ঢাকা     মঙ্গলবার   ০৭ এপ্রিল ২০২৬ ||  চৈত্র ২৪ ১৪৩২ || ১৮ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

হরমুজ প্রণালি নিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ভোট আজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১০:৪২, ৭ এপ্রিল ২০২৬   আপডেট: ১০:৫০, ৭ এপ্রিল ২০২৬
হরমুজ প্রণালি নিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ভোট আজ

ফাইল ফটো

হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের সুরক্ষায় একটি প্রস্তাবের ওপর আজ মঙ্গলবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ভোটাভুটি হতে পারে। তবে ভেটো ক্ষমতাধারী চীনের বিরোধিতার মুখে ‘সামরিক শক্তি ব্যবহারের’ মতো কঠোর শব্দগুলো বাদ দিয়ে খসড়াটি অনেকটাই নমনীয় করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কূটনীতিকেরা। খরব এনডিটিভির।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর থেকে তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। এর ফলে শুরু হওয়া এই সংঘাত গত পাঁচ সপ্তাহ ধরে চলছে এবং এর জেরে তেহরান বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট ‘হরমুজ প্রণালি’ প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে।

আরো পড়ুন:

নিরাপত্তা পরিষদের বর্তমান সভাপতি দেশ বাহরাইন চীন ও রাশিয়ার বিরোধিতা কাটিয়ে একটি প্রস্তাব পাস করার জন্য বেশ কয়েকবার খসড়া পরিবর্তন করেছে।

আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের দেখা সর্বশেষ খসড়াটিতে সামরিক শক্তি ব্যবহারের স্পষ্ট অনুমোদনটি বাদ দেওয়া হয়েছে। পরিবর্তে এতে বলা হয়েছে- হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো নিজেদের মধ্যে সমন্বয় করতে পারবে। বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নিরাপত্তা দিয়ে পার করে দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচলে যেকোনো ধরনের বাধা বা হস্তক্ষেপ প্রতিহত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

কূটনীতিকরা বলছেন, প্রস্তাবটি নমনীয় করায় এটি পাস হওয়ার সম্ভাবনা বেড়েছে, তবে এটি শেষ পর্যন্ত সফল হবে কি না তা এখনও স্পষ্ট নয়। প্রস্তাব পাসের জন্য অন্তত ৯টি ভোটের প্রয়োজন এবং পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য- যুক্তরাজ্য, চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র- কারোরই ‘ভেটো’ দেওয়া চলবে না।

বাহরাইন, যাকে অন্যান্য আরব উপসাগরীয় দেশ এবং ওয়াশিংটন সমর্থন করছে, গত বৃহস্পতিবার একটি খসড়া পেশ করেছিল যাতে বাণিজ্যিক জাহাজ রক্ষায় ‘প্রয়োজনীয় সকল রক্ষণাত্মক উপায়’ ব্যবহারের অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু শুক্রবার ও শনিবারের ভোটাভুটি স্থগিত করা হয়।

গত বৃহস্পতিবার চীন ‘সামরিক শক্তি ব্যবহারের’ অনুমোদনের বিরোধিতা করে বলেছিল, এটি হবে ‘বেআইনি ও নির্বিচার শক্তি প্রয়োগকে বৈধতা দেওয়া, যা পরিস্থিতিকে আরও অবনতির দিকে নিয়ে যাবে এবং মারাত্মক পরিণতির সৃষ্টি করবে’।

সোমবার ইরান জানিয়েছে, তারা যুদ্ধের একটি স্থায়ী অবসান চায় এবং প্রণালিটি পুনরায় খুলে দেওয়ার চাপের মুখে নতিস্বীকার করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে দিয়েছেন যে, বুধবারের মধ্যে ইরান যদি চুক্তিতে না আসে তাহলে দেশটিকে ‘গুঁড়িয়ে দেওয়া’ অভিযান শুরু করবে মার্কিন বাহিনী।

গত রবিবার চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার পর জানিয়েছেন, চীন নিরাপত্তা পরিষদে রাশিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে ও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি শান্ত করতে কাজ করতে ইচ্ছুক। ওয়াং ই আরও বলেন, এই সংকটের স্থায়ী সমাধান হলো যত দ্রুত সম্ভব যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা। 

ঢাকা/ফিরোজ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়