ঢাকা     শুক্রবার   ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ||  ফাল্গুন ১০ ১৪৩০

হিজবুত তাহরীরের শীর্ষ নেতা সিটিটিসির জালে

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৯:০৮, ৭ ডিসেম্বর ২০২৩  
হিজবুত তাহরীরের শীর্ষ নেতা সিটিটিসির জালে

নিষিদ্ধ হলেও সদস্য সংগ্রহসহ সাংগঠনিক নানা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে জঙ্গি সংগঠন হিজবুত তাহরীর। বিভিন্ন সময়ে সংগঠনটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করা গেলেও আড়ালে থেকে গেছেন শীর্ষ নেতারা। অবশেষে হিজবুত তাহরীরের শীর্ষ নেতা তৌহিদুর রহমান ওরফে সিফাতকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট।

বৃহস্পতিবার (৭ ডিসেম্বর) দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন সিটিটিসির প্রধান মো. আসাদুজ্জামান।

তিনি বলেছেন, বুধবার (৬ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে কক্সবাজার থেকে তৌহিদুর রহমান ওরফে সিফাতকে (২৯) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি হিজবুত তাহরীরের শীর্ষ নেতাদের একজন।

সিটিটিসির প্রধান বলেন, সিটিটিসি অনেক সাফল্যের সঙ্গে হিজবুত তাহরীরের সবচেয়ে বড় নেতাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। গ্রেপ্তার তৌহিদুর রহমান হিজবুত তাহরীরের শীর্ষ দুই-তিন নেতার একজন। গত ৩০ সেপ্টেম্বর হিজবুত তাহরীর একটি অনলাইন সম্মেলন করে। তারা সম্মেলনের জন্য রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পোস্টার লাগায়। অনলাইন প্রচার ও খুদে বার্তাও পাঠানো হয়। সম্মেলনে নানা রকম বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়েছে।

তিনি বলেন, ২০০৩ সালে একটি সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে হিজবুত তাহরীর। সে সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষকের প্রকাশ্য প্রচেষ্টায় সংগঠনটি যাত্রা শুরু করে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে হিজবুত তাহরীর প্রচলিত রাষ্ট্র ব্যবস্থায় বিশ্বাস করে না। তারা প্রচলিত আইন মানে না বলেও প্রচার চালিয়ে আসছে। বর্তমান রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করে খেলাফত প্রতিষ্ঠার জন্য দাওয়াতি কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। এর মাধ্যমে মানুষের মধ্যে একধরনের সাম্প্রদায়িক উস্কানি তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। ২০০৯ সালে হিজবুত তাহরীরকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে সরকার। এর পর আত্মগোপনে থেকে সংগঠনটির নেতারা তাদের কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। এর মধ্যে আমরা অনেককে গ্রেপ্তার করেছি, তবে শীর্ষ পর্যায়ের নেতা গ্রেপ্তার এবারই প্রথম। যেসব এলাকায় সিসিটিভির আওতায় নেই বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি কম, সেসব স্থান আগে থেকে রেকি করে তারা পোস্টার লাগাতো। তারপরও পোস্টার লাগানোর সময় আমরা অনেককে হাতে-নাতে গ্রেপ্তার করেছি। 

মো. আসাদুজ্জামান বলেন, তারা হাইলি রেডিকালাইজড এবং কাটআউট পদ্ধতিতে নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনা করে। নিচের সারির নেতাদের গ্রেপ্তার করা গেলেও শীর্ষ নেতাদের বিষয়ে তথ্য পাওয়া যেত না। কিন্তু, সিটিটিসি অনেক সাফল্যের সাথে হিজবুত তাহরীরের সবচেয়ে বড় নেতাদের একজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। হিজবুত তাহরীর সাধারণত উচ্চবিত্ত ও মেধাবীদের টার্গেট করে প্রচার চালায়। তাদের ভাবনা, যদি এই শ্রেণিকে রিক্রুট করতে পারে, প্রতিষ্ঠিত সমাজে সমর্থন পাবে এবং খেলাফত প্রতিষ্ঠা করতে পারবে। তারা সদস্য সংগ্রহের জন্য বিশ্বিবদ্যালয়গুলোকেও টার্গেট করে। তৌহিদের পরিবারের একজন সদস্য সিভিল সার্ভিসের কর্মকর্তা। তার পরিবারের কয়েকজন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। তৌহিদুর রহমানকে এর আগে ২০১১ ও ২০১৯ সালেও গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। জেল থেকে জামিনে বেরিয়ে আবারও সাংগঠনিক কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়ে। দীর্ঘ ১২ বছরে তৈহিদ সংগঠনের শীর্ষ পর্যায়ে চলে আসে।

তিনি আরও বলেন, তৌহিদুর রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করে হিজবুত তাহরীরের ফুলটাইম সদস্য হিসেবে কাজ করে আসছিল। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আমরা খুব বেশি সময় পাইনি। তবে, তাকে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হবে। আশা করছি, রিমান্ডে তার কাছ থেকে সংগঠন সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা পাওয়া যাবে। আমরা সম্মেলনের বিষয়টি জানার পর কনফিউজড ছিলাম, সম্মেলনটি দেশের ভেতরে নাকি বাইরে থেকে করা হয়েছে। এখনো স্থানটি এক্সাক্টলি শনাক্ত করতে পারিনি, তবে বাংলাদেশের কোথাও করেছে। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করাও চ্যালেঞ্জের বিষয়। 

মাকসুদ/রফিক

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়