আজ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন
নিউজ ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম
আজ ১৭ মার্চ—জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দিন। দিনটি একই সঙ্গে জাতীয় শিশু দিবস হিসেবেও পালিত হয়। ১৯২০ সালের এই দিনে তিনি তৎকালীন ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমার টুঙ্গিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন বঙ্গবন্ধু।
শৈশবে ‘খোকা’ নামে পরিচিত সেই শিশুটি ধীরে ধীরে হয়ে ওঠেন বাঙালির মুক্তির অগ্রদূত। রাজনীতিতে তার হাতেখড়ি ঘটে ব্রিটিশ শাসনামলেই। অসীম সাহস, প্রখর রাজনৈতিক দূরদর্শিতা এবং জনগণের প্রতি গভীর ভালোবাসা তাকে এনে দেয় অবিসংবাদিত নেতৃত্বের মর্যাদা। নির্যাতিত ও বঞ্চিত বাঙালির অধিকার আদায়ে তিনি আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন।
গোপালগঞ্জ মিশন স্কুলে পড়ার সময়ই প্রতিবাদী মনোভাবের কারণে তাকে প্রথম কারাবরণ করতে হয়। পরবর্তীতে কলকাতার ইসলামিয়া কলেজে অধ্যয়নকালে তিনি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও আবুল হাশিম-এর সান্নিধ্যে এসে ছাত্র রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। ১৯৪৬ সালে ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়া এবং ১৯৪৮ সালে পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠা তার রাজনৈতিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
১৯৬৬ সালের ঐতিহাসিক ছয় দফা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭০ সালের নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় তাকে বাঙালির একমাত্র মুখপাত্রে পরিণত করে। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে তার ঐতিহাসিক ভাষণ সমগ্র জাতিকে স্বাধীনতার চেতনায় উজ্জীবিত করে। তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শেষে ১৬ ডিসেম্বর বিজয় অর্জিত হয়। তখনো পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি ছিলেন বঙ্গবন্ধু। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি দেশে ফিরে যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ পুনর্গঠনে আত্মনিয়োগ করেন।
কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের নির্মম ১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ড-এ সপরিবারে নিহত হওয়ার মাধ্যমে তার স্বপ্নযাত্রা থেমে যায়। বাঙালির মুক্তির সংগ্রামে তিনি জীবনের দীর্ঘ সময় কারাগারে কাটিয়েছেন—মোট ৪,৬৮২ দিন, যা তার আত্মত্যাগের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
ব্যক্তিগত জীবনে বঙ্গবন্ধু জন্মদিন উদযাপনে আড়ম্বর পছন্দ করতেন না। তিনি পরিবারকে নিয়ে সাদামাটা পরিবেশে দিনটি কাটাতেন। তবে তার সহযোদ্ধা ও নেতাকর্মীরা নানা কর্মসূচির মাধ্যমে দিনটি পালন করতেন। আজও গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে বাঙালি জাতি স্মরণ করে এই মহান নেতাকে।
ঢাকা/লিপি