Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     রোববার   ১৬ মে ২০২১ ||  জ্যৈষ্ঠ ২ ১৪২৮ ||  ০৩ শাওয়াল ১৪৪২

‘৭ মার্চ আমি ইতিহাস তৈরি হতে দেখেছি’

নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৯:২৮, ৭ মার্চ ২০২১   আপডেট: ১১:৩৪, ৭ মার্চ ২০২১
‘৭ মার্চ আমি ইতিহাস তৈরি হতে দেখেছি’

আমাদের সেই সময়ের আন্দোলনের মূল প্রেরণা ছিল ৭ মার্চে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ। পরবর্তী পর্যায়ে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন এই ভাষণ যখন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র, আকাশবাণী কলকাতায় শুনতাম তখন দ্বিগুণ সাহসী হয়ে উঠতাম। 

বঙ্গবন্ধুর কণ্ঠস্বরে জাদু আছে! সেই ভাষণের প্রতিটি বাক্যে রয়েছে ভিন্ন চেতনা এবং বোধ, যা আমাদের মধ্যে সঞ্চারিত হতো। 

সেদিন রেসকোর্স ময়দানে (সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) আমরা বঙ্গবন্ধুকে সামনে থেকে বক্তৃতা দিতে দেখেছি। ওই দিন, ওই ক্ষণ, ওই ১৯ মিনিট আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়। শুধু আমার নয়, সেদিন আমরা যারা সেখানে উপস্থিত ছিলাম আমরা প্রত্যেকে সেদিন একটি ইতিহাস তৈরি হতে দেখেছি। এ দৃশ্য আর দেখা যাবে না- এত মানুষ! ওভাবে দাঁড়ানো একজন সুপুরুষ; কী সম্মোহনী শক্তি তাঁর! তিনি একজন বাঙালি- এ অনেক বড় বিস্ময়!  

বাঙালির হিরো খুব কম। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু মহানায়ক ছিলেন। কিন্তু তিনি তাঁর কাজ সম্পন্ন করে যেতে পারেননি। বঙ্গবন্ধু তাঁর কাজ সম্পন্ন করতে পেরেছেন। কিন্তু এর পরই ঘাতকের হাতে তিনি নিহত হয়েছেন। আমরা যাকে বলি ‘শহীদ’ হয়েছেন। কিন্তু তার আগে বাঙালির জন্য একটি রাষ্ট্র তিনি উপহার দিয়ে গেছেন। নিজস্ব রাষ্ট্র, স্বাধীন একটি দেশ- যা বাঙালির আজন্ম লালিত স্বপ্ন ছিল। সেই স্বপ্ন পূরণ করে গিয়েছেন বঙ্গবন্ধু। বাঙালির দেশ ছিল, কিন্তু রাষ্ট্র ছিল না। আবার সেই দেশটি পরাধীন ছিল। স্বাধীন রাষ্ট্রের স্থপতি বঙ্গবন্ধু। এবং এই ঘটনাবহুল সময়ে ৭ মার্চ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। এদিন পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ বক্তব্য বঙ্গবন্ধুর মুখ থেকে শুনেছিলাম। এটি এখন পৃথিবীর ইতিহাসে অন্যতম শ্রেষ্ঠ বক্তব্য হিসেবে সমাদৃত।

তুলনামূলক আলোচনায় আমরা এখন বলতে পারি- সেই গ্রিক আমলে স্পার্টা যুদ্ধে এক বাগ্মী ছিলেন। তাঁর আহ্বানে শত শত তরুণ যুদ্ধ করতে গিয়ে জীবন বিসর্জন দিয়েছে। আব্রাহাম লিঙ্কনের বিষয়টিও বলা যায়। তাঁর বক্তৃতায় বদলে গিয়েছিল মানব ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ চেতনা। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছিল, সাদা-কালো বলতে  কেউ নেই। বিশ্ববাসীকে জাতিগত হিংসা থেকে মুক্ত করার অমর বাণী তিনি শুনিয়েছিলেন।  

অন্যদিকে বঙ্গবন্ধু শুনিয়েছেন একটি রাষ্ট্রের উদ্ভবের মন্ত্র। একটি জাতির স্বপ্নপূরণ হয়েছে সেই মন্ত্রবলে। বিশ্ব মানচিত্রের কাঠামো বদলে গেছে। সেখানে নতুন একটি রাষ্ট্রের নাম যুক্ত হয়েছে। একটি মাত্র বক্তৃতায় এর সবগুলো সম্ভাবনা নিহিত ছিল, আর বাঙালি সেই সম্ভাবনাটাই কাজে লাগিয়ে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে দেশ স্বাধীন করেছে। 

শ্রুতিলিখন: আমিনুল ইসলাম শান্ত   
 

ঢাকা/তারা

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়