ঢাকা     সোমবার   ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ||  মাঘ ২৬ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

কোরবানির গরু বা ছাগল কেনার পর করণীয়

ডা. মোস্তাফিজুর রহমান || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২০:০২, ৩ জুলাই ২০২২   আপডেট: ১০:২৬, ১০ জুলাই ২০২২
কোরবানির গরু বা ছাগল কেনার পর করণীয়

ঈদুল আজহার আর বেশিদিন বাকি নেই। আগামী রোববার (১০ জুলাই) পবিত্র ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ। ইতিমধ্যে দেশের অনেক জায়গায় পশুর হাট বসেছে। কোরবানির পশু কেনার পর থেকে নিয়ে কোরবানির দিন পর্যন্ত একটু যত্নের প্রয়োজন হয়। 

* বিশ্রাম: সাধারণত শহরের হাটে আসা গরুগুলো অনেক দূর থেকেও আসে। দীর্ঘ সময় তারা যানবাহনের মধ্যে অবস্থান করে। তার পরে আবার এখন প্রচন্ড গরমে পশুদের নাভিশ্বাস অবস্থা। তাই কেনার পরে বাসায় নিয়ে এসে প্রথমে তার দুই পায়ে জীবাণুনাশক দিয়ে ক্ষুরগুলো ধুয়ে দিতে হবে। এক্ষেত্রে পটাশিয়াম পারম্যাংগানেট বা পভিডন আয়োডিনের দ্রবণ ভালো কাজ করে। এরপর পরিষ্কার পানি সেবন করতে দিতে হবে। বিশ্রাম এবং পর্যাপ্ত খাবার সরবরাহ করতে হবে। ঠান্ডা পরিবেশে ফ্যান দিয়ে পশুকে বিশ্রামের যথাযথ ব্যবস্থা করতে হবে। এতে পশুর ধকল কাটাতে সুবিধা হয়। 

* গোসল করানো: কেনার পর গোসল করালে প্রাণীর ক্লান্তি দূর হয়ে প্রশান্তি আসে। তাছাড়া প্রতিদিন গোসল করানো ভালো। এতে করে পশমগুলো ভালো থাকে এবং খাবার গ্রহণে আগ্রহ ভালো থাকে। মাঝে মাঝে সাবান বা শ্যাম্পু ব্যবহার করে চামড়া ও পশমের ময়লা পরিস্কার করলে চামড়া ভালো মানের হয়ে থাকে। 

* বাসস্থান: গরু বা ছাগলের থাকার ব্যবস্থাটা ভালো রাখা জরুরি। অপরিষ্কার ও স্যাঁতস্যাঁতে জায়গায় রাখলে নানা সমস্যা হতে পারে। রাতের বেলায় মশার হাত থেকে রক্ষার জন্য মশারি বা মশার কয়েল দিতে হবে। কয়েল দিলে সতর্কতার সঙ্গে রাখতে হবে। শহরে পশুর বাসস্থানের সমস্যা বেশি হয়, তাই সবদিক বিবেচনায় যথাযথ জায়গা দেখে পশুকে রাখার বন্দোবস্ত করতে হবে। 

* খাবার প্রদান: বাজার থেকে কেনা গরু বা ছাগলের প্রথম যে সমস্যাটা সবাই বলে থাকেন, তা হলো খাবার গ্রহণে অনীহা। এর কয়েকটা কারণ হতে পারে- নতুন পরিবেশে খাপ খাওয়ানো এবং তার পূর্বের খাদ্যাভ্যাস না জানা। এক্ষেত্রে সাধারণভাবে পছন্দ করে এমন খাবারগুলো অল্প অল্প করে দিয়ে অভ্যাস করতে হয়। পরিষ্কার পানি, গমের ভুষি, সরিষায় খৈল এবং চালের গুড়া দেয়া যায়। ছাগলের ক্ষেত্রে অল্প পরিমাণে ভাত, কাঠালের পাতা, চালের গুড়া ও গম ভাঙা দেয়া যেতে পারে। না হলে কিছু রুচিবর্ধক দেয়া যাবে। বর্তমানের ভালো কোম্পানির রেডি ফিড প্রায় সকল পশু ভালোভাবে খেয়ে থাকে। তাই দৈহিক ওজনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে  ভালো কোম্পানির ফিড খাওয়ানো যেতে পারে।

* অসুস্থ হলে চিকিৎসা করা: বাজার থেকে আনার পর কোনো সমস্যা দেখা দিলে ভেটেরিনারি সার্জন বা রেজিস্টার্ড ভেটেরিনারি প্র্যাকটিশনের পরামর্শ নিতে পারেন। তবে কেনার আগেই সন্দেহ থাকলে ভালোভাবে পরামর্শ নিয়ে কিনা ভালো।

* আলাদা জায়গায় রাখা: গরু ও ছাগলের আলাদা আলাদা থাকার ব্যবস্থা করতে হবে। এক্ষেত্রে খাদ্য গ্রহণ ভালো থাকে। জায়গার স্বল্পতা থাকলে পর্দা দিয়ে আলাদা রাখার ব্যবস্থা করা ভালো৷

* পচা ও বাসি খাবার দেয়া থেকে বিরত থাকা: পচা ও বাসি খাবার সরবরাহ করলে গরু বা ছাগলের পেট ফাঁপা রোগ হতে পারে। যা আপনাকে দুশ্চিন্তায় ফেলে দিতে পারে। তাই পরিষ্কার ও টাকটা খাবার এবং বিশুদ্ধ পরিষ্কার পানি খেতে দিতে হবে। খাদ্যজনিত সমস্যা গরমে খুব বেশি হয় তাই এ ব্যাপারে সর্তক থাকতে হবে।

লেখক: জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।

/ফিরোজ/

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়