ঢাকা     মঙ্গলবার   ০৭ এপ্রিল ২০২৬ ||  চৈত্র ২৪ ১৪৩২ || ১৮ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

সাগর-রুনি হত্যার প্রতিবেদন দ্রুত দেওয়ার আশ্বাস স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২১:৪৮, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩  
সাগর-রুনি হত্যার প্রতিবেদন দ্রুত দেওয়ার আশ্বাস স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যার তদন্ত প্রতিবেদন গত ১১ বছরে ৯৫ বার তারিখ দিয়েও আদালতে জমা দিতে পারেনি তদন্ত সংস্থা। এবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল আশ্বাস দিয়েছেন, দ্রুতই এই প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।  

বুধবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) নেতারা স্মারকলিপি দিতে গেলে মন্ত্রী এই আশ্বাস দেন।

সাংবাদিকদের আশ্বস্ত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রতিবেদন দ্রুতই জমা দেওয়া হবে।’

সাংবাদিকদের দাবি-দাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তদন্তকারী সংস্থা এই (সাগর-রুনি) হত্যার উপযুক্ত তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। উপযুক্ত তথ্য-প্রমাণ ছাড়া একটি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হলে তা নিয়ে বিশ্বাস-অবিশ্বাস দেখা দিতে পারে। আমি আশা করছি, অতি দ্রুততম সময়ের মধ্যেই তদন্তকারী সংস্থা প্রতিবেদনটি প্রকাশ করতে পারবে।

ডিইউজের সভাপতি সোহেল হায়দার চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক আকতার হোসেনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে। সেখানে সংগঠনের পক্ষ থেকে চার দফা দাবি জানিয়ে স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

এ সময় স্মারকলিপির বিষয়বস্তু তুলে ধরেন ডিইউজের সাধারণ সম্পাদক আকতার হোসেন। ডিইউজের সভাপতি সোহেল হায়দার চৌধুরী সারাদেশে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাধা ও নানা সমস্যার কথা তুলে ধরেন।

স্মারকলিপি প্রদানকালে আরও উপস্থিত ছিলেন ডিইউজের সহ-সভাপতি মানিক লাল ঘোষ, যুগ্ম সম্পাদক খায়রুল আলম, কোষাধ্যক্ষ আশরাফুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক এ জিহাদুর রহমান জিহাদ, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক রাজু হামিদ, দফতর সম্পাদক আমানউল্লাহ আমান, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক সাকিলা পারভীন, নির্বাহী পরিষদ সদস্য মহিউদ্দিন পলাশ, আনোয়ার হোসেন।

এর আগে বুধবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সাগর-রুনিসহ সকল সাংবাদিক হত্যার বিচার দাবিতে প্রতীকী অনশন কর্মসূচি পালন করে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন।

২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি নৃশংসভাবে খুন হন। সাগর সরওয়ার মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক ছিলেন। মেহেরুন রুনি ছিলেন এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক। হত্যাকাণ্ডের সময় বাসায় ছিল তাদের সাড়ে চার বছরের ছেলে মাহির সরওয়ার মেঘ।

সাগর-রুনি হত্যার ঘটনায় রুনির ভাই নওশের আলম বাদী হয়ে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন। প্রথমে এই মামলা তদন্ত করছিল শেরেবাংলা নগর থানা-পুলিশ। চার দিন পর মামলার তদন্তভার ঢাকা মহানগর পুলিশের ডিএমপির গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়।

তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার ৬২ দিনের মাথায় ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল হাইকোর্টে ব্যর্থতা স্বীকার করে ডিবি। এরপর আদালত র‍্যাবকে মামলা তদন্তের নির্দেশ দেন। তখন থেকে মামলাটির তদন্ত করছে র‍্যাব। গত ৪ জানুয়ারি র‌্যাব ৯৫ বারের মতো আদালতে সময় চায়। আগামী ৫ মার্চ আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবেদন জমা দেওয়ার দিন ধার্য আছে।

নঈমুদ্দীন/এনএইচ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়