RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ০১ অক্টোবর ২০২০ ||  আশ্বিন ১৬ ১৪২৭ ||  ১৩ সফর ১৪৪২

যেসব লক্ষণে বুঝবেন সন্তান অবসাদে ভুগছে

লাইফস্টাইল ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১০:২৮, ১২ আগস্ট ২০২০   আপডেট: ০৫:৫৪, ৩০ আগস্ট ২০২০
যেসব লক্ষণে বুঝবেন সন্তান অবসাদে ভুগছে

মানসিক অবসাদ বা বিষণ্নতা বয়সের উপর নির্ভর করে না। শিশু-কিশোরাও বিষণ্নতায় ভুগতে পারে। আপনার সন্তান হয়তো তার বিষণ্নতার বিষয়টি বোঝাতে বা প্রকাশ করতে পারছে না। শিশু-কিশোরদের বিষণ্নতার ১৩টি লক্ষণ নিয়ে দুই পর্বের প্রতিবেদনের আজ থাকছে প্রথম পর্ব। আপনার সন্তানের মধ্যে এসব লক্ষণ দেখলে শিশুবিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলুন।

আপনার সন্তানের রেজাল্ট খারাপ হওয়া: শিশু অবস্থায় আপনার সন্তানের ভেতর বিষণ্নতা ঢুকে গেলে কোনো বিষয়ে যথাযথ মনোযোগ দেওয়া তার পক্ষে কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। যার ফলে আপনার সন্তান তার টিচারের কথা শুনে না এবং স্কুলের হোমওয়ার্ক ঠিকমতো করতে পারে না। আপনার সন্তান যথেষ্ট চৌকষ হওয়া সত্ত্বেও যদি হুট করে রেজাল্ট খারাপ করতে শুরু করে, বিষয়টি খতিয়ে দেখুন। শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক গবেষক জন ওয়াকাপ এ বিষয়ে বলেন, ‘অনেক মা-বাবা আমার কাছে তাদের সন্তানের সমস্যা নিয়ে আসেন এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, দিনে দিনে তাদের সন্তানের মনোযোগ এবং পারিপার্শ্বিক বিভিন্ন বিষয়ে ধারণক্ষমতা কমে যাচ্ছে। তাদের চেহারায় কোনো ফ্যাকাশেভাব না পাওয়া গেলেও তারা নিজেদের সম্পর্কে অনিশ্চিত হয়ে পড়ে এবং একই কাজ বারবার করে। ব্যাপারটা অনেকটা এমন যে, তাদের মস্তিষ্ক যেন ঠিকঠাক কাজ করছে না।’

আপনার সন্তান ঘুমানো সত্ত্বেও ক্লান্ত থাকে: কিশোর বয়সীরা দেরি করে ঘুমানোর জন্য পরিচিত, তবে ঘুমের অভ্যাসে অস্বাভাবিক পরিবর্তন অবসাদের লক্ষণগুলোর মধ্যে একটি হতে পারে। বিষন্নতায় ভোগার কারণে কিছু শিশু সারা বিকাল ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে কাটাতে পারে অথবা তাদের অনিয়মিত ঘুমের অভ্যাস তৈরি হতে পারে। আসলে তাদের ঠিকঠাক ঘুম হয়না যার কারণে তারা সবসময়ই ক্লান্ত থাকে। এ বিষয়ে মনোবিজ্ঞানী লিন সিকুয়েল্যান্ড বলেন, ‘এরকম অবসাদ আপনার সন্তানের শিক্ষা এবং সামাজিক জীবন ব্যাহত করতে পারে। অনেকসময় তারা তাদের ক্লান্তির কথা নিজেই বলে ফেলে। না বললেও তাদের অবসাদ সহজেই প্রকট হয়ে দেখা দেয়। তাদের জীবন থেকে অনেক কিছুই হারিয়ে যাওয়া শুরু করে এবং তারা ঠিকমতো পড়াশোনা বা অন্যান্য কাজ করতে পারেনা কেননা তারা হরহামেশা ঘুম নিয়েই ব্যস্ত থাকে। এভাবে তাদের জীবনমান দুর্বল হয়ে যায়।’

আপনার সন্তান নিজেকে অযোগ্য মনে করে: আপনার সন্তান যদি কখনও বলে কেউ ‘আমাকে পছন্দ করে না’ বা ‘আমি অপদার্থ’, সতর্ক হোন। প্রয়োজনে একজন থেরাপিস্ট অথবা ডাক্তারের পরামর্শ নিন, যাতে আপনার সন্তানের মধ্যে এসব মিথ্যা হতাশাবাদ তৈরি না হয়। এ বিষয়ে মানসিক রোগবিশেষজ্ঞ ডেব্রা কিসেন বলেন, ‘এসকল ক্ষতিকর এবং বিষণ্নতামূলক চিন্তাভাবনা শনাক্ত করে সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা করলে ভালো ফলাফল পাওয়া সম্ভব। এসব সমস্যা সমাধান অনেকসময় বেশ চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়ায়। তবুও আপনার সন্তানের স্বার্থে যথাযথ একটি উপায় খুঁজে বের করুন।’

আপনার সন্তানের গ্রহণযোগ্যতা কমলেও সে কিছু মনে করে না: বিষণ্নতায় ভোগা মানুষ সাধারণত নিজেদেরকে সমাজ এবং অন্যদের থেকে আলাদা করে ফেলে। ড. ওয়াকাপ বলেন, ‘শিশুরা সাধারণত আপনাআপনিই একে অন্যের সঙ্গে মেশে তাদের কোনো পরিকল্পনা থাকে না। এ কারণে যে মিশতে পারে না, সে একা হয়ে যায়। বিষণ্নতায় ভোগা শিশু বন্ধুদের সঙ্গে মেশার চেষ্টা করলেও সেটা উপভোগ করে না। নিজেদের উপস্থিতিকে অপছন্দ করা শুরু করে এবং এভাবে সামাজিকভাবে একা হয়ে পড়ে।’

আপনার সন্তানের অযথা ধেয়ে আসা: অনেকসময় আপনার সন্তানের আবেগ এবং বিভিন্ন বিষয়ে উদ্বেগ শিশু অবস্থায়ই যথেষ্ট পরিপূর্ণতা লাভ করে ফেলে। এ কারণে সে বিষণ্নতায় ভুগছে কিনা ঠিকঠাক বোঝা যায় না। ড. সিকুয়েল্যান্ড বলেন, ‘অনেক শিশু আছে যারা শুধু বিষণ্নতায়ই ভোগে না বরং সবসময় তাদের মেজাজ খিটিখিটে হয়ে থাকে।’ কিশোর অবস্থায় আপনার সন্তানের আচরণ ক্ষণে ক্ষণে পরিবর্তিত হতে পারে। যেমন: সে স্কুল থেকে আসার পর হয়তো রাগ দেখাবে কিন্তু আবার খাবারের টেবিলে স্বাভাবিক আচরণ করবে। কিন্তু সে যদি সবসময় আপনার দিকে ধেয়ে আসে তাহলে বুঝবেন সে কোনো কারণে বিষণ্নতায় ভুগছে।

সুখকর কোনো স্মৃতি আপনার সন্তানকে আনন্দ দেয় না: কিছু শিশু আছে যারা তাদের অভ্যাসগভাবে অখুশি থাকে কিন্তু তারা বিষণ্নতায় ভোগেনা। কোনো সুখের বা আনন্দের স্মৃতিতে আপনার সন্তান কেমন আচরণ করে খেয়াল রাখুন। যারা এমনিতেই অখুশি থাকে তারা কোনো সুখকর স্মৃতির সম্মুখীন হলেই হুট করে খুশি হয়ে যাবে কিন্তু মানসিক অবসাদ বা বিষণ্নতায় ভোগা শিশুর ক্ষেত্রে এমনটা হবে না। ড. ওয়াকাপ এ বিষয়ে বলেন, ‘আমরা সাধারণত আনন্দের কোনো স্মৃতিতে খুশি হয়ে যাই, কিন্তু একজন বিষণ্ন মানুষ সেটাকে নেহায়েত অতীত বলে উড়িয়ে দেবে এবং তাতে কোনো ইতিবাচক সাড়া দেবে না। একইভাবে একজন বিষণ্নতায় ভোগা শিশু সুখকর কোনো ভবিষ্যৎ কল্পনা করতে ভয় পায় বা সে এরকম কিছু পছন্দ করে না।

(আগামী পর্বে সমাপ্য)

ঢাকা/ফিরোজ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়