ঢাকা     মঙ্গলবার   ০৭ এপ্রিল ২০২৬ ||  চৈত্র ২৪ ১৪৩২ || ১৮ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

ট্রাম্পের পরিকল্পনাকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ ও ‘জাতির কলঙ্ক’ বলছেন মার্কিন সিনেটররা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৩:১৭, ৭ এপ্রিল ২০২৬   আপডেট: ১৩:৩০, ৭ এপ্রিল ২০২৬
ট্রাম্পের পরিকল্পনাকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ ও ‘জাতির কলঙ্ক’ বলছেন মার্কিন সিনেটররা

লোহিত সাগরে মার্কিন নৌবাহিনীর ইউএসএস হ্যারি এস ট্রুম্যান বিমানবাহী রণতরী থেকে একটি মার্কিন এফ/এ-১৮ সুপার হর্নেট যুদ্ধবিমান উড্ডয়ন করছে

ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও সেতুর মতো জনগুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামোতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হামলার হুমকির বিরোধিতা করা মার্কিন কংগ্রেসের সদস্যদের তালিকা ক্রমেই দীর্ঘ হচ্ছে।

মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) ডেমোক্র্যাটিক পার্টির আরও দুজন আইনপ্রণেতা এই হুমকিকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ ও মার্কিন বাহিনীর জন্য ‘কলঙ্কজনক’ বলে অভিহিত করেছেন। খবর আল-জাজিরার। 

আরো পড়ুন:

অ্যারিজোনার ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর মার্ক কেলি বলেছেন, ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র, সেতু এবং অন্যান্য অ-সামরিক স্থাপনায় আক্রমণ করার বিষয়ে প্রেসিডেন্টের হুমকি মার্কিন সামরিক বাহিনী এবং দেশের জন্য একটি ‘কলঙ্ক’ হয়ে থাকবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে তিনি বলেন, “বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং অন্যান্য অ-সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার হুমকি দেওয়া কোনো সাহসিকতা বা শক্তির পরিচয় নয়।”

কেলি, যিনি একজন সাবেক নাসার নভোচারী ও সাবেক নৌ-পাইলট, তিনি আরও যোগ করেন, “যদি এই কথাগুলো শেষ পর্যন্ত কোনো বৈধ সামরিক উদ্দেশ্য ছাড়াই বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করার আদেশে পরিণত হয়, তাহলে এটি কীভাবে সশস্ত্র সংঘাতের আইন লঙ্ঘন করবে না তা বোঝা কঠিন।”

তিনি বলেন, “আমেরিকা শক্তি, শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে সবচেয়ে ভালোভাবে নেতৃত্ব দেয়। কিন্তু বেসামরিক নাগরিকদের কষ্ট দেওয়ার জন্য দেওয়া অবৈধ আদেশ আমাদের সামরিক বাহিনী ও আমাদের দেশের ওপর একটি কালো দাগ হয়ে থাকবে।”

অন্যদিকে, সিনেট ফরেন রিলেশনস কমিটির সিনিয়র সদস্য ক্রিস মার্ফি ট্রাম্পের এই অবস্থানকে তার প্রেসিডেন্সি মেয়াদের মধ্যে ‘সবচেয়ে জঘন্য ও পৈশাচিক’ বলে বর্ণনা করেছেন। হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার আল্টিমেটাম দিয়ে ট্রাম্প যেভাবে ইরানের জ্বালানি খাত ও সেতুতে হামলার কথা বলেছেন, তাকে ‘গণ-যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন তিনি।

সিনেটর মার্ফি তার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রবন্ধে লিখেন, “ট্রাম্পের এই পরিকল্পনার ফলে হাজার হাজার নির্দোষ ইরানি নাগরিক প্রাণ হারাবেন, যারা ওই সব কলকারখানায় কাজ করেন কিংবা রাস্তাঘাট ব্যবহার করেন। এটি স্পষ্টতই একটি যুদ্ধাপরাধ।”

তিনি আরও যোগ করেন, “তার (ট্রাম্পের) চারপাশের মানুষ- যারা তাকে এসব করতে উৎসাহ দেয়- তাদের উচিত তাকে এই যুদ্ধাপরাধ করা থেকে বিরত রাখা। এবং তারা যেন এটি নিশ্চিত করে, সেজন্য আমাদের উচ্চস্বরে কথা বলা উচিত।”

ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ট্রাম্পের এই আক্রমণাত্মক অবস্থান অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বিরোধীদের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে কেবল অস্থিরতাই বাড়াবে না, বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্রের নৈতিক অবস্থানকেও ধূলিসাৎ করবে।

ঢাকা/ফিরোজ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়