ঢাকা     বুধবার   ২৯ মে ২০২৪ ||  জ্যৈষ্ঠ ১৫ ১৪৩১

জনশক্তি ব্যবসায়ী হত্যা: ছেলে ও তার প্রেমিকার যাবজ্জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৯:৩৪, ৩০ মে ২০২৩   আপডেট: ১৯:৪১, ৩০ মে ২০২৩
জনশক্তি ব্যবসায়ী হত্যা: ছেলে ও তার প্রেমিকার যাবজ্জীবন

পাঁচ বছর আগে রাজধানীর মাদারটেকে জনশক্তি ব্যবসায়ী মো. শাহ আলম ভুইয়া খুনের মামলায় ছেলে সৈকত হোসেন ভূঁইয়া রাজ এবং তার প্রেমিকা লাবনী হোসেন ইমুকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (৩০ মে) ঢাকার সপ্তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ তেহসিন ইফতেখার আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।

অন্যদিকে, শাহ আলম ভুইয়ার লাশ গুমের অভিযোগে দুজনকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ৫ মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

আদেশে বিচারক বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণে সক্ষম হয়েছে। এর সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড। কিন্তু, আসামিদের বয়স কম। সবকিছু বিবেচনায় মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হলো।

রায় শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাদের আবার কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মাহবুবুর রহমান এসব তথ্য জানিয়েছেন।

২০১৮ সালের ৮ এপ্রিল মধ্যরাতে শাহ আলমের লাশ উদ্ধারের পর রাজধানীর সবুজবাগ থানার উপ-পরিদর্শক কামরুজ্জামান বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করে। থানা পুলিশের পর মামলার তদন্তভার পুলিশের গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) হস্তান্তর করা হয়।

আসামিদের গ্রেপ্তারের পর তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। জানা যায়, লাবনী মোবাইল ফোন মেরামত করাতে খিলগাঁও মার্কেটে সৈকতের দোকানে যান। সেখানে তাদের পরিচয় হয়। পরে তা প্রেমের সম্পর্কে রূপ নেয়। তারা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাঘুরি করেন। তাদের মধ্যে দৈহিক সম্পর্কও হয়। একদিন সৈকতের বাসায় গিয়ে লাবনী জানতে পারেন, তার স্ত্রী-সন্তান আছে। রাগে ওই বাসা থেকে চলে আসেন লাবনী। সৈকত আশ্বাস দেন, স্ত্রীকে তালাক দিয়ে লাবনীকে বিয়ে করবেন তিনি। এতে তাদের সম্পর্ক আবার ভালো হয়। 

এদিকে, লাবনীর দিকে কুদৃষ্টি পরে সৈকতের বাবা শাহ আলম ভুইয়ার। লাবনী বিষয়টি সৈকতকে জানালে তাদের মধ্যে ঝামেলা হয়। একদিন শাহ আলম রাস্তায় লাবনীকে উত্যক্ত করেন। লাবনী বিষয়টি সৈকতকে জানান। ৮ এপ্রিল লাবনী শাহ আলমকে উত্তর গোড়ানে তাদের বাসায় নিয়ে যান। ঘুমের ওষুধ মেশানো পানীয় পান করানো হয় শাহ আলমকে। সেখানে লুকিয়ে ছিলেন সৈকত। উত্তেজিত শাহ আলম পরনের কাপড় খুলে কনডম পড়ে নেন। লাবনীর সঙ্গে অশ্লীলতা শুরু করেন। এরই মাঝে তিনি ঘুমিয়ে পড়েন। পরে রশি দিয়ে গলা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করা হয়। পরে সৈকতের পরামর্শে একটি কালো লাগেজে লাশ ভরে নির্জন স্থানে ফেলে দেওয়ার জন্য নিয়ে যাচ্ছিলেন লাবনী। মাদারটেকের মোড় থেকে নারায়ণগঞ্জে ৫০০ টাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করেন লাবনী। পথিমধ্যে পানি আনার কথা বলে সিএনজি থেকে নেমে পড়েন লাবনী। অনেকক্ষণ হয়ে গেলেও ফিরে না আসায় লাগেজ খোলেন সিএনজি অটোরিকশার চালক। তিনি লাশ দেখতে পান। 

মামলাটি তদন্ত করে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক আরিফুর রহমান আদালতে দুজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। এর পর আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। মামলার বিচার চলাকালে আদালত সাতজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।

মামুন/রফিক

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়