ইফতারে দই–চিড়া খেলে শরীরে দ্রুত যে পরিবর্তন ঘটে
লাইফস্টাইল ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম
ছবি: সংগৃহীত
ইফতারি মানেই যেন ভাজাপোড়া খাবারের বাহার। কিন্তু অতিরিক্ত তেল–মশলাযুক্ত খাবার শরীরের জন্য ক্ষতিকর। তাই বিশেষজ্ঞরা ইফতারে হালকা, পুষ্টিকর ও সহজপাচ্য খাবার গ্রহণের পরামর্শ দেন। সেই বিবেচনায় দই–চিড়া হতে পারে একটি আদর্শ ও স্বাস্থ্যকর ইফতারি।
দ্রুত শক্তি পাওয়া যায়
সারা দিন রোজা রাখার পর শরীরের প্রয়োজন দ্রুত শক্তি।চিড়া থেকে পাওয়া যায় প্রয়োজনীয় শর্করা, যা দ্রুত শক্তি জোগায়। দই তৈরি হয় দুধ থেকে, তাই এতে আছে আমিষ (প্রোটিন) ও নানা গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান।অর্থাৎ দই–চিড়া একই সঙ্গে শক্তি ও পুষ্টির জোগান দেয়।
ক্যালরি কম, তৃপ্তি বেশি
দই–চিড়া খেলে দ্রুত শক্তি মিললেও এতে ক্যালরি তুলনামূলক কম। চিড়া খেলে সহজে ক্ষুধা লাগে না। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।রোজা রেখেও যাদের ওজন কমে না, তাদের জন্য এটি ভালো বিকল্প।
হজমে উপকারী
আমাদের অন্ত্রে অসংখ্য উপকারী ব্যাকটেরিয়া থাকে, যা হজমে সাহায্য করে।দই একটি প্রোবায়োটিক খাবার—এতে রয়েছে উপকারী ব্যাকটেরিয়া। দই খেলে অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো থাকে। দই–চিড়া সহজপাচ্য এবং বদহজম কমাতে সহায়ক। দুধজাত খাবার হিসেবে দই কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধেও সাহায্য করে। সহজভাবে বলতে গেলে, দই পেট ঠান্ডা রাখে ও আরাম দেয়।
কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে সাহায্য করে
লাল চিড়ায় থাকে প্রচুর আঁশ (ফাইবার)। কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে সাহায্য করে। দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে। রক্তের খারাপ চর্বি কমাতে সহায়ক। রক্তের সুগার ধীরে ধীরে বাড়ায় এবং স্থিতিশীল রাখে। এই সুবিধা শুধু ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য নয়—সবার জন্যই উপকারী।
তবে সাদা চিড়ায় আঁশ কম থাকে। তাই বেশি উপকার পেতে চাইলে লাল চিড়া বেছে নেওয়াই ভালো।
শরীর দ্রুত চাঙা হয়
সারা দিনের কর্মব্যস্ততায় শরীরে স্বাভাবিক ক্ষয় হয়। প্রাণিজ উৎসের আমিষ (যেমন দইয়ে থাকা প্রোটিন) দেহের ক্ষয়পূরণে সহায়তা করে। ইফতারে দই–চিড়া খেলে শরীর দ্রুত চাঙা হয়। রাতের ইবাদত বা কাজের জন্য শক্তি ফিরে পাওয়া সহজ হয়।
দই–চিড়া খেলে ভাজাপোড়া খাবারের প্রতি ঝোঁক কমে।এতে অতিরিক্ত চিনি বা গুড় যোগ না করাই ভালো। চিড়া ভেজানোর সময় সামান্য লবণ দিলেই স্বাদ ভালো লাগবে। চাইলে কলা বা অন্যান্য ফল যোগ করে পুষ্টিগুণ ও স্বাদ বাড়ানো যায়।
ঢাকা/লিপি