Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     শুক্রবার   ১৮ জুন ২০২১ ||  আষাঢ় ৬ ১৪২৮ ||  ০৬ জিলক্বদ ১৪৪২

‘মানুষ স্বাস্থ্যবিধি না মেনে সুইসাইডের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে’

সচিবালয় প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৮:৩২, ১০ মে ২০২১   আপডেট: ১৮:৩৪, ১০ মে ২০২১
‘মানুষ স্বাস্থ্যবিধি না মেনে সুইসাইডের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে’

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক (ফাইল ফটো)

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, ‘করোনার ভয়াবহ সময়ে ঈদ উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষ স্বাস্থ্যবিধি না মেনে সুইসাইডের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।’

সোমবার (১০ মে) দুপুরে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। দেশের চারটি সীমান্তবর্তী এলাকার বিভাগীয় পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ‘ভারতীয় নতুন ভ্যারিয়েন্ট মোকাবিলায় করণীয়’ শীর্ষক এ মতবিনিময় সভা করেন স্বাস্থ‌্যমন্ত্রী।

স্বাস্থ‌্যমন্ত্রী বলেন, ‘ঈদে ঘরমুখো মানুষ লকডাউনের সামান্য শিথিলতার সুযোগ নিয়ে দল বেঁধে গাদাগাদি করে স্বাস্থ্যবিধির কোনোরকম তোয়াক্কা না করে যেভাবে ফেরি পারাপারসহ এক জেলা থেকে অন্য জেলায় যাতায়াত করছে তা একেবারে সুইসাইডের সিদ্ধান্তের শামিল। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে নতুন ভ্যারিয়েন্টের কারণে প্রতিদিন হাজারো মানুষ মারা যাচ্ছে। ভারতীয় নতুন ভ্যারিয়েন্টটি এখন নেপালে ছড়িয়ে গিয়ে সেখানে ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি করেছে। এই ভ্যারিয়েন্ট এখন আমাদের দেশেও চলে এসেছে। এরকম ক্রিটিক‌্যাল সময়ে এই ভাইরাস দেহে নিয়ে মানুষ যদি গ্রামে চলে যায়, তাহলে গ্রামে থাকা পরিবার-পরিজনসহ গ্রামবাসী গণহারে আক্রান্ত হতে পারে। শহরাঞ্চলেও মানুষ এখন বেপরোয়া চলাফেরা করছে। ঢাকাসহ দেশের বড় বড় বিভাগীয় শহরে শপিংমলসহ বিভিন্ন যানবাহনে গাদাগাদি করে মানুষ চলাফেরা করছে। এভাবে চলতে দিলে ঈদের পর দেশে ভারত-নেপালের মতো ভয়াবহ অবস্থা সৃষ্টি হতে পারে। এ কারণে প্রতিটি বর্ডার এলাকার দায়িত্বরত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কঠোরভাবে কাজ করতে হবে। বর্ডার এলাকার ভারত যাতায়াতকারী ব্যক্তির পরিবারহ সব মানুষকে দ্রুত ও বাধ্যতামূলকভাবে কোভিড পরীক্ষার আওতায় আনতে হবে। বর্ডার এলাকার কোনো যানবাহন নিজ জেলার বাইরে মুভমেন্ট যেন করতে না পারে, সে ব্যাপারে জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে। দেশের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এক্ষেত্রে প্রয়োজনে আরও কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী রংপুর, সিলেট, খুলনা ও চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি, বর্ডার এলাকা সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জনসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে সার্বিক নির্দেশনা দেন ও তাদের মতামত শোনেন।

সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী গত ১৫ দিন বর্ডার এলাকায় কতজন মানুষ ভারতে যাতায়াত করেছে তার তালিকা জানতে চান।
খুলনা বিভাগীয় কমিশনার জানান, খুলনা বিভাগে বর্তমানে ২ হাজার ৭০০ জন ভারত যাতায়াতকারী ব্যক্তি হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন। তাদের সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখা হয়েছে। ভারত থেকে বন্দর দিয়ে প্রবেশ করা ট্রাক ড্রাইভার, হেল্পারদের কোনোভাবেই মুভমেন্ট করতে দেওয়া হচ্ছে না।

স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব লোকমান হোসেন মিয়ার সভাপতিত্বে আলোচনায় আরও অংশ নেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ‌্যাপক এবিএম খুরশিদ আলম, এডিজি (পরিকল্পনা) মীরজাদি সেব্রিনা ফ্লোরা, খুলনা, চট্টগ্রাম, রংপুর ও সিলেট বিভাগের রেঞ্জ ডিআইজি, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জনসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কর্মকর্তারা।

ঢাকা/আসাদ/রফিক

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়