ঢাকা     শনিবার   ১০ জানুয়ারি ২০২৬ ||  পৌষ ২৬ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

অনেক আগে থেকেই খালেদা জিয়ার ভক্ত ছিলাম: আসিফ নজরুল

বি‌শেষ প্রতি‌বেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৩:২১, ৯ জানুয়ারি ২০২৬  
অনেক আগে থেকেই খালেদা জিয়ার ভক্ত ছিলাম: আসিফ নজরুল

ফেসবুকে এই ছবিসহ লেখাটি পোস্ট করেন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।

“আমি বেগম খালেদা জিয়ার ভক্ত ছিলাম অনেক আগে থেকে। তিনি সাংবাদিক হিসেবে আমাকে পছন্দ করতেন। এক সময় একা‌ধিকবার সাক্ষাৎকার নি‌য়ে‌ছি তাঁর। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর উনার বিরুদ্ধে মিথ্যে মামলা, অপবাদ, হয়রানি ও নির্যাতন শুরু হলো। বেগম খালেদা জিয়া এর মধ্যেও অটল থাকলেন অসীম আত্মত্যাগ, সাহসিকতা আর দেশপ্রেম নিয়ে!”

বিএন‌পির চেয়ারপার্সন ও প্রয়াত সা‌বেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খা‌লেদা জিয়ার স্মৃ‌তিচারণ ক‌রে শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) দুপু‌রে নি‌জের ভে‌রিফাইড ফেসবুক পে‌জে আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল এসব কথা লেখেন। 

‌প্রয়াত বেগম জিয়ার স‌ঙ্গে নি‌জের স্মৃ‌তি তু‌লে ধ‌রে আসিফ নজরুল লে‌খেন, “বেগম খালেদা জিয়ার অসীম আত্মত্যাগ, সাহসিকতা আর দেশপ্রেমে আমি ম্যাডামকে প্রচণ্ড ভালোবাসতে আর শ্রদ্ধা করতে শুরু করলাম। শেখ হাসিনার ফ্যসিস্ট আমলে কোনদিন আমি এই শ্রদ্ধা আর সমর্থন প্রকাশে বিরত ছিলাম না। মীর্জা ফখরুল ভাই ছাড়া বিএনপির-ই কাউকে ম্যাডামের পক্ষে এতটা বলতে শুনিনি সেই পনের বছরে।”

তি‌নি লে‌খেন, “আমি বেগম খালেদা জিয়ার ভক্ত ছিলাম অনেক আগে থেকে। তিনি সাংবাদিক হিসেবে আমাকে পছন্দ করতেন। ১৯৮৮/৮৯ সালের কথা। বিএনপির অফিস ছিল তখন ধানমন্ডিতে। আমি উনার অফিসে বসে সাক্ষাৎকার নিচ্ছি। লিখিত প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার পর তিনি মুখোমুখি প্রশ্ন করার সুযোগ দিলেন সেদিন। বিএনপিতে তখন এসব দেখাশোনা করতেন ফজলুর রহমান পটল ভাই। মহাসচিব ছিলেন ব্যারিষ্টার আবদুস্ সালাম তালুকদার ভাই। ম্যাডামের রুমে আমি ঢুকলাম ছাত্রদল সভাপতি আসাদুজ্জামান রিপনকে সাথে নিয়ে। ম্যাডাম একটা বিরাট টেবিলের পেছনে বড়সড় চেয়ারে। সামনে টেবিল ঘিরে রাখা চেয়ারের একটাতে আমি, দূরের আরেকটাতে রিপন ভাই। লম্বালম্বি ঘরটার অন্যপ্রান্তে বেতের সোফাসেট। সেখানে বিএনপির সিনিয়র নেতারা বসে আছেন। 

‘ম্যাডামের লিখিত উত্তর বেশি আকর্ষণীয় মনে হলো না। সাক্ষাৎকার প্রাণবন্ত করতে আমি ম্যাডামকে চোখা একটা প্রশ্ন করলাম। তিনি একটু থমকে গেলেন। পেছন থেকে সাইফুর রহমান সাহেব বললেন, এটা কি ধরনের প্রশ্ন করলেন! আমি তখন খুব রাগী তরুণ ছিলাম। জনাব রহমানকে বললাম, আপনি কথা বলছেন কেন! আমি তো আপনার ইন্টারভিউ নিচ্ছি না! 

‘তিনি রেগে কিছু বলতে যাচ্ছিলেন। ম্যাডাম তাকে থামালেন। তারপর হাসিমুখে আমার প্রশ্নের উত্তর দিলেন। এরপরও চার/পাঁচবার উনার একান্ত সাক্ষাৎকার নিয়েছি। পিএইচডি শেষ করে দেশে ফেরার পর আমি কলামিষ্ট হলাম, টক-শোতে কথা বলা শুরু করলাম।”

আসিফ নজরুল আরো লে‌খেন, “আমি ম্যাডামকে প্রচণ্ড ভালোবাসতে আর শ্রদ্ধা করতে শুরু করলাম। শেখ হাসিনার ফ্যসিষ্ট আমলে কোনদিন আমি এই শ্রদ্ধা আর সমর্থন প্রকাশে বিরত ছিলাম না। মীর্জা ফখরুল ভাই ছাড়া বিএনপির-ই কাউকে ম্যাডামের পক্ষে এতোটা বলতে শুনিনি সেই পনের বছরে।”

তিনি লেখেন, “আল্লাহ্ আমাকে তার প্রতিদান দিয়েছেন। ম্যাডামকে শেষ বিদায় দেয়ার দিনে প্রায় সারাটা সময় ছিলাম উনার আর উনার পরিবারের আশেপাশে। উনার জন্য প্রথম দোয়াতে শরীক হয়েছি। উনাকে জড়িয়ে রাখা ছিল বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা। এই পতাকা সমুন্নত রাখার জন্য তিনি সারাজীবন বহু বঞ্চনা আর দুঃখ কষ্টের শিকার হয়েছেন। এই পতাকা উনার সন্তানের হাতে তুলে দেয়ার সৌভাগ্যও হলো আমারি। আল্লাহ্-র কাছে হাজারো শুকরিয়া।”

ঢাকা/নঈমুদ্দীন/এস

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়