ঢাকা     শুক্রবার   ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ||  মাঘ ২০ ১৪২৯

ঈদী আমিনের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় জঙ্গি ছিনতাই

নিজস্ব প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৭:৪৮, ২৯ নভেম্বর ২০২২   আপডেট: ১৮:০২, ২৯ নভেম্বর ২০২২
ঈদী আমিনের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় জঙ্গি ছিনতাই

ছবি: সংগৃহীত

জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের সদস্য ঈদী আমিনের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ফটকে পুলিশকে মারধর ও চোখে পিপার স্প্রে করে জঙ্গি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটে।

মঙ্গলবার (২৯ নভেম্বর) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মুহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ কোতোয়ালী থানায় সন্ত্রাস বিরোধ আইনে করা মামলায় ঘটনার পর ঈদী আমিনকে আশ্রয় দেওয়া তিন জনকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। রিমান্ড আবেদনে একথা বলেন তদন্ত কর্মকর্তা।

আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শাকিল আহাম্মদের আদালত তাদের প্রত্যেকের তিন দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।

রিমান্ডে যাওয়া তিন আসামি হলেন- ঈদী আমিনের বোন খোদেজা আক্তার লিপি, মামা শ্বশুর নাসির মিয়া ফারুক ও তানভীর হোসেন।

এদিকে রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ঈদী আমিনের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ফটক থেকে জঙ্গি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে ঈদী আমিন পলাতক ছিল। তাকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে ও তথ্য-প্রযুক্তি বিশ্লেষণ করে জানা যায়, ২২ নভেম্বর লিপি আক্তারের পূর্ব গোড়ানের বাসায় আশ্রয়ে ছিল ঈদী আমিন। সেখান থেকে মামা শ্বশুর নাসির মিয়ার বিজয়নগরের বাসায় যায়। সেখানে ২২ নভেম্বর রাত থেকে ২৩ ও ২৪ নভেম্বর তার বাসায় অবস্থান করে। এরপর ২৫ নভেম্বর মধ্য বাসাবো এলাকায় তানভীরের বাসায় যায়। সেখানে ২৫ ও ২৬ নভেম্বর অবস্থান করেন।

তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, এই তিন আসামি জানতো ঈদী আমিন একজন পলাতক এবং সে সন্ত্রাস বিরোধ আইনের অপরাধ সংগঠন করেছে। এটা জেনে এবং বিশ্বাস করার যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকা স্বত্বেও ঈদী আমিনকে শাস্তি থেকে রক্ষা করার অভিপ্রায়ে তাকে আশ্রয় দেয়।

এ তিন আসামি জঙ্গি সংগঠনের সদস্য কিনা, সদস্য হয়ে থাকলে তাদের সাথে আরও কারা কারা জড়িত আছে তাদের শনাক্তসহ নির্ণয়ের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুরের প্রার্থনা করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

এর আগে, ২৭ নভেম্বর ঈদী আমিন আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চান। আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। ওইদিন সিটিটিসি ১০ দিনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তার চার দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।

কোতোয়ালী থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার সাব-ইন্সপেক্টর মো. আশ্রাফ এসব তথ্য জানান।

উল্লেখ্য, ২০ নভেম্বর দুপুর সোয়া ১২টার দিকে ঢাকার নিম্ন আদালত প্রাঙ্গণ থেকে পুলিশের চোখে স্প্রে মেরে প্রকাশক ফয়সাল আরেফিন দীপন হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই জঙ্গি আনসারুল্লাহ বাংলাটিমের সদস্য আবু সিদ্দিক সোহেল ও মইনুল হাসান শামীমকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় রাতে ২০ জঙ্গিকে আসামি করে মামলা করেন পুলিশ পরিদর্শক জুলহাস উদ্দিন আকন্দ। রাতেই ১০ জঙ্গির ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। ২৪ নভেম্বর জঙ্গি ছিনতাই ঘটনার প্রধান সমন্বয়ক মেহেদী হাসান অমি ওরফে রাফির ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

ঢাকা/মামুন/এনএইচ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়