদস্যদের না জানিয়ে কীভাবে জাবের বাদী হলেন?
তিনি দাবি করেন, ওসমান হাদির জীবনে বড় বোন হিসেবে তার ভূমিকা সবারই জানা। তাই, এ বিষয়ে তাকে অবগত না করা অস্বাভাবিক।
এছাড়া, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ওমর ফারুকের আর্থিক অবস্থা নিয়ে অপপ্রচারের অভিযোগও করেন মাসুমা। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরেই ওমর স্বচ্ছল জীবনযাপন করে আসছেন এবং এ বিষয়ে বিভ্রান্তি তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।
চিকিৎসা প্রসঙ্গে মাসুমা হাদি বলেন, শুরুতে পরিবার নিজেরাই বিদেশে চিকিৎসার উদ্যোগ নেয়। প্রথমে সিঙ্গাপুরে পাঠানো নথি গ্রহণ না হলেও পরে থাইল্যান্ডে পাঠালে সাড়া পাওয়া যায়।
তিনি জানান, ওমর ফারুক ব্যক্তিগতভাবে প্রায় ৫২ লাখ টাকা ব্যয়ে চিকিৎসার প্রস্তুতি নেন। পরে সরকার বিষয়টি জেনে চিকিৎসার দায়িত্ব নেয় এবং শেষে সিঙ্গাপুরে নেওয়া সম্ভব হয়।
স্ট্যাটাসের শেষের দিকে মাসুমা হাদি বলেন, “সম্মান করতে না পারলেও কিছু না জেনে অসম্মান করার অধিকার কারও নেই।”
গত বছরের ১২ ডিসেম্বর দুপুরে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।
তার মরদেহ দেশে এনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে তাকে দাফন করা হয়।
এ ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের পল্টন থানায় গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর হত্যাচেষ্টার মামলা করেছিলেন। পরে এটি হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হয়। চলতি বছরের ৮ মার্চ হাদি হত্যায় মূল অভিযুক্ত ফয়সাল ও আলমগীরকে বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বনগাঁ থেকে গ্রেপ্তার করে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিশেষ টাস্ক ফোর্স।
ঢাকা/অলোক/রফিক
যৌথ সংবাদ সম্মেলন: সমরাস্ত্র বাণিজ্য জোরদারে সম্মত বাংলাদেশ-তুরস্ক