হৃতিক রোশনের ফিটনেসের গোপন সূত্র
লাইফস্টাইল ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম
বলিউড তারকা হৃতিক রোশন মনে করেন ‘চোখের ক্ষুধা সবচেয়ে বড় ক্ষুধা’। সম্প্রতি নিজের খাওয়াদাওয়ার এই অভিনব কৌশলের কথা প্রকাশ্যে এনেছেন হৃতিক। ইনস্টাগ্রামে নিজের খাবারের থালার ছবি পোস্ট করে অভিনেতা লিখেছেন, “কম খাও, কিন্তু থালাটা দারুণভাবে সাজাও।”
তার উদ্দেশ্য একটাই— চোখকে বোঝানো যেন পেটে প্রচুর খাবার যাচ্ছে, যদিও বাস্তবে পরিমাণটা খুবই সংযত।
হৃতিকের খাবারের থালাটি সত্যিই দেখার মতো। সেখানে রয়েছে সবুজ রঙের মশলাদার গ্রেভিতে ঢাকা মুরগির একটি পদ। তার চারপাশে অল্প অল্প করে সাজানো নানা রকম সবজি— গাজর, টমেটো, ব্রোকোলি, বেল পিপার, ক্যাপসিকাম, বিনস, জুকিনি, ব্রাসেলস স্প্রাউট, কুমড়ো আর ঢেঁড়স ভাজা। থালার মাঝখানে রয়েছে দুই টুকরো গোল গোল আলু ভাজা— সাধারণ আলু না রাঙা আলু, তা এক নজরে বোঝার উপায় নেই।
এ ছাড়া সামান্য তেল ও মশলায় নেড়ে নেওয়া সেদ্ধ মুগ ডাল, সঙ্গে একটি কলা এবং বিটের রায়তাও দেখা যাচ্ছে।
পুরো থালার দিকে তাকালে মনে হবে যেন ছোটখাটো একটি বুফে। অথচ প্রতিটি খাবারই রয়েছে খুব অল্প পরিমাণে। এই বৈচিত্র্যই চোখকে তৃপ্ত করে, আর মস্তিষ্ক ধরে নেয়— যথেষ্ট খাওয়া হয়ে গেছে। আসলে এটি পরিমিত ভোজনের এক চতুর মনস্তাত্ত্বিক কৌশল।
ডায়েট ভাঙার প্রথম ধাক্কাটাই আসে খাওয়ার ইচ্ছের কাছ থেকে। সারা দিন মিষ্টি না খেয়ে থাকা গেল, কিন্তু রাতে ডাইনিং টেবিলে রাখা মিষ্টির প্যাকেট দেখেই নিজেকে আর সামলানো গেল না— এমন অভিজ্ঞতা প্রায় সবারই আছে। কিংবা পেট ভরা থাকা সত্ত্বেও চোখের সামনে সাজানো সুস্বাদু খাবার দেখেই আবার খেতে ইচ্ছে করে।
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাও বলছে, ‘‘খাওয়ার ইচ্ছার বড় অংশটাই মানসিক। মস্তিষ্ক সিদ্ধান্ত নেয় চোখে দেখা ও কানে শোনার ভিত্তিতে।’’ সেই মনস্তত্ত্বই কাজে লাগিয়েছেন হৃতিক রোশন।
ডায়েট মানতে চাইলে একটু বুদ্ধি খাটানোই সবচেয়ে কার্যকর উপায়— হৃতিক রোশনের থালাই তার প্রমাণ।
ঢাকা/লিপি